artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ইবাইসে সন্ত্রাসী হামলা: লিংকন বাহিনীর তাণ্ডব

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২১০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৬ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২০২ ঘণ্টা, বুধবার ১৭ মে ২০১৭


ইবাইসে সন্ত্রাসী হামলা: লিংকন বাহিনীর তাণ্ডব - বিশেষ সংবাদ
লিংকনের পক্ষ নিয়ে ইবাইসে হামলা চালান সন্ত্রাসী প্রিন্স (লিখছেন) ও পাশে দাঁড়ানো তার সহযোগিরা

 

রাজধানীর ইবাইস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালিয়েছে সন্ত্রাসী চক্র। ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি দখল করতে এসে তারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়। এ সময় তারা মোটা অংকের চাঁদাও দাবি করে। এটুকুতেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উপদেষ্টাকে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় তারা। দিনভর ভিসিসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। বিষয়টি নিয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাকারিয়া লিংকন নামে এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটির দখলদারিত্ব নিতে সন্ত্রাসী প্রিন্স বাহিনী দিয়ে গত ২ মে ও ৪ মে দুই দফা এ হামলা চালায়। ক্যাম্পাস দখল করতে না পেরে তারা পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি করে। কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু জায়গায় তারা ভাংচুর চালায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে উত্তরায় অবৈধভাবে আরও একটি ক্যাম্পাস চালু করেন জাকারিয়া লিংকন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এ ক্যাম্পাসটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান ইবাইসের ভিসি (ডেজিগনেট) ড. হুমায়ূন কবির। সনদ বাণিজ্য চালানোর জন্যই লিংকন উত্তরার এ অবৈধ ক্যাম্পাস খুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এই লিংকন বারবার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ইবাইসের একমাত্র ও প্রধান ক্যাম্পাস দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন।

ইবাইস কর্তৃপক্ষ জানায়, ইবাইসের বিরুদ্ধে ছয়বার রিট করেছেন জাকারিয়া লিংকন। তবে শুনানি শেষে লিংকনের প্রতিটি রিটই খারিজ করে দেন উচ্চ আদালত। এমনকি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও বিভিন্ন সময়ে ইবাইসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন চিঠি দিয়েছেন এ সনদ ব্যবসায়ী। সেখানেও সুবিধা করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল নিতে হামলা চালিয়েছেন জাকারিয়া লিংকন।

ইবাইসের ভিসি (ডেজিগনেট) ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, “ইবাইসের একটি মাত্র ক্যাম্পাস ধানমন্ডিতে। এর বাইরে আর কোনো ক্যাম্পাস নেই। ইউজিসির সব কাগজপত্রে এ ক্যাম্পাসটিই বৈধ বলে বিবেচিত। সরকার থেকে সব চিঠিপত্রও এই ক্যাম্পাসে আসে। এমনকি ইউজিসির ওয়েবসাইটেও আমাদের ক্যাম্পাসের ঠিকানা দেয়া হয়েছে। অথচ জাকারিয়া লিংকন অবৈধভাবে আমাদের নাম ব্যবহার করে একটি ক্যাম্পাস চালাচ্ছেন। যেখান থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করতে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

এদিকে ইবাইসের রেজিস্ট্রার এখলাছুর রহমান স্বাক্ষরিত পুলিশের কাছে করা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, মালিকানা দ্বন্দ্ব নিরসনের কথা বলে সন্ত্রাসীরা ইবাইস ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এসব কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন খায়রুল বাশার প্রিন্স। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এসএম সাদী, আরিফ, হিমেল, জয়, নাহিদ প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে যায়, লিংকনের উস্কানিতে এরা ইবাইসে এসব ত্রাস চালাচ্ছে। এদের মধ্যে প্রিন্সের বিরুদ্ধে নানা জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি আশা মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র কাজ করেন। এ প্রতিষ্ঠানটিও চোরাই গাড়ি বেচাকেনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও জানা যায়।

প্রিন্স নামে এ সন্ত্রাসী নানা সময়ে ইবাইসের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়। সবশেষ তাদের হামলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পরীক্ষাও স্থগিত করে রাখতে বাধ্য হয়।

এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা জাকারিয়া লিংকন নিজেকে ইবাইসের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলে দাবি করেন। তবে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী একই ব্যক্তি একই সময়ে এ দুটি পদে থাকতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া লিংকনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষেপে যান। তার বক্তব্য, তার নেতৃত্বে উত্তরায় পরিচালিত ইবাইসের ক্যাম্পাসকেই ইউজিসি বৈধতা দিয়েছে।

হাইকোর্টের রিট তার বিপক্ষে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো দম্ভোক্তি দেখিয়ে বলেন, আমার ক্যাম্পাসই বৈধ। আমি বৈধভাবে সনদ দিচ্ছি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একেরপর এক মামলায় হেরে গিয়ে এখন তিনি ইবাইস দখল করতে বাঁকাপথ বেছে নিয়েছেন। আর এজন্যই লেলিয়ে দিয়েছেন সন্ত্রাসী প্রিন্সকে।

এসব বিষয়ে প্রিন্স বলেন, “আমি ইবাইসের ধানমন্ডি ক্যাম্পাসেই পড়েছি। লিংকন সাহেবও ইবাইসের মালিক। মালিকানা দ্বন্দ্ব নিরসন করতেই সেখানে গেছি।”

তাকে কে এ দ্বন্দ্ব নিরসনের দায়িত্ব দিয়েছেন- এ প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে কেন শুধুই ধানমন্ডি ক্যাম্পাস নিয়ে তার এতো আগ্রহ কিংবা উত্তরায় লিংকন পরিচালিত অবৈধ ক্যাম্পাসে কেন যাননি, এ প্রশ্নে তিনি আর কোনো কথা বলেননি।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে জানালার কাচসহ অন্যান্য সামগ্রী ভাংচুর চালিয়েই তারা ক্ষান্ত হননি। ৫ মে তার সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান শোয়েবের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

লিংকনের মদদে প্রিন্সের এ ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হাত থেকে ইবাইস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য