artk
১ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ১৬ আগস্ট ২০১৭, ৮:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করলেন সুমী

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১৩১ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৪০ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭


স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করলেন সুমী - জাতীয়

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ব্যবসায়ী স্বামী নুরুল ইসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী সুমী।

হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন তিনি।

সুমী জানান, স্বামীর জুয়া খেলা নিয়েও তার (সুমী) সঙ্গে প্রায় সময়ই ঝগড়া হতো।

স্বামী নুরুল ইসলামকে না জানিয়ে কবি ও গীতিকার সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন নাগরীর সঙ্গে ভারতে বেড়াতে যেতে চেয়েছিলেন সুমী। এজন্য সুমির পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছিল। শাহাবুদ্দীন নাগরী নিজেই সুমীর স্বামী নুরুল ইসলামের কাছে পাসপোর্ট করতে দিয়েছিলেন। নাগরীর কাছ থেকে এ কারণে টাকাও নিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। কিন্তু অন্য পুরুষের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার বিষয়টি তার স্বামী মেনে নিতে পারেননি।

তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, ঢাকায় আসার পরে শাহীন নামের এক নারী সুমীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নাগরীকে। পরিচয়ের পর থেকেই সুমীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। নুরুল ইসলামের ও সুমীর সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতেন শাহাবুদ্দীন। আর এ টাকার মধ্য থেকে একটি অংশ নিয়ে রোজই জুয়া খেলতের সুমীর স্বামী নুরুল ইসলাম।

তারা আরো জানান, স্বামীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুমী। নুরুল ইসলাম ব্যবসায়ী ছিলেন না। তিনি প্রায় সময় জুয়া খেলায় মেতে থাকতেন। নাগরী ছাড়া সুমীর কাছে যেসব পুরুষ আসত, সেই টাকার একটা অংশ নিয়েই নুরুল জুয়া খেলতেন। স্ত্রীর এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড জানতেন নুরুল ইসলাম।

সুমীর ফ্ল্যাটে শাহাবুদ্দীনের নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তারা।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সুমী তথ্য দিলেও শাহাবুদ্দীন নাগরী মুখ খুলছেন না।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের শোয়ার ঘর থেকে নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাহাবুদ্দীন নাগরীর নারীপ্রীতির বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট ছিল তার সহকর্মীদের মধ্যে। অবসরের আগ পর্যন্ত মাঝে মধ্যেই সুন্দরীরা হাজির হতেন তার অফিসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় এসব বিষয়ে কথা বলার সাহস করতেন না কেউ।

পুলিশ জানায়, সুমী নুরুল ইসলামকে বিয়ে করার আগে বাবু নামের আরেকজনকে বিয়ে করেছিল। বনিবনা না হওয়ায় ভেঙে তার আগের সংসার। পরে সুমী আগের স্বামীর নামে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলাও করে।

এরপর বাগেরহাট থাকা অবস্থায় নুরুল ইসলামের সঙ্গে সুমীর প্রথম পরিচয় হয়। তিন বছর আগে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে সুমী নানা প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। এতে নুরুল ইসলামের সহায়তা ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে সুমীকে নিয়ে বিত্তশালীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন নুরুল ইসলাম। সম্পর্ক তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা দু’জন। এরই মধ্যে শাহীন নামের এক নারীর সঙ্গে সুমীর পরিচয় হয়। শাহীনও বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আর এ শাহীনের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল শাহাবুদ্দীন নাগরীর। শাহীনের মাধ্যমেই এক অনুষ্ঠানে সুমী ও নাগরীর পরিচয় হয়। তারপর থেকেই নাগরী ও সুমীর মধ্যে সখ্য হয়। দীর্ঘদিন সম্পর্ক রক্ষার পর সুমীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় নাগরী। এলিফ্যান্ট রোডের ডম-ইনো ভবনের ফ্ল্যাটটি নাগরীর জন্য ছিল একটি বিশেষ রুম। মূলত সেই রুমেই নাগরী প্রায়ই সময় কাটাতে যেতেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত