artk
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৯ মে ২০১৭, ৪:২২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

স্বতন্ত্র এমপিতে বিভক্ত কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল আ.লীগ

আদিত্য রিমন | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৮২৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১১ মে ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২২৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ মে ২০১৭


স্বতন্ত্র এমপিতে বিভক্ত কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল আ.লীগ - বিশেষ সংবাদ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দলে যোগ দেয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা। তারা বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা এতে লাভ খুঁজে পেলেও তৃণমূল নেতারা ক্ষতির কথাই বলছেন। 

কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, স্বতন্ত্র এমপিদের দিয়ে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী সহজে পার হওয়া যাবে। কারণ তারা তৃণমূলে জনপ্রিয় বলেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনে এসব আসনে তাদের প্রার্থী করা হলে সহজে জয় পাওয়া যাবে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে এতে ক্ষতি কী?

অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এসব আসনে এতো দিন যেসব নেতারা আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আসায় কাজ করেছেন, তারা এখন হতাশ। এখন এসব স্বতন্ত্র এমপি আর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগবে। দুই পক্ষই নিজ নিজ বলয় তৈরি শুরু করবে। এতে করে তৃণমূল আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়বে।

তৃণমূল নেতরা আরো বলছেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সবার কাছে একটি বার্তা পৌঁছে যাবে যে, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী হলে কোনো সমস্যা নাই। শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করলেই হবে। পরে আবার দল ডেকে নেবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “যারা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন তারা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দলের সঙ্গেই আছেন। তারা দলের আদর্শের প্রতিও অনুগত। স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে অনেকের জনপ্রিয়তাও রয়েছে। সুতরাং এদের দলে ফিরে আসা দলের জন্য ভালো বলেই আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, “গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার আগে দেশের পরিস্থিতি অন্যসময়ের তুলনায় ভিন্ন ছিল। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, “আমাদের গত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের সাধারণ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। এখন তারা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেহেতু দল তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে, তাই এতে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না।”

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়েরও একটি বিষয় রয়েছে। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য যেখানে যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করবো।”

স্বতন্ত্র এমপিরা দলে ফিরে আসায় তৃণমূলের নেতারা তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করতে শুরু করেছেন বিভিন্ন জায়গায়। স্বতন্ত্র এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের দলে ফেরানোর সংবাদ পেয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, “স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ছত্রছায়ায় এলাকার সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীরা। আর তারাই ২৮ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে।”  

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম হাওলাদার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “রুস্তুম আলী ফরাজী স্বতন্ত্র হিসেবে বিগত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেছেন। এখন আবার তিনি দলে ফিরে এসেছেন। তার আগামী দিনের কর্মকাণ্ডেই মূল্যায়ন হবে তার ফিরে আসাতে দলের ক্ষতি না লাভ হয়েছে। তবে তার যোগদানে যারা এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছেন তারাতো বিক্ষুব্ধ হবেন, সেটাই স্বাভাবিক।”

এদিকে সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য হলেও তাদের অনেকে বাইরে আওয়ামী লীগারই ছিলেন। অনেকের পদ-পদবিও ছিল স্থানীয় জেলা-উপজেলা কমিটিতে। তারাও বলছেন, তাদের ফিরে আসাতে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান বলেন, “আমিতো পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। আওয়ামী লীগে ছিলাম আছি, থাকবো। দলের এ সিদ্ধান্তের কারণে এখন সংসদীয় বৈঠকে যোগ দিতে পারবো।”

কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, “জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত নির্বাচনে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। তবে সেটা নৌকা বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল স্থানীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে।”

যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমরা তো দলে ছিলাম। দলতো কখনোই বহিষ্কারও করেনি। দলের সাধারণ সম্পাদকতো বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার করেনি, তাই যোগদানের প্রশ্নও নাই। বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচন করায় আমরা আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলাম না। এখন দল আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে।”

আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা হলেন- হাজি মো. সেলিম (ঢাকা-৭), মো. আবুল কালাম আজাদ (গাইবান্ধা-৪), মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার (নওগাঁ-৩),  রেজাউল হক চৌধুরী (কুষ্টিয়া-১), তাহজীব আলম সিদ্দিকী (ঝিনাইদহ-২), স্বপন ভট্টাচার্য্য (যশোর-৫), সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (নরসিংদী-৩), ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (কুমিল্লা-৩), কামরুল আশরাফ খান (নরসিংদী ২), মজিবুর রহমান চৌধুরী (ফরিদপুর ৪). মো. আব্দুল মতিন (মৌলভীবাজার ২) ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল (কুমিল্লা ৪)।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এআর/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য