artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ডিবি এসির নেতৃত্বে ক্লাবে ‘ডাকাতি’, ১১ জন সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০৫৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০৫৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭


ডিবি এসির নেতৃত্বে ক্লাবে ‘ডাকাতি’, ১১ জন সাময়িক বরখাস্ত - জাতীয়
ছবি প্রতীকী

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রুহুল আমীন সরকারের নেতৃত্বে কাফরুলের নিউ ওয়েব ক্লাবের জুয়ার আসরে হানা দিয়ে লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

সেখানে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করে পালানোর সময় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে আটক হন ওই দলের ১১ সদস্য। পরে তাদের কাফরুল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার এদের মধ্যে এসি রুহুল আমীন সরকারসহ ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

নিউ ওয়েব ক্লাবের সভাপতি শফিউল আজম এ ব্যাপারে বলেন, “সন্ধ্যার পর তারা ক্লাবের ভেতর ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদবী উল্লেখ করে একজন অপরজনকে সম্বোধন করছিল তারা। এতে বোঝানোর চেষ্টা করছিল তারা যৌথ বাহিনীর সদস্য। সবার মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেয় তারা। পরে ক্লাবের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়।”

এর আগেও এ বাহিনী একই ক্লাবে হানা দেয়। যা তাদের সিসি টিভি ‍ফুটেজে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ফুটেজ ১৭ মার্চ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর ক্লাবের ভেতর জুয়ার আসর বসেছিল। সেখানে আচমকা ১০-১২ জন ঢুকে পড়ে। তারা অস্ত্র উঁচিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে। তখন তারা বলতে থাকে, ‘একটু নড়াচড়া করার চেষ্টা করলেই গুলি। কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি চলবে না।’ ক্লাবের সবাই তখন চুপ হয়ে যায়। 

সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তারমধ্যে দামি সেটগুলো তারা একটি পলিথিনের ব্যাগে রাখে। সবার কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেয়া হয়। বেরিয়ে যাওয়ার সময় হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে চারজনকে নিয়ে যায়। 

এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ভাষ্য, ‘‘এ ঘটনায় ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জামিল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।” 

এদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ ১১ জন আটক হওয়ার ঘটনায় বিস্তারিত লিখে মিরপুরের ডিসি বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আটকদের পরিচয় দেয়া হয়েছে ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে। 

তারা হলেন-ডিবির এসি রুহুল আমীন সরকার, পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন, এসআই জাহিদুল ইসলাম, এসআই লুৎফর রহমান, এসআই মাহবুবুর রহমান, এসআই তোফাজ্জল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল লতিফ, কনস্টেবল আজিজুল হক, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম খান ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম এবং গাড়িচালক জিল্লুর রহমান। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে র‌্যাব-৪-এর সদস্য পরিচয়ে চারজনকে আটক করে সাদা মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাচ্ছিল এসি রুহুল আমীনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল। খবর পেয়ে কাফরুলের ১৪ নম্বর বিট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাফরুলের পুলপাড় দিল্লি সুইটসের সামনে গাড়িটিকে চ্যালেঞ্জ করেন। 

এ সময় একজন র‌্যাব-৪-এর মেজর মোসাদ্দেক পরিচয় দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সড়কে যানজট থাকায় গাড়ি সামনে এগুতে পারছিল না। পরে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে মিলিটারি পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ডিবি সদস্যদের আটকের পর তাদের কাছ থেকে জাল মুদ্রা ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। এসব দিয়ে ওই চারজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহাম্মদ বলেন, “পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।” 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত