artk
১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ
অনুমোদন জটিলতায় পরীক্ষা দিতে পারছে না ৫০ শিক্ষার্থী

রাজশাহী সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০২০ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮২৫ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭


অনুমোদন জটিলতায় পরীক্ষা দিতে পারছে না ৫০ শিক্ষার্থী - শিক্ষাঙ্গন
ফাইল ফটো

রাজশাহী শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের ৫০ জন শিক্ষার্থী প্রথম বৃত্তিমূলক পরীক্ষার অংশ নিতে পারছেন না।

২০ মে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, অথচ এখনো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। অ্যাকাডেমিক অনুমোদনের বিষয়টি গোপন রেখে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষার্থীরা এ সমস্যায় পড়েছেন।

এ ঘটনায় রাজশাহী শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অনুমোদন সাপেক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১৩-১৪ সেশন থেকে শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজকে এমবিবিএস কোর্সে ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদানের অনুমতি দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমতি না নিয়েই ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে পাঠদান শুরু করে। এর কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কলেজটি পরিদর্শনে এসে অসঙ্গতি দেখতে পায়। অ্যাকাডেমিক অনুমোদন না নিয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করায় কলেজটিকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাদের অবকাঠামো দেখে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য সুপারিশ করে।

পরে শাহ মখদুম কলেজ কর্তৃপক্ষ জরিমানার মাত্র পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করে অ্যাকাডেমিক অনুমোদন ছাড়াই পুনরায় পরবর্তী সেশনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এতেই দেখা দেয় বিপত্তি।

২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী হিমিকা সরকার ও আয়মিন সুলতানা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা তাদের প্রথম বৃত্তিমূলক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করাবেন বলে প্রতিশ্রুত দিয়েছেন। কিন্তু আগামী ২০ মে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অথচ আজও তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তাই তারা আন্দোলন শুরু করেছেন। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শাহ মখদুম কলেজ কর্তৃপক্ষ অ্যাকাডেমিক অনুমোদনের তথ্য গোপন করে ২০১৪-১৫ সেশনে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে। যে কারণে এই সেশনের শিক্ষার্থীরা ২০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম বৃত্তিমূলক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজের ব্যবস্থপনা পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনকে মুক্ত করে দেয়া হয়।

ডা. প্রদীপ কুমার সরকার নামে এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে হিমিকা সরকারকে শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানোর জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামন স্বাধীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাকে বলেন, ‘মাত্র তিনটি সিট খালি আছে।’ একইসঙ্গে পাঠদানের জন্য তাদের সব ধরনের অনুমতি রয়েছেন বলেও জানানো হয় তাকে।

তবে ১৬ লাখের মধ্যে ৮ লাখ টাকা দিয়ে ভর্তির পর তার মেয়ের রোল ১৬ দেখে তিনি আশ্চর্য হয়ে যান। শুরু থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতারণা করে আসছেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে তারা ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেন। একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক অনুমতি না থাকায় ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হয়নি দাবি করে বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনেই কলেজ পরিচালনা করছেন তারা।’

তবে শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজটিতে অ্যাকাডেমিক অনুমোদন ছাড়াই ছাত্র ভর্তি করাসহ নানা অসঙ্গতির কারণে এ জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার প্রফেসর এন্তাজুল হক। তাই ২০১৪-১৫ সেশনের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রথম বৃত্তিমূলক পরীক্ষা আগামী ২০ মে থেকে দিতে পারবেন না।

তবে শাহ মখদুম কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি যথাশিগগিরই সমাধান করতে পারে তাহলে এসব ছাত্র-ছাত্রী আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য বৃত্তিমূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/ইএ/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত