artk
১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ফারহানা নিশোর বরখাস্ত হওয়ার কারণ

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১২২ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭


ফারহানা নিশোর বরখাস্ত হওয়ার কারণ - বিনোদন

সংবাদ উপস্থাপিকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহানা শবনম নিশোকে একুশে টিভি থেকে বরখাস্তের সংবাদ বুধবার সন্ধ্যায় মিডিয়াপাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা গুঞ্জন। মূল গুঞ্জন শুরু হয় বনানীর আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের সঙ্গে ফারহানা নিশোর কিছু ছবি নিয়ে। অনেকেই বলছিলেন, ‘ধর্ষকের’ সঙ্গে তোলা ছবির কারণে সমালোচনার জেরেই ইটিভি নিশোকে অব্যাহতি দিয়েছে।

কিন্তু ছবি তোলার মতো বিষয়টিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে মেনে নিতে পারেছেন না কেউ কেউ। ফারহানা নিশো নিজেও এনিয়ে কথা বলেছেন। নাঈম আশরাফ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার কাছে অনেকগুলো ইভেন্টের প্রপোজাল নিয়ে এসেছিল। তারপর আমার সঙ্গে ছবি তুলেছে। আমরা যারা মিডিয়াতে কাজ করি তাদের সঙ্গে অনেকেরই ছবি থাকতে পারে। তার মানে এই লোকটার খারাপ কাজের দায়ভার আমি কেন নেবো?”

অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের সেলফিতে ফারহানা নিশো

একই কথা বলেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ওমর সানী। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তাতে বলেন, “যে কোনো মানুষের সঙ্গে আমাদের ছবি এবং সেলফি থাকতে পারে। আমরা জানি না কে কী। আমার স্ত্রী একজন অভিনেত্রী, তার সঙ্গেও ছবি থাকতে পারে। সে কিন্তু জানে না কে যৌনকর্মী, কে ধর্ষণকারী, কে জঙ্গি কিংবা ডাকাত বা হুজুর। আমরা যারা শিল্পী তাদের সব শ্রেণির ভক্ত থাকতে পারে। তাহলে একটা সেলফির কারণে ফারহানা নিশোর চাকরি যাবে কেন এবং তার দোষ হবে কেন?”

তবে ওমর সানী আরো জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত দোষের কারণে যদি চাকরি যায় তাহলে তার বলার কিছু নেই।

মূলত ফারহানা নিশোর বরখাস্ত হওয়ার কারণ এই ‘ব্যক্তিগতই’। দীর্ঘদিন ধরেই ইটিভির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল ফারহানা নিশোর। চ্যানেলটির একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ফারাহানা নিশোর নিয়োগ নিয়েই ঝামেলা ছিল। টিভি কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দিতে চায়নি। পরে তাকে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদের এক ব্যক্তির সুপারিশে ডিজিএম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তাকে করা হয় অনুষ্ঠান প্রধান।

অনুষ্ঠান প্রধান হওয়ার পর থেকেই নিশো নানা অনিয়ম শুরু করেন। স্পন্সরে চলমান বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। বিদেশি সিরিয়াল নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই তিনি বিদেশি সিরিয়াল শুরু করেন। বিদেশি ‘হাতিম’ সিরিয়ালের পেছনে নাকি তিনি ৪ কোটি টাকা খরচ করেন। কিন্তু আয়ের হিসাব ঠিকমতো দেননি।

বরখাস্ত করে জারি করা ইটিভির বিজ্ঞপ্তি

আরও জানা গেছে, প্রযোজকদের সঙ্গে তিনি খারাপ ব্যবহার করতেন। বিপক্ষে কথা বললেই তিনি চাকরি খাওয়ার হুমকি দিতেন। তার কারণেই অন্তত ২৫ জনের চাকরি চলে গেছে ইটিভি থেকে।

ফারহানা নিশোর কারণেই দেশজুড়ে ও মুক্ত খবর অনুষ্ঠান দুটি বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘ এক বছর দেশজুড়ের কর্মীরা কার্মহীন থাকেন। এরপর তাদের মূল সংবাদ টিমে যুক্ত করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। দেশজুড়ে বিভাগের ফ্লোরে এসে সমস্ত কাগজ, ফাইলপত্র তছনছ করে সেগুলো বস্তাবন্দী করে অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেন।

নিজের ঘরানার অযোগ্য লোকজনদের নিয়ে কাজ করার কারণে অনুষ্ঠানের মান পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরেই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বেশকিছু অভিযোগ ছিল।

সব কিছু নিয়ে ইটিভির প্রায় পুরো পরিবার তার প্রতি নাখোশ ছিল। তারপরও অদৃশ্য কারণে তিনি চাকরিতে বহাল ছিলেন।

সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের সামনে একটি মোক্ষম সুযোগ আসে তাকে চাকরিচ্যুত করার। আর তা হলো- বনানীর ধর্ষণের ঘটনায় দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যায় ইটিভি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ফারহানা নিশো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বাড়াবাড়িও করেন বলে জানা গেছে। আর তাই সুযোগ বুঝে কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বরখাস্তের তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের আদেশে নিশোকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফারহানা নিশো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রামীণ ও নগর পরিকল্পনায় স্নাতক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে চ্যানেল ওয়ানে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিদ টেলিকম, গ্রামীণফোন, এনটিভি, বৈশাখী টিভি ও যমুনা টিভিতে কাজ করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য