artk
১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতার ছবি নিয়ে তোলপাড়

চিফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৩৮ ঘণ্টা, শনিবার ১৩ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৪৭ ঘণ্টা, রোববার ১৪ মে ২০১৭


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতার ছবি নিয়ে তোলপাড় - বিশেষ সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে এক জামায়াত নেতার ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এ দলটির নেতা কীভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর কাছাকাছি ঘেঁষতে পারে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সমালোচকরা এ নিয়ে ‘বিভিন্ন মন্তব্য’ ছুঁড়ে দিলেও মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার কুমিল্লার দারোগাবাড়িতে মন্ত্রী এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে খাবারের টেবিলের পাশে মন্ত্রীর চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ওই এলাকার জামায়াত নেতা ফখরুদ্দিন আহম্মেদ হামিমকে। খাবারের পুরো সময় মন্ত্রীর কাছাকাছিই থেকেছেন ওই জামায়াত নেতা। সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন এমন তথ্য জানিয়েছেন। ছবিতেও ধরা পড়েছে দৃশ্যটি।



হামিম নামে ওই জামায়াত নেতা ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন। ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রদল-শিবির প্যানেল থেকে তিনি সহ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদকও হন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ১৪ নং ওয়ার্ডে জামায়াত থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীও হয়েছিলেন।

হামিমের ফেসবুকে সরকার বিরোধী নানা বক্তব্য সম্বলিত স্ট্যাটাস ও এ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করতেও দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি দাবি করে পোস্টও চোখে পড়ে সেখানে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান তার ভায়রা মোহাম্মদ আলী ফারুকের আমন্ত্রণে কুমিল্লায় যান। রাতে মোহাম্মদ আলীর দারোগাবাড়ির বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন। বাড়ির আঙিনায় সামিয়ানা টানিয়ে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের খাবারের আয়োজনও করা হয়। তবে মন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠজনদের জন্য আয়োজন করা হয় বাড়ির চারতলায় ‘ডাইনিং রুমে’। সেখানে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যায় এ জামায়াত নেতাকে।

মন্ত্রীর সঙ্গে খাবারের টেবিলে বসেন জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক প্রমুখ। নিরাপত্তা বেষ্টিত সে আয়োজনে কীভাবে এ জামায়াত নেতা ঢুকেছেন এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে।

এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব ওমর ফারুক নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সেখানে অনেক লোকজন ছিলেন। চিহ্নিত কোনো জামায়াত নেতাকে চোখে না পড়লেও আমাদেরকে যারা খাবার পরিবেশন করেছেন তারা কেউই স্বাধীনতার পক্ষের লোক ছিলেন না। তবে জামায়াতের কেউ থাকলেও সেটা মন্ত্রীর ভায়রার পরিবারের লোকজন হতে পারেন। আমি আগে চিনতে পারলে অবশ্যই বাধা দিতাম।”

জেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা জানান, মন্ত্রীর জন্য যে রুমে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো, সেখানে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া বাইরের কারও প্রবেশের অনুমতি ছিলো না।

তাহলে জামায়াত নেতা হামিম কীভাবে সেখানে ঢুকেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে নিউজবাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছিলো পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

বিষয়টি সদর আসনের সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিনেরও জানা নেই উল্লেখ করে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চলে এসেছি। পরে কে গেছে, সেটা তো আর বলতে পারবো না।”

প্রসঙ্গত, মন্ত্রীর ভায়রা মোহাম্মদ আলী ফারুক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। কুমিল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একবার তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতাও করেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি কাউকে চিনি না। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা গেছেন। কার সঙ্গে কে গেছেন, আমি বলতে পারবো না।”

তবে মন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতার ছবির ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির কাউকে দেখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রীর এসব বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত