artk
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৬ মে ২০১৭, ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে                    

শিরোনাম

মানা হচ্ছে না সরকারি নিয়ম
রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য

জাহিদ হাসান মাহমুদ মিম্পা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯৫৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ২০ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৪৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭


রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য - শিক্ষাঙ্গন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলেছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান নাসিম যৌথভাবে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের উপর প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কোচিং করান। প্রতিটি ব্যাচে ৩০ জন করে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে তারা দুজন কোচিং করান। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে স্কুলের পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবিভাবকের প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন করলে ক্লাস শুরুর পূর্বে অথবা পরে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর নিয়ম রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে রশিদের মাধ্যমে ১৫০ টাকা অতিরিক্ত ক্লাস ফি নেয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সময় ক্লাস করানো যাবে। অভিভাবক এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, অথচ এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোচিং কারাচ্ছেন ওই দুই শিক্ষক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এবি উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারের এ নীতিমালা ভঙ্গ করে তারা ৩টি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিমাসে জনপ্রতি তিনশ টাকা নিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এতে প্রতি মাসে ওই শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট নীতিমালা অনুসারে ১০% অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার বিধান থাকলেও ওই দুজন শিক্ষক তা দেন না। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কেউ অতিরিক্ত ক্লাসের টাকা দিতে না পারলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তা মওকুফ করতে পারবেন। কিন্তু কোন শিক্ষার্থীর টাকাও মওকুফ করা হয়নি। এ দুজন শিক্ষকের কোচিং বাণিজের উপর অনেক শিক্ষার্থী না পড়ার ইচ্ছা থাকলেও তাদের পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রহনপুর হুজরাপুর গ্রামের ৭ম শ্রেণির ছাত্র সাফায়াত জামির ও অপর ছাত্র শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে জানায়, স্কুলে কোন ক্লাস হয় না বললেই চলে। তাই তাদের ভালো ফলাফল করার জন্য স্যারদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়।

আলীনগরের ৭ম শ্রেণির ছাত্র আসিফ হাসান জানায়, তার বাড়ি আলীনগর থেকে রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুরত্ব ৪ কিলো মিটার। ভোর সাড়ে পাঁচটায় চোখে ঘুম নিয়ে তাকে সাইকেল চালিয়ে এই দুজন শিক্ষকের কাছে প্রইভেট পড়তে আসতে হয়। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী গোমস্তাপুর, বোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পড়তে আসে।

এদিকে গত ১৬ এপ্রিল এই প্রতিবেদক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ওই দুজন শিক্ষক স্কুল থেকে সটকে পরেন। পরে এই প্রতিবেদককে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য মোবাইলে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে রহনপুর পুরাতন বাজারের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. সেন্টু অভিযোগ করেন, রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান নেই বললেই চলে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার নিকট অনেকবার এ বিষয়ে অভিয়োগ করেও কোন প্রকার সুরাহা পাননি বলে জানেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবক এই দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় এই দুজন শিক্ষককে ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নিকট আবেদন করেন। কিন্তু তার বদলিজনিত কারণে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাদের বিরদ্ধে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

তাদের কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবিতা চন্দর নিকট জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “অভিভাবকদের নিকট থেকে আবেদন নিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস করানো হচ্ছে।” কিন্তু নীতিমালা অনুয়ায়ী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কোন আবেদন দেখাতে পারেননি তিনি। সরকারি নীতিমালায় কোচিং ফি ১৫০টাকা রশিদের মাধ্যমে গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি টাকা গ্রহণেরও কোন প্রকার রশিদ দেখাতে পারেননি।

পরে প্রধান শিক্ষক সব দোষ শিকার করে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান নাসিমের কোচিং ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফিরোজ মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “এই দুজন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চ.দ.) ফেরদৌসি বেগমকে বলেন, “সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে তারা পড়াচ্ছে, আমি আমার ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করবো।”

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলামের ০১৭১৮২৮০৭৬০ সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত