artk
১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ৪:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ঢাবিতে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

কবিরুল ইসলাম, ঢাবি সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯৩৯ ঘণ্টা, বুধবার ১৪ জুন ২০১৭


ঢাবিতে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা - শিক্ষাঙ্গন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে সব রকমের যানবাহন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলা-ফেরা করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে বড় গাড়ি এবং উচ্চগতিতে চলার নিয়ম নেই। কিন্তু সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রুটের বাস, ট্রাক, লেগুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তায় ঢুকে পড়ে। গাড়িগুলো উচ্চ গতিতে চলে। এতে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গত মঙ্গলবার ভোরে একটি প্রাইভেট কার বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের বেদির ওপর উঠে পড়ে। এতে ভাস্কর্যের বেষ্টনী ও র‌্যালিং ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো মানুষ হতাহত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটলে হতাহত হতে পারতো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এর কয়েকমাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সড়কে দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত হন।

এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাইরের যানবাহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলছেন, এটি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমাদের ক্যম্পাসটা রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। রাস্তা বন্ধ করে দিলে সমগ্র ঢাকা শহরে যানজট লেগে যাবে। এজন্য কিছু রাস্তা যেখানে এ ধরণের ঘটনা বেশি ঘটে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাস্তায় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে সবসময় যানজটের দৃশ্য পাওয়া যায়। শখানেক রিকশা রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রাইভেটকার, ট্যাক্সি আর সিএনজি অটেরিকশার জন্য পথচারীরা হাঁটতে পারেন না। এই যানজটের মধ্যেও মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কারগুলো উচ্চ গতিতে চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে প্রতিনিয়ত কার, মোটর সাইকেল রেসিং করতেও দেখা যায়। রাস্তার দু’পাশে নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড নেই।  শিক্ষার্থীদের এক পাশ হতে অন্য পাশে পার হতে বেগ পেতে হয়। থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে কথা হয় ফাতিহা মম নামে রোকেয়া হলের এক আবাসিক ছাত্রীর। তিনি বলেন, “অনেক সময় দ্রুত ক্লাসে যেতে হয়। হলের সামনের রাস্তায় গাড়িগুলো অনেক গতিতে চলে। এতে করে রাস্তা পার হতে দুর্ঘটনার ভয় করে।”

মাকসুদুল হাসান রাহুল নামের এক ছাত্র ঢাবির ভেতরে যানবহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কোনো অগ্রগতি নেই। ক্যাম্পাসের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকেই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিনিয়ত চলতে হয়।” ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি তুহিন কান্তি দাস দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে গতিসীমা নিধার্রণ সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানোর অনুরোধ জানান।

এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমদ বলেন, “আমরা যারা রাস্তায় চলাফেরা করি তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। রাস্তা ব্যবহারকারীদের নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থান করায় গাড়ি বন্ধ করা যায় না। তবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাদের সঙ্গে কথা বলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চগতিতে গাড়ি না চালানোর ব্যাপারে কথা বলবো।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য