artk
১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৮ জুলাই ২০১৭, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অস্থিরতা-সংকটের কব্জায় ইসলামী ব্যাংক

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৩৫ ঘণ্টা, বুধবার ১৭ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩২৭ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০১৭


অস্থিরতা-সংকটের কব্জায় ইসলামী ব্যাংক - বিশেষ সংবাদ

গভীর সংকটের দিকে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। হঠাৎ বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকার পেছন থেকে ব্যাংকটিকে জামায়াত ও শিবির মুক্ত করতে চাইলেও তা খুব বেশি কার্যকর করা যাচ্ছে না। চলছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর বোর্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব। কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকটি। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্ভরযোগ্য ওই সূত্রগুলো বলছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে ব্যাংকের দুই পক্ষ। অভিযোগ আছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বেশির ভাগ জামায়াত ও শিবির সমর্থিত কিংবা সরাসরি কর্মীও। আর পরিচালনা পর্ষদ সরকার সমর্থিত।

জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি নিয়ে ভেতরে চলছে উত্তেজনা। সেখানে আবারও বড় পবির্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, আজকের গুঞ্জন আগামী মঙ্গলবার সত্য হবে।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ব্যাংক পরিচলনা করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হতেই পারে। এসব থাকবে না। আমরা অনেক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। আরো কাজ করছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “পেশাদার কর্মীদের কোনো সমস্যা নেই, সেই বার্তা দেয়া হয়েছে। তাদের বেতন বোনাস বাড়ানো হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় ২শ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি। আশা করি, কর্মীরা সব বুঝতে পারছেন।”

সূত্র বলছে, গত জানুয়ারি মাসে হঠাৎ বড় পরিবর্তনের পর বড় ছাঁটাই আতংক আজও কাটেনি ইসলামী ব্যাংকে। জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন কর্মকর্তাদের তালিকা করা হয়। তাদের পর্যাযক্রমে ছাঁটাই করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও শাখাগুলোর প্রধানদের সরিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বড় বড় শাখার ব্যবস্থাপকদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ভেতরে ভেতরে পর্ষদের একটি অনানুষ্ঠানিক কমিটি এ নিয়ে কাজ করছিলো। এই দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম। তিনি কাজটি করতে গিয়ে বিভিন্ন হুমকির মধ্যে পড়েছেন বলে গত বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন। সেখানে তিনি পদত্যাগেরও হুমকি দেন। এরপর জরুরি পর্ষদ সভায় ডাকা হয়। সভায় তাকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ করা হয়।

ব্যাংকটির নেতৃত্বে জামায়ত ও শিবিরের আদর্শের বাইরে রয়েছেন এমন কর্মকর্তাদের পদোন্নতিও দেয়। তবে উদ্যোগটি কতটা বাস্তব সম্মত হয়েছে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে ৬ জনকে নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়। যারা বর্তমান পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার পছন্দের। আবার মধ্যম সারিরও বড় সংখ্যক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে গত ৫ জানুয়ারি। এর মধ্যে ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রতিনিধি গত ৩০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের সভায় শেয়ার ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি ব্যবসায়ি গোষ্ঠীকে আইডিবির শেয়ার কেনার কথা বলা হচ্ছে।

ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, আমার ওপর সরে দাঁড়ানোর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নিয়ে প্লাস-মাইনাসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই পরিচালনা পর্ষদ ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাষ্ট্রবিরোধী এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সরকারি অফিসার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহসানুল আলম ২০১৬ সালের মে মাসে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তারপর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ‘পদত্যাগ’ করলে তিনি নতুন ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি পরিচালনা করছিলেন স্বতন্ত্র ওই পরিচালক।

এদিকে ব্যাংকের আরেকটি সূত্র বলছে, ব্যবসায়িক অংশীদের অনেক প্রতিষ্ঠানও আর ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে ব্যবসায়িকভাবেও ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য