artk
১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৮ জুলাই ২০১৭, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মে বরখাস্ত হয়েছেন নিশো

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৩৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৫২ ঘণ্টা, শনিবার ২০ মে ২০১৭


প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মে বরখাস্ত হয়েছেন নিশো - বিনোদন

সংবাদ উপস্থাপিকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহানা শবনম নিশোকে একুশে টিভি থেকে বরখাস্তের সংবাদ বুধবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় মিডিয়াপাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা গুঞ্জন। মূল গুঞ্জন শুরু হয় বনানীর আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের সঙ্গে ফারহানা নিশোর কিছু ছবি নিয়ে। অনেকেই বলছিলেন, ‘ধর্ষকের’ সঙ্গে তোলা ছবির কারণে সমালোচনার জেরেই ইটিভি নিশোকে অব্যাহতি দিয়েছে।

কিন্তু একুশে টিভির কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতারণা এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে নিশোকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

১৭ মে ফারহানা নিশোকে পাঠানো বরখাস্তের পত্রটিতে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

একুশে টিভির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়:

 

জনাব,

আপনি একুশে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আপনার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে আপনার প্রদত্ত বক্তব্য ও উপস্থাপিত বিভিন্ন নথিসমূহ আমলে নিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে,

ক) আপনি আপনার নিয়োগ পত্রের ১০ নং শর্ত ভঙ্গ করে অন্য ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
খ) আপনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।
গ) আপনি একুশে টেলিভিশনের ব্যবসা সম্পর্কে প্রতারণা ও অসাধুতার আশ্রয় গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষত্রিগ্রস্ত করেছেন।

উপরোক্ত অসদাচরণের দায়ে আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আপনার নিকট রক্ষিত আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, সিম, স্টিকার, গাড়ি ও অন্যান্য দ্রব্যাদি কোম্পানির নিয়ম ও বিধি অনুসারে দায়িত্বরত কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য পরামর্শ দেয়া গেল।

এদিকে, নিশো বরাখাস্ত হওয়ার পরপরই চ্যানেলটির একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ফারাহানা নিশোর নিয়োগ নিয়েই ঝামেলা ছিল। টিভি কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দিতে চায়নি। পরে তাকে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদের এক ব্যক্তির সুপারিশে ডিজিএম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তাকে করা হয় অনুষ্ঠান প্রধান।

অনুষ্ঠান প্রধান হওয়ার পর থেকেই নিশো নানা অনিয়ম শুরু করেন। স্পন্সরে চলমান বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। বিদেশি সিরিয়াল নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই তিনি বিদেশি সিরিয়াল শুরু করেন। বিদেশি ‘হাতিম’ সিরিয়ালের পেছনে নাকি তিনি ৪ কোটি টাকা খরচ করেন। কিন্তু আয়ের হিসাব ঠিকমতো দেননি।

আরও জানা গেছে, প্রযোজকদের সঙ্গে তিনি খারাপ ব্যবহার করতেন। বিপক্ষে কথা বললেই তিনি চাকরি খাওয়ার হুমকি দিতেন। তার কারণেই অন্তত ২৫ জনের চাকরি চলে গেছে ইটিভি থেকে।

ফারহানা নিশোর কারণেই দেশজুড়ে ও মুক্ত খবর অনুষ্ঠান দুটি বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘ এক বছর দেশজুড়ের কর্মীরা কার্মহীন থাকেন। এরপর তাদের মূল সংবাদ টিমে যুক্ত করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। দেশজুড়ে বিভাগের ফ্লোরে এসে সমস্ত কাগজ, ফাইলপত্র তছনছ করে সেগুলো বস্তাবন্দী করে অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেন।

নিজের ঘরানার অযোগ্য লোকজনদের নিয়ে কাজ করার কারণে অনুষ্ঠানের মান পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরেই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বেশকিছু অভিযোগ ছিল।

সব কিছু নিয়ে ইটিভির প্রায় পুরো পরিবার তার প্রতি নাখোশ ছিল। তারপরও অদৃশ্য কারণে এতো দিন তিনি চাকরিতে বহাল ছিলেন।

উল্লেখ্য, ফারহানা নিশো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রামীণ ও নগর পরিকল্পনায় স্নাতক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে চ্যানেল ওয়ানে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিদ টেলিকম, গ্রামীণফোন, এনটিভি, বৈশাখী টিভি ও যমুনা টিভিতে কাজ করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য