artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

যুবক অনার্যের কবিতা

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬০০ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৬১৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭


যুবক অনার্যের কবিতা - শিল্প-সাহিত্য

তৃতীয় বিশ্ব

গোলাপের কাঁটা হিসেবেও ওরা আমাকে রাখতে চাইলো না

অথচ আমি জন্ম নিয়েছিলাম গোলাপের বৃক্ষ হয়ে

 

তাহারা

আমি তার কাছে গেলাম বলা যায় তার সান্নিধ্যে গেলাম

দেখলাম- তিনি সদালাপী ধ্যানমগ্ন কখনো গম্ভীর এলোমেলো

উশৃঙ্খল বোহেমিয়ান। তিনি এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারক

কিংবা কবি। চিত্রশিল্পী হয়তো বা। নিজের সম্পর্কে

বলতে পছন্দ করেন- যেহেতু কবি, তিনি তাই বোহেমিয়ান

সন্ন্যাসী যাযাবর... মাটি মদ মাংস আর অনন্ত প্রহর...

অনেকটা আলোছায়া তার সঙ্গে কেটে গ্যালো অনেকটা বছর

বুঝে নিতে পারি খুব গভীরে গোপনে তিনি গৃহী- গতানুগতিক অতঃপর

 

নির্বাসিত নক্ষত্রের গান

নির্ভীক সেই বালকের পক্ষ সমর্থনকারী উকিল সতীশচন্দ্র চক্রবর্তী

বলেছিলো- তুমি কি জানো যে তোমাকে বাঁচাতে রংপুর থেকে

আমরা ক’জন উকিল এসেছি ? কিন্তু তুমি তো আগেই নিজেকে

অপরাধী বলে স্বীকার করে বসে আছো!

মাথা উঁচু করে সে বলেছিলো- কেন স্বীকার করবো না !

উত্তর শুনে সকলে স্তম্ভিত

মৃত্যু দণ্ডাজ্ঞার পর তাকে উদাসীন আর উচ্ছ্বল দেখে

বিচারক ভেবেছিলেন- আসামিকে যে চরম দণ্ড দেয়া হয়েছে

তা সে বুঝতে পারেনি। ফাঁসির হুকুমের পর জজ তাকে

জিজ্ঞেস করলেন- তোমার প্রতি যে দণ্ডের আদেশ হয়েছে

তা কি তুমি বুঝতে পেরেছো ?

সে হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিল- হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি

অন্তিমকালের বন্ধু কালিদাস বসুকে হৃষ্টচিত্তে সেই বালক

বলেছিল, পুরাকালে রাজপুত রমণীরা যেমন নির্ভয়ে

আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মরে যেতো আমি ঠিক সেইরূপ

নির্ভয়ে প্রাণ দিয়ে যাবো

চৌদিকে ক্রমশ বেড়ে উঠছে কিংসফোর্ড

একশ বছর পর

মৃত্যু আর জীবনের অগ্নি নিয়ে

বাঙলায় একটিও ক্ষুদিরাম নেই

 

না-মানুষের গল্প

আমার সম্মুখে ওরা বসে আছে। একজন হিন্দু অপর জন মুসলমান। এই বিভাজন

ধর্মীয় কিংবা সামাজিক। সমাজ বা ধর্ম ওদের নামকরণ করেছে- হিন্দু আর

মুসলমান। ইসলাম ধর্মে খোদাই করা আছে- মুসলমান মুসলমানের ভাই

মানুষ মানুষের ভাই- এই কথা কোনো ধর্মে উৎকীর্ণ হয়ে আছে কিনা

আমার জানা নেই। বলছিলাম ওদের কথা। ব্যাপারটা এই- ওদের সঙ্গে

আমি কথা বলছিলাম। একজন বিউটি রানী সাহা-সামাজিক বা ধর্মীয় হিন্দু

অপরজন মোসাম্মৎ রুবিনা- সামাজিক বা ধর্মীয়ভাবে মুসলমান

তৃতীয় ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ আল মামুন। নাম থেকে আঁচ করা সহজ-

ইনি একজন মুসলমান। কিছুক্ষণ পর মামুন চলে গিয়েছিল। হিন্দু মুসলমান

ধর্ম ঈশ্বর- এইসব সম্ভবত মামুনের ভালো লাগছিলো না। যা-কিছু কথা

আমিই বলে যাচ্ছিলাম। ওরা তেমন কিছু রা করছিল না। আমি বলছিলাম-

এখানে আমরা চারজন আছি। ছুরি দিয়ে পোছ দিলে আমাদের হাত থেকে

যে-রক্ত বের হবে তার রঙ- লাল। আমরা চারজন পৃথিবীতে একই পদ্ধতিতে

এসেছি। একটি দ্বীপে চার ধর্মের চারটি শিশু রেখে আসলে ওদের

সাদা চোখে দেখে চিহ্নিত করার উপায় নেই- কে কোন ধর্মের। একটি শিশু

কিছু বুঝে উঠবার আগেই তাকে বিশেষ কোনো ধর্মের তকমা

এঁটে দেয়া হয়। সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে তার মননের শার্সিতে

ঢুকিয়ে দেয়া হয়- হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান। অথচ সকল মানুষের

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একই রকম। অর্থাৎ সকল মানুষের রক্ত মাংস হাড়

জেনেটিক্স জন্ম-পদ্ধতি অভিন্ন প্রকারের। যদি তা-ই হয় তাহলে

মানুষকে বিভিন্ন ধর্মে বিভক্ত করে দেয়া নিশ্চিতভাবেই অবৈজ্ঞানিক

এবং অদ্ভুত। আমি ওদেরকে একটি প্রস্তাবনার কথা বলি- চলো

পৃথিবীর মানুষকে আমরা আহ্বান জানাই- যারা আস্তিক কিংবা

ঈশ্বরের একত্ববাদে বিশ্বাসী তারা সবাই একদিন বিশালতম ময়দানে

দাঁড়িয়ে তাদের ঈশ্বর ভগবান খোদার উদ্দেশে প্রার্থনা করবে-

হে খোদা হে ঈশ্বর হে ভগবান যদি তুমি সত্য হও তবে

নেমে আসো লৌকিক পৃথিবীতে। ঘোষণা দাও তুমি আছো। আজ থেকে

কোনো ধর্ম নেই কিংবা সকলেই একটি ধর্ম পালন করবে

কারো কাছে যাবে যিশু কারো কাছে গৌতম কারো কাছে কৃষ্ণ

মহাপুরুষদের এরকম গোষ্ঠীবদ্ধতা আমাদের কাছে বিভ্রান্তিকর। আমাদের

কোনো মহাপুরুষ প্রয়োজন নেই। অক্ষিগোলক বরাবর হে ঈশ্বর

স্বয়ং তোমাকে চাই। মহাপুরুষদের প্লাটফর্ম নিয়ে মানুষেরা মানুষ না হয়ে

হয়ে গ্যালো হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুর্খ আর

অবৈজ্ঞানিক প্রাণী। আমাদের আহ্বানের পর যদি কোনো ঈশ্বর

বা ভগবান নেমে না আসেন তখন সকলেই ধর্ম ত্যাগ করে

রূপান্তরিত হবো সমস্বরে একটি মাত্র অভিধায়- মানুষ মানুষ মানুষ

কথা শেষ করে জানতে চাইলাম- তোমরা কি আমার এই প্রস্তাবে

সম্মত আছো? ওরা ম্লান হেসে উচ্চারণ করেছিল- এটা কি

আদৌ সম্ভব! উত্তরে কিছুই না বলে আমিও হেসেছিলাম

হেসেছিলাম এই ভেবে- আমার স্ট্রেইট প্রস্তাবনায় পৃথিবীর

তাবৎ ধর্ম বিশ্বাসী লোকেরা- এটা কি আদৌ সম্ভব- এই কথার

মধ্য দিয়েই উত্তর বা প্রস্তাবনা এড়িয়ে যাবেন অনায়াসে। বস্তুত

পৃথিবীর মানুষেরা শুধুই মানুষ না হয়ে ধার্মিক বা

ধর্মকেন্দ্রিক মানুষ হিন্দু মুসলমান হয়ে বেঁচে থাকতে সুখ পায়

সম্প্রদায়প্রবণ এই সুখ শুধু জন্ম দিয়ে যেতেছে একটি আদিম

ও অবৈজ্ঞানিক পৃথিবী যেখানে একদিন ক্ষমতাই হবে মানুষের শেষ ধর্ম

নিউজবাংলাদেশ.কম/ এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত