artk
৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ফকির ইলিয়াসের কবিতা  

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২৩৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৪৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭


ফকির ইলিয়াসের কবিতা    - শিল্প-সাহিত্য

অনূদিত সপ্তম অন্তরা

কথা নেই। শুধু চাহনির ভেতর জেগে রয় চন্দ্রনির্দেশিকা।
যে মন ভালোবাসার সপ্তম অন্তরা জানে, তার দিকে তাকিয়ে
পাখিরা হাঁক দেয়, পুষ্পেরা ডাকে- মানুষ মানুষ বলে,
পথেরা পরতে শিখে প্রেমের চতুর্থ পরিধান।
আমার নিজস্ব কোনো প্রেমপোশাক নেই। যা আছে,
তা চান্দের কাছ থেকে ধার করা জামা, তাই দরিদ্র দেখে
কেউ দেয়নি কথা, দুপুরের বৃক্ষতলে দেখা দেবে বলে
দেয়নি ডাক।

আমি আহ্বানহীন আকাশের দিকে তাকিয়ে অনুবাদ করেছি
আমার ভাগ্যজল, নদীকে ফিরতে বলেছি অন্য কোনও বাঁকে।

 

মেঘে আঁকা ভুলগুলো

কিছুটা বিনয় নাও, কিছুটা দ্রোহ
যে আগুন পালন করিনি, নাও সেই গ্রহের প্রশাখা
ভালোবাসা জমা থাক এই মেঘে
বরফ মেরুতে হোক ভুলগুলো আঁকা।

রাখো হাতে পালকের রঙ, বিদ্যুৎ
অনেকেই ভুলে যায়- তুমি রেখো মনে
নদীতীরে দাঁড়িয়েছিলাম, দুজনেই
পাতাগুলো ছায়া হয়ে হেসেছিল- ঢেউয়ের গোপনে।

রেখে যাচ্ছি যে কাব্য, গোলকের যৌথ ফলন
কেউ তো পড়বে একদিন,
কেউ না হয় হেঁটে যেতে যেতে
এই শব্দ ভালোবেসে, শুধরে নেবে কালের বুনন।

 

পেনড্রাইভ

জমা হয়ে আছে সূচালো দুখের ধার। বরফে বিদ্ধ হচ্ছে
শীতের সূর্যকণা। কোথাও পুড়ছে জীবন- কোথাও
থেমে যাচ্ছে চুল্লির আগুন, তা দেখে হাসছে চাঁদ, কাঁপছে
নক্ষত্রের সংসার।

চারপাশে ঝুলে থাকছে অনেকগুলো মহাকাল।
অনেকগুলো মৃত বসন্ত,
অনেকগুলো শাদা পাঁপড়ির কফিন
যারা বিদায়ী বর্ষাবরণে জলে নেমেছিল, কেবল
তারাই দেখছে এসব দৃশ্য। বাকি সবাই নজর রাখছে
তাসের পাতায়।

কয়েকটি বজ্রবিন্দু জমে আছে একটি ধাতুকুঠুরিতে।
ক্রমশ উৎস খুঁজে দুখিরা জয়ী হচ্ছে। আর সুখিরা
তাদের পরাজয়ক্রম সংরক্ষণ করছে দ্বিধার পেনড্রাইভে।

 

শীতের সন্ধ্যায়


হামাগুড়ি দেয়া সূর্যটা প্রচণ্ড শীত গায়ে নিয়ে ডুবে গেলো।
এই নিউইয়র্ক শহর তার হাত ধরে রেখেছিল সারাদিন
বরফ পড়ে নি। তবু হাড়কাঁপানো বাষ্পের মাঝে
আমাদের নিঃশ্বাসগুলো বার বার হচ্ছিল দ্বিখণ্ডিত।

আমরা এর আগেও অনেকবার পড়েছি খণ্ডনকাব্য
এর আগেও, শীতের রাতে বিনিময় করেছি পাঁজর
তবু যেন মনে হয়, এমন শীত আর আসেনি কখনও
এমন মিলনের গান গায় নি কোনোদিন
পরিযায়ী সবুজ দোয়েল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য