artk
১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৪ জুন ২০১৭, ৮:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ছিনতাই বাড়ছে ঢাবি ক্যাম্পাসে, প্রশাসন উদাসীন

কবিরুল ইসলাম, ঢাবি সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৪১ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৬ জুন ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৫৫ ঘণ্টা, শনিবার ১৭ জুন ২০১৭


ছিনতাই বাড়ছে ঢাবি ক্যাম্পাসে, প্রশাসন উদাসীন - শিক্ষাঙ্গন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রিকশাযোগে শহীদ মিনারে যাচ্ছিলেন দেবরাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের কাছে যেতেই মোটরসাইকেল আরোহী দুজন রিকশা থেকে তার সঙ্গের জনের ব্যাগ ছিনতাই করে নেয়। দেবরাজ রিকশা থেকে নেমে মোটরসাইকেলের পেছনে দৌঁড় দেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

দেবরাজের মতো বহু ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের স্বীকার হচ্ছেন। এছাড়া অসংখ্য চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলে ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন। তারা চরম অসহায়ত্ববোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এম আমজাদ আলী নজরদারি বাড়ানো হবে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু কিছুতেই ছিনতাই বন্ধ হচ্ছে না। জানুয়ারি মাস হতে চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্তত ৫০টি চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইমরান ক্লাসে যাচ্ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সামনে আসলে এক দুর্বৃত্ত তাকে ছুরি দেখিয়ে প্রকাশ্য মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মনিরুজ্জামান মাসুদ বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সামনে ছিনতাইকারীর গুলিতে আহত হন। ওই সময় চার ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে বাধা পেয়ে ছিনতাইকারীরা তাকে গুলি করে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলের মাত্র কয়েক গজ দূরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে ছিল এক গাড়ি পুলিশ।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে দুটি ছিনতাই ও একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল ও শামসুন নাহার হলের কাছ থেকে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রিকশায় থাকা যাত্রীদের একটি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেন। সন্ধায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ইমরান আল আব্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে সাইকেল রেখে নামাজ পড়ছিলেন। কিন্তু নামাজ পড়ে এসে দেখেন সাইকেল নেই।

তিনি বলেন, “ছাত্রজীবনে টিউশনি করে বহু কষ্ট করে টাকা মিলিয়ে সাইকেল কিনেছিলাম। চোরে নেয়ার অনেক কষ্ট পেয়েছি।”

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কখনও থানায় অভিযোগ করেন আবার কখনও এসব করে কোনো লাভ না বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রী কার্জন হল সংলগ্ন তিন নেতার মাজারের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হন।
এই প্রতিবেদক তাকে থানায় ইনফর্ম করতে বললে তিনি বলেন, “থানায় অভিযোগ করলে আমার হারানো জিনিস ফিরে পাবো না। শুধুই ঝামেলা, এজন্য থানায় জানাবো না।”

চুরি ছিনতাইয়ে প্রশাসনের কোনো ভ্রক্ষেপ নেই অভিযোগ করেন কায়েস নামের এক ছাত্র। আলতাফ হেসেন নামের এক ছাত্র ক্যাম্পাসে বহিরাগতরাই এসব করেন অভিযোগ করে এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ক্যাম্পাসে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা শিকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এম আমজাদ আলী নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করছি। ২৪ ঘণ্টা একটা টিম চালু রাখা আছে। এর বেশি আমাদের পক্ষ থেকে করা সম্ভব নয়। আমরা পুলিশের সহযোগিতাও নিচ্ছি। তাদের চারটা গাড়ি আমাদের ক্যাম্পাসে থাকে। ভিসি স্যারের বাংলোর কাছে পুলিশ থাকে, মোটরসাইকেলে পুলিশ টহল দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির মোটরসাইকেল ঘুরে। ক্যাম্পাস অনেক বড় হওয়াই একেবারে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা টহল আরও বাড়িয়ে দেব।”

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান সম্প্রতিকালের ছিনতাইয়ের ঘটনা অবগত নন উল্লেখ করে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আজ থেকে আমরা সতর্ক থাকবো এবং বিশেষ ড্রাইভের ব্যবস্থা রাখবো।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/কেআই/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য