artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ছাত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়ায় শিক্ষকের জরিমানা

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৪৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭


ছাত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়ায় শিক্ষকের জরিমানা - জাতীয়

রাজশাহীর তানোরে স্কুল থেকে শিক্ষাসফরে গিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে ছবি তোলে এক শিক্ষার্থী। আর শিক্ষক সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড করায় তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে এখনো সেই জরিমানার টাকা বুঝে পায়নি ওই শিক্ষার্থীর পরিবার। টাকা পকেটে নিয়ে দিব্বি বসে আছে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতারা।

স্থানীয়রা জানায়, ৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ শিক্ষাসফরে যায় তানোর উপজেলার নারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখার জন্য বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়। এ সময় সহকারী শিক্ষক নবিউল ইসলাম নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একা পেয়ে তার সঙ্গে পাশাপাশি বসে কয়েকটি ছবি তোলেন। পরদিনই সেই ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন নবিউল।

ওই দিনই ফেসবুকে শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীর ছবি দেখে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্কুল ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

তবে এ ঘটনার পরপরই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক, প্রধান শিক্ষক আইউব আলী ও বাধাইড় ইউপির যুবলীগ সভাপতি গণেশের নেতৃত্বে অফিস কক্ষেই সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে সহকারী শিক্ষক নবিউল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা তাদের হাতে দিয়েছেন নবিউল।

ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, “আমি কোনো টাকা নেইনি। তবে এ ঘটনার পর আমার মেয়ে লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ওই শিক্ষকেরও অপসারণ দাবি করেছি।”

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক নবিউল ইসলামের দাবি, তিনি প্রতিহিংসার শিকার। কারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক পবিত্র। অভিভাবক ও বন্ধুর মতোই। আর ছবি তোলার বিষয়টি তেমন কোনো ঘটনাই নয়। অসংলগ্ন বা খারাপ উদ্দেশ্যেও ছবি তোলা হয়নি। কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনাকে পুঁজি করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। জরিমানা করে তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

এদিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক জানান, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর সেই জরিমানার টাকা ছাত্রীর বাবাকে দেয়া হবে। কারণ সে গরিব মানুষ। ভবিষ্যতে মেয়ের কাজে লাগবে। তবে টাকা না দিয়ে থাকলে আজকালের মধ্যেই দিয়ে দেয়া হবে।

তানোর উপজেলার মাধ্যমিক অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে ঘটনাটি শুনেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত