artk
১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৮ জুলাই ২০১৭, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আদম ব্যাপারীর খপ্পরে স্বামী কারাগারে স্ত্রীর আত্মহত্যা

কুমিল্লা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯৫৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৪২ ঘণ্টা, শনিবার ২০ মে ২০১৭


আদম ব্যাপারীর খপ্পরে স্বামী কারাগারে স্ত্রীর আত্মহত্যা - জাতীয়
ফাইল ফটো

বিভিন্ন সমিতি ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। ভিসার মেয়াদ না থাকায় স্বামীকে বাহরাইন পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। যে দালালের মাধ্যমে স্বামী বিদেশ গিয়েছিলেন তার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাগে ক্ষোভে ওই গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জামতলী গ্রামে। আত্মহত্যাকারী আনোয়ারা বেগম জামতলী গ্রামের মোরশেদ আলমের স্ত্রী।

জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতলী মধ্যপাড়া গ্রামের আবু জামাল ভূইয়ার (খিলু) ছেলে বাহরাইন প্রবাসী মাসুমের মাধ্যমে চার লাখ টাকা দিয়ে নয় মাস আগে বাহরাইন গিয়েছিলেন পাশের বাড়ির ফুল মিয়ার ছেলে মোরশেদ আলম। বিদেশ যাওয়ার আগে মোরশেদ আলম ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (২৮) বিভিন্ন সমিতি ও আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে চড়া সুদে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

মোরশেদ আলমের পিতা ফুল মিয়া জানান, বিদেশ যাওয়ার চার লাখ টাকা খিলু মিয়াকে যখন দেয়া হয়েছিল তখন তার ছেলে মাসুম বাহরাইন ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল দুইবছর বাহরাইনে কোনো সমস্যা হলে মাসুদ তা দেখবে এবং বাহরাইনে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু ভিসার মেয়াদ না থাকায় মোরশেদ কিছুদিন পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে কাজ করলেও ১০ দিন আগে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এখন কারাগারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে মোরশেদের বাবা ও তার স্ত্রী মনোয়ারা পাশের বাড়ির খিলু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খিলু মিয়া ও তার ছেলে মাসুদ বিষয়টি মোটেও কোনো গুরুত্ব না দিলে এবং ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে দুই কন্যা সন্তানের জননী মনোয়ারা সংসারের অভাব অনটনে দিশেহারা হয়ে যান। শুধুমাত্র ভিটে বাড়িটি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ ছিল না। গত বুধবার বিকেলে মনোয়ারা খিলু মিয়ার বাড়িতে গেলে সেখানে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এসময় উভয়ের মধ্যে তর্ক-বির্তক হয়।

নিজ বাড়িতে ফিরে এসে মনোয়ারা আবারও সন্ধ্যার আগে খিলু মিয়ার বাড়িতে যান। আবারও তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মনোয়ারা বিষপান করে মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকেন। এসময় চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে চান্দলায় পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ জামতলী তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় থানার ওসি শাজাহান কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়েছে। তারা মামলা করার জন্য থানায় আসছেন বলে জানিয়েছেন।”

 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত