artk
৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘জারজ’ বললেন ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬০৪ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১১০ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭


অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘জারজ’ বললেন ড. কামাল - কোর্ট-কাচারি

প্রধান বিচারপতির এজলাসে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলমকে ‘জারজ’ বললেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। পরে অবশ্য এ ধরনের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান তিনি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩৮ জন চিকিৎসকের নিয়োগের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালে একথা বলেন ড. কামাল।

বুধবার এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে চিকিৎসকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল হোসেন, এম আমীর উল ইসলাম ও কামরুল হক সিদ্দিকী। তাদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও তানিম হোসেইন শাওন।

বিএসএমএমইউর পক্ষে শুনান করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও তানজিব উল আলম।

আদালত এ মামলায় কামাল হোসেনকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে বললে তিনি বলেন, “সিন্ডিকেটে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এখন তারা সেই সিন্ডিকেটের বিপক্ষে স্ট্যান্ড নিচ্ছে। এগুলো হলো ইন্টেলেকচুয়াল প্রস্টিটিউশন।”

এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে এ ধরনের শব্দ উচ্চারণে আপত্তি জানান। তখন তাকে উদ্দেশ করে কামাল হোসেন বলেন, “শাটআপ, বাস্টার্ড। ইউ টেক ইউর সিট।”

এর জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ইউ ক্যান নট আটার দিজ ওয়ার্ড।”

এসময় প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে কামাল হোসেন তার আসনে বসে পড়েন।

পরে প্রধান বিচারপতি কামাল হোসেনকে বলেন, “আপনি একজন সিনিয়র আইনজীবী, এ ধরনের শব্দ চয়ন ঠিক নয়।”

এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতিকে বলেন, “আপনিতো ওনাকে তোষামোদ করলেন। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট যেভাবে আমাকে গালি দিল এটার কী হবে?”

এর পর আদালত বিরতি দেয়া হয।

বিরতির পরে পুনরায় আদালত বসলে পর কামাল হোসেন এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে ক্ষমা চান।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েকশ চিকিৎসককে নিয়োগ দেয় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

ওই নিয়োগের পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) চেয়ে আবেদন করলে আপিল বিভাগ গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

খারিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১১০ জন চিকিৎসক রিভিউ আবেদন করেন। এর শুনানি নিয়ে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ ওই আবেদন গ্রহণ করে আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর ওই চিকিৎসকরা পৃথক পাঁচটি আপিল করেন। এসব আবেদনের শুনানি বুধবার শেষ হয়। ২১ মে আপিল বিভাগ আবেদনগুলোর ওপর আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত