artk
৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বর্বর সমাজেও এত লোমহর্ষক কাহিনী ঘটেনি

কাজী আশরাফুর রহামান |
প্রকাশ: ১৯৩৯ ঘণ্টা, রোববার ২৩ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯২৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ০২ মে ২০১৭


বর্বর সমাজেও এত লোমহর্ষক কাহিনী ঘটেনি - টুইট-ফেস

অনেক স্মার্ট ও শিক্ষিত মানুষকেও দেখেছি এক দেড় হাজার বেডের সরকারী হাসপাতালে এসে বোকা হয়ে যেতে। সরকারী নিয়মকানুন আর হাজার হাজার রুগীর ভিড়ে নিজের কাজটা করে নিতে জিহ্বা বের হয়ে যায়।

গতকাল ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্টের এক ম্যাডাম নিজে রুগী হয়ে আসলে তার পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আমাদের দুই তিন ডাক্তার দৌড়াদৌড়ি করে দুপুর ১ টার দিকে সাঙ করে। এই যদি হয় একজন ডাক্তার রুগীর অবস্থা! তাহলে গ্রাম থেকে আসা নিরক্ষর দরিদ্র রুগীগুলোর দুর্দশা কোথায় গিয়ে দাড়ায়? আর এই ধরনের কোন রুগীর কাউকে যদি Angiogram করে বলেন " দুইটা ব্লক আছে, তিনটা রিং লাগবে, নইলে মারা যাবে, কুইক!! কুইক!!" তখন এই রুগীর অশিক্ষিত আত্মীয়স্বজন ধরাধমের বাইরে চলে যায়।

অশিক্ষিত মানুষগুলো বিপদে পড়ে যায়। নিষ্ঠুর এই শহরে কোন দোকানে যাবে?? কার কাছে রিং চাইবে। তখন অন্ধকার থেকে বের হয় একদল লোক। এদের হাতে থাকে রিং। বিয়ের রিং নয়, জীবন রক্ষাকারী টাইটেনিয়ামের রিং। বিলিয়ন বিলিয়ন কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যে গ্রহানুগুলো একদা টাইটেনিয়াম নিয়ে এসেছিল এই গ্রহে, সেই মূল্যবান ধাতু আজ শুধু মানুষের জীবন বাচায় না, রক্তক্ষোর কিছু অমানুষের অবৈধ ব্যবসার রসদও যোগায় বটে।

গরীব মানুষগুলো কিছুই বুঝে না। রিং ই তারা চিনে না, তার দাম কেমনে জানবে?? তারপর গালভাঙা ভগ্ন স্বাস্থের সেই মানুষগুলো জমি নইলে হালের গরু বিক্রি করে ১৮ হাজার টাকার রিং দেড় লাখ টাকায় কিনে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাবের সামনের দরজায় গিয়ে দাড়ায়। জানেও না ভিতরে কি হচ্ছে!! প্রাচীন ও মধ্যযুগের বর্বর সমাজেও এত লোমহর্ষক কাহিনী ঘটে নি।

এটা শুধু গরীব রুগী নয়, ধনী, অধিক ধনী সবাই এই নিষ্ঠুরতার শিকার। রিং ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজে রমরমা ব্যবসা করে কিছু নীতিহীন ছ্যাচড়া কার্ডিওলজিস্ট। আট হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত কার্ডিয়াক রিং পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক বাজারে। অথচ প্রায় দশ গুন দামে জীবন রক্ষাকারী এই ডিভাইচ বিক্রি হয় এদেশে। কোন ধরনের বর্বরতা ভাবা যায়??

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ভারতে কার্ডিয়াক, অর্থোপেডিক্স, ও অন্যান্য চিকিৎসার জীবন রক্ষাকারী ডিভাইসগুলো এসেনশিয়াল ইলেমন্টস ধরে আইন করে দাম নির্ধারন করে দেওয়া আছে। চাইলেই ভুলভাল বুঝিয়ে গলাকাটা দাম নিতে পারবে না। দেরিতে হলেও আমাদের সরকার বিষয়টা উপলব্দি করে এদেশে অনুরুপ আইন করে দিতে চেয়েছে যেখানে প্রতিটা ডিভাইসের গায়ে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্ধারন করা থাকবে।

কিন্ত বেকে বসেছে কুলাঙ্গার রিং ব্যবসায়ী ও কিছু রক্তচোষা ডাক্তার। এরা একযোগে সারাদেশে কার্ডিয়াক রিং সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। কি করা উচিত এদের?? প্রতিটা মানুষকে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০ হাজার টাকা। মান ভেদে দামের তারতম্য আছে। এর এক পয়সা বেশি যদি কেউ চায় তো শাহবাগ মোড়ে নিয়ে ঝুলিয়ে দিন। পাবলিক থুথু দিবে।

চিকিৎসক, এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত