artk
১০ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

বিএনপির মহানগর কমিটি
তরুণরা স্থান পেলেও যোগ্যদের মূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ

রফিক রাফি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২৫৫ ঘণ্টা, বুধবার ১৯ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২১৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ২০ এপ্রিল ২০১৭


তরুণরা স্থান পেলেও যোগ্যদের মূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ - রাজনীতি

দীর্ঘ অপেক্ষার পর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটি ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কমিটি কেমন হয়েছে তা নিয়ে দিনভর নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

চাওয়া পাওয়ার অসন্তোষ নিয়ে দিনভর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন তারা।
অতীতের চাইতে অপেক্ষাকৃত তরুনদের কমিটিতে স্থান দিলেও নেতাকর্মীরা বলছেন এটা মন্দের ভালো কমিটি। তবে, দক্ষিণে সোহলকে নেতৃত্বে আনলেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবুল বাশার বেমানান। অপরদিকে কম যোগ্যতা আর নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন নেতাদেরকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এছাড়া সাবেক সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের মতো নেতাকে মূল্যায়ন না করায় নগর কমিটিকে বেশ বেগ পেতে হবে এমন দাবি তাদের।

তারা বলছেন, প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ঘুরে ফিরে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাস। দেরিতে হলেও সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বের অবসান হয়েছে। তবে তাদের বলয় মুক্ত হতে পারেনি। আধিপত্য ধরে রাখতে তারা নিজ নিজ বলয়ের লোকেদের প্রাধান্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর বলেছেন, কমিটিতে পরীক্ষিত সৈনিকদের স্থান দেয়া হয়েছে। কমিটির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীরা বলছেন, তরুনদের স্থান দেয়ার চেষ্টা করা হলেও যোগ্য অথচ সিনিয়রদের অবমূল্যায়ন করা ঠিক হয়নি। তবে সাদেক হোসেন খোকা দেশে না থাকায় মির্জা আব্বাস বলয় থেকে এই কমিটি অনেকটা রাহুমুক্ত হয়েছে বলেও এক ধরনের তৃপ্তির ঢেকুর নিতে দেখা গেছে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে।

নগর কমিটি ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে, সাবেক সদস্য সচিব আব্দুস সালামকে কোথাও না রাখা, আবুল বাশারকে দক্ষিণের সাধারণা সম্পাদক করা। উত্তরে কাইয়ুম-হাসানের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না তারা। তবে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নেতৃত্বে আনার বিষয়টাকে সবাই ভালো ভাবেই নিয়েছেন।
মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মির্জা আব্বাস বলয়ের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা দলের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির দুই অংশেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার অনুগত বলয়ের চিহ্নিত কোন নেতাকে রাখা হয়নি। তবে কমিটির অন্যান্য পদে তার প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যার কারণে অনেক ত্যাগী আর মাঠের নেতাকে বলি দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ধলপুর ইউনিয়নের বাদল সরদার অন্যতম। আবার মির্জা আব্বাস বলয়কে ঘোষিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে গিয়ে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা নবীউল্লাহ নবীকে অনেক নিচে নামানো হয়েছে। এসকল কারনে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে দলের অভ্যন্তরে।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ওই দুই কমিটিতে অনেক অপরিচিত নেতৃবৃন্দকে রাখা হয়েছে। যাদেরকে বিগত আন্দোলনগুলোতে কখনো দেখা যায়নি। কিংবা নেতাকর্মীদের সাথেও তাদের কোন প্রকার যোগাযোগ ছিল না। শুধুমাত্র তদ্বির আর সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। আবার যে সকল নেতৃবৃন্দ বিগত আন্দোলনে নিজে মাঠে থেকেছেন, নেতাকর্মীদের পার্শে দাঁড়িয়েছেন তাদের অনেককে পদায়ন করা হলেও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, বংশাল এলাকার মো. মোহন বগত আন্দোলনে তার সর্বাত্মতা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকলেও তাকে করা হয়েছে ১৭ নাম্বার সহ সভাপতি আর মাঠের রাজনীতিতে কোন অংশগ্রহণ না থাকলেও মির্জা আব্বাসের অনুসারী হিসেবে মুগদা এলাকার শামছুল হুদাকে এক নাম্বার সহ সভাপতি এবং ইউনুস মৃধাকে দুই নাম্বার সহ সভাপতি করা হয়েছে। এরকমভাবে সবুজবাগের মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, গোলাম হোসেন, বংশালের ইশরাত মির্জাকে ৮, ১০ ও ১৪ নাম্বার সহ সভাপতি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইশরাত মির্জা রাজনীতিতে না থাকলেও মির্জা আব্বাসের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলে এই পদে এসেছেন। এমনটিই জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির সর্বাধিক পরিচিত মুখ আর অভিজ্ঞ নেতা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে কোথাও রাখা হয়নি। তেজগাঁও এলাকা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারকে নতুন কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি বলে ক্ষুব্ধ তার অনুসারীরা।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সংবাদ মাধ্যমে ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই অংশের আংশিক কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠান। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কমিটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবি খান সোহেলকে সভাপতি এবং কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি এবং পল্লবী এলাকার সাবেক কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে ২টি যুগ্ম সম্পাদক পদ খালি রাখা হয়েছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তরে কম যোগ্যতা আর নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন নেতাদেরকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এরে মধ্যে এম এ কাইয়ুম দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মামলা জটিলতার কারণে মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। ইটালিয়ান নাগরিক তাবেল্লা সিজারিয়ান হত্যা মামলার তিনি এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। তাই খুব শির্ঘ্যই তিনি দেশে আসতে পারছেন না বলেই বিশ্বাস নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী থাকলেও সম্প্রতি তিনি দেশে অবস্থান করছেন। তার ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি পরিবারের সকলেই এখন মালয়েশিয়ায়। তাই তাদের হাতে মহানগরের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিয়ে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড কি করতে চাচ্ছেন তা বুঝতে পারছেন না নেতাকর্মীরা।

মহানগর বিএনপি (উত্তর) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত এম কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে রয়েছেন সে ক্ষেত্রে তাকে দিয়ে দায়িত্ব পালন কতটা সম্ভব হবে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “মিথ্যা মামলায় যাদের দূরে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে (এম কাইয়ুম) যাদের এ কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা যে ভূমিকা রাখতে পারবেন না তা নয়, বরং তারাও একটি বড় ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।”

তবে কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের সভাপতি এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “ক্ষোভ, দুঃখ থাকবে না। বরং ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায়ে সবাইকে নিয়েই আগামীর আন্দোলন করা হবে। তাছাড়া যারা পদ পায় নাই তাদের এখনও সুযোগ আছে। সে ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে।”

আর বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, “দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নেত্রীর (খালেদা জিয়া) তত্ত্বাবধানে একটি সত্যিকার অর্থে ভালো কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যে সমস্ত পদ এখনও শূন্য আছে সেখানেও কাউকে নেয়ার সুযোগ থাকবে।”

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নিউজবাংলাদেশকে জানান, অপেক্ষাকৃত তরুনদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। যারা বিগত দিনে আন্দোলনে সংগ্রামে ছিলেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী দিনে এই নতুন কমিটি গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য