artk
৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মূলধন ঘাটতি ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮১০ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯২৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭


মূলধন ঘাটতি ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ - অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়াত্ত্ব এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধনের অবস্থা খুবই খারাপ। সার্বিকভাবে ব্যাংকিং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বিগত বছরের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ হিসাবে, সঞ্চিতি ঘাটতি আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ফলে মূলধন ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে।

এ ঘাটতি মোকাবেলা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এ খাতের বিষেজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ট্রেজারি অপারেশনস অব ব্যাংকস-২০১৬’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ মন্তব্য করেন।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিআইবিএমের পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হোসেন, দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনুদ্দিনসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। যা আন্তর্জাতিক হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণ। পুনঃতফসিল নীতিমালায় ছাড় দেয়ার কারণে খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। এছাড়া আরো কিছু কারণে ব্যাংকিং খাতের জন্য খেলাপি ঋণ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তিন বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়াকে ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দৈন্য দশার মূল কারণ। এ খেলাপি ঋণের কারণেই সুদের হার এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। একইসঙ্গে ভালো ঋণ গ্রহীতারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ তদারকি করতে হবে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক বলেন, “খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে সর্বনাশ ডেকে আনছে। এ অবস্থার উত্তোরণ না হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য চরম খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের ঋণের কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকগুলো ভালো গ্রাহকদের কাছ থেকে চড়া সুদ নিচ্ছে।”

এনআরবি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “ট্রেজারি ব্যাবস্থাপনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরো সতর্ক হতে হবে। সব ব্যাংকের প্রধানদের ট্রেজারি ব্যাপস্থাপনায় বিশেষ নজর না দিলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা আছে।”

তিনি আরো বলেন, “সরকার ব্যাংকিং খাত নিয়ে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলায় যা এ খাতের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সরকারকে বছরের প্রথমেই একটি নকশা তৈরি করে এগুলে ব্যাংকের জন্য সুফল বয়ে আনবে।”

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মেহেদি জামান, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান আরিকুল আরিফিন প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য