artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আইরিশদের গুড়িয়ে বাংলাদেশের দুরন্ত জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯৫৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৫৫ ঘণ্টা, শনিবার ২০ মে ২০১৭


আইরিশদের গুড়িয়ে বাংলাদেশের দুরন্ত জয় - খেলা

প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত। দ্বিতীয় ম্যাচে আশা জাগিয়েও হার ৪ উইকেটে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে একটি জয়ের জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল টাইগার শিবির। সেই জয় ধরা দিল শুক্রবার ডাবলিনের মালাইহাড গ্রাউন্ডে।

ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আয়ারল্যান্ডকে এক প্রকার গুড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিগ্রেড। পাত্তাই পায়নি স্বাগতিক শিবির। বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। ৯ ওভারে দুই মেডেন, ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের কাটার স্পেশালিস্ট মুস্তাফিজুর রহমান। 

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানে অলআউট আয়ারল্যান্ড। জবাবে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশ পৌঁছায় ২৭.১ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এটি ষষ্ঠ জয়। আগামী ২৪ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

জিততে হলে করতে হবে ১৮২ রান। এ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্তই ছিল দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৯৫ রান পর্যন্ত। তবে হঠাতই ছন্দপতন। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন হার্ড হিটার তামিম ইকবাল। ৫৪ বলে ছয় চারে ৪৭ রান করে কেভিন ও ব্রায়ানের বলে নেইল ও ব্রায়ানের হাতে ক্যাচ দেন তামিম।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরেন সৌম্য ও সাব্বির রহমান। এক পর্যায়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠতম ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। এই জুটিই দলকে জয় পাইয়ে দিতে পারত। তবে বিগ হিট খেলতে গিয়ে আউট হন হার্ড হিটার সাব্বির রহমান। ৩৪ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন আগের দুই ম্যাচে রান না পাওয়া সাব্বির।   

শেষটা করেছেন সৌম্য ও মুশফিক। ৬৮ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন সৌম্য। যার মধ্যে ছিল ১১টি চার ও দুটি ছক্কার মার। মুশফিক ছিলেন ৩ রানে অপরাজিত। 

এর আগে শুক্রবার ডাবলিনে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগারদের বোলিং নৈপুণ্যে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। বল হাতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দেন তিন বলে শূন্য রান করা স্টারলিং।

৭.২ ওভারে এই জুটি বিচ্ছিন্ন হতে পারত। তবে মাশরাফির বলে পোর্টারফিল্ডের দেয়া সহজ ক্যাচ লুফে নিতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত মোসাদ্দেক করেন ৮.৩ ওভারে।

নিজের ওভারেই সেই পোর্টারফিল্ডকে নিজের হাতে ক্যাচ বানান মোসাদ্দেক। দুই উইকেটের পতন আয়ারল্যান্ডের। দলীয় রান ৩৭।

ইনিংসের ১৪.২ ওভারে সাকিবের বলে উড়িয়ে যায় বালবিরনির স্ট্যাম্প। ২৪ বলে ১ চারে ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তিন উইকেটে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ তখন ৬১ রান। ২৭.৩ ওভারে মুস্তাফিজের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ দেন নেইল ও ব্রায়ান।

৪২ বলে ৩০ রান করেন তিনি। ৪ উইকেটের পতন, আয়ারল্যান্ডের রান তখন ১১৬। ম্যাচের ২৯তম ওভারে অভিষিক্ত সানজামুল নিজের প্রথম ওভারেই ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের দেখা পান।

৪৮ রান করে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার জয়েস। এরপর পরপর দুই ওভারে আরও দুটি উইকেট তুলে নেন বিস্ময় পেসার মুস্তাফিজ। ৩১.৪ ওভারে ১০ রান করা কেভিন ও ব্রায়ানের হাওয়া ভাসানো শট দুর্দান্ত ড্রাইভ দিয়ে তালুবন্দী করেন মোসাদ্দেক হোসেন।

৩৩.১ ওভারে মুস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন ৬ রান করা উইলসন। সাত উইকেটে পতন, আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ১৩৬ রান।

শেষের দিকে মাশরাফি তুলে নেন দুটি উইকেট। সানজামুল পান নিজের দ্বিতীয় উইকেট। সব মিলিয়ে দিশেহারা আয়ারল্যান্ড। বল হাতে সবচেয়ে সফল মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ ওভারে দুই মেডেন, ২৩ রানে চার উইকেট।

৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই উইকেট নেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি। ৫ ওভারে ২২ রানে দুই উইকেট নেন অভিষিক্ত সানজামুল। মোসাদ্দেক ও সাকিব নেন একটি করে উইকেট।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/এমএনসি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য