artk
৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

আজাদুর রহমানের কবিতা

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৫৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৮ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৩৩ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৮ এপ্রিল ২০১৭


আজাদুর রহমানের কবিতা - শিল্প-সাহিত্য

এক.
গতকালের ইচ্ছের মতন

একদিন কী মনে করে সোজা পূর্ব দিকে
চলে গিয়েছিলাম, পাথার থেকে পাথারে
গ্রামের পরে গ্রাম পার হয়ে দেখি-
শাঁখা পরে শুয়ে আছো নদী,
তোমার করুণ চোখে
নুয়ে ছিল আমার বাল্যকালের ছায়া,
দুই কুলে ছপ ছপ পানি
মধুমাস মধুময়,
শামুকেরা চেটে খায়
রূপালি সময়
জলের দরে, অতঃপর আর
পার হতে পারিনি বরং
ফিরে এসে বুঝেছি
দুনিয়ার সব দায়িত্ব আমার নয়!
অনেক দিন একা ছিলাম
কিছুই জানতে পারিনি,
শুধু আঙুলের ইচ্ছে খুলে
উড়ে গেছে দরখাস্ত
গতকালের ইচ্ছের মতন।

 

দুই.
ঘুম ঘুম কুয়াশা

এখন একবার হৃদব্রা খোলো প্রিয়
দ্যাখো বন্দরে
শীতের ভোর
ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়
চুম্বনভর্তি জাহাজ
ডুবে আছে ঘুম-ঘুম কুয়াশায়।
প্যারিসের কাপ্টেন, ঠোঁটের চুরুট
সেসব ফেলে উড়ে গেছে
গোলাপিনদী অন্যশহরে-
দ্রাক্ষা রসদ আনন্দঘন পরিবেশে
রোমান রমনীর হাঁটু অবধি ঘন সোনাচুল
আঙুলের ভিতর গচ্ছিত হয়ে আছে
আঙুল।

এখন একবার হৃদব্রা খোল প্রিয়
দ্যাখো, বোরখার বিক্রি বেড়ে গেছে অনেক
ওদিকে বাজি চলছে
তলে তলে
ফিতেহীন সংসার, পাজামা
আয়ু-কপাট সম্পর্ক থাকছে না
কোথাও
নখ বেয়ে নেমে যাচ্ছে বিশ্বাস, আংটি
স্পর্শের সুঁতো খোলো প্রিয়
দ্যাখো নরম ওম ভেঙে
চট্ চট্ করে খুলে যাচ্ছে
জানালার বোতাম।
হৃদব্রা খোলো প্রিয়
দ্যাখো বন্দরে
শীতের ভোর
ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়
চুম্বনভর্তি জাহাজ
ডুবে আছে ঘুম-ঘুম কুয়াশায়।

তিন.
জন্মদাগ

ভাতের ভিতরে মুক্তি ছিল।
ক্ষুধার। ধানের শরীর জেগে রেখেছিল
আমার জন্মদাগ। আর আমার বাবার পায়ের তলায়
জমে যাওয়া মাটি থেকে গড়ে উঠেছিল
প্রতিমা এবং প্রাসাদ। তারপর ক্রমে
সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো মরফিন সুঘ্রাণ
পাতায় পাতায় আটকে গেল কংক্রিট।
এখন মৃত পেরেকের গান শুনি
স্পর্শ নেই। হাত নেই। মাটি নেই।
নদী জেনেছে যুদ্ধরাতের সংগম
স্বাধীনতার দুপুরে কত কত তামা রক্ত
ধানের শরীর জেগে রাখে আমার জন্মদাগ।

চার.
ইচ্ছেগুলো খরগোস হয়ে যায়

বয়স বেড়ে গেলে ইচ্ছেগুলো
অদৃশ্য খরগোস হয়ে যায়, তারপর
কখনও হামাগুড়ি,
কখনওবা ক্রলিং করে করে
দেয়াল টপকায়
বাড়ির বাইরে চলে যায় সে
--চোখে ধুলো দিয়ে
খোসা পড়ে থাকে বিছানায়,
সংসারে।
খোসাই কথা বলে, হুঁ হাঁ করে।
খরগোস চলে যায় অন্যখানে
আড্ডায়, বালকদের মক্তবে
সে চলে যায়
অন্যবাড়ির পড়ার টেবিলে
বালিকাদের চোখের কাজলে
ঘুম ঘুম বইয়ের ভাঁজে।
খোসাটাই পরে থাকে কেবল
খরগোস চলে যায়
চোখে ধুলো দিয়ে
সে প্রতিদিন বাইরে চলে যায়।

পাঁচ.
আধখানা ছায়া

ঘুমের মধ্যে মদ, মদ খুলে খুলে
সুবাতাস, বহুকালের ঘ্রাণ
গলতে থাকে বসন্তকাল
লাল গোলাপি আইসক্রিম
দশ পয়সার ললিপপ আহা
অতি গোপনে নিরস্ত্র নীলকণ্ঠ
তোমার ঠোঁটের মত লাবন্যদানা
ঠুকরে খায় কালো দুপুর
ওড়নার বয়সি মেয়েরা
আমাদের নিয়ে কী ভেবেছিলো
কে জানে!
শুধু তুমি, তোমার হৃদয় ভার
ছোট ছোট সন্ধ্যার কামিজ
পাড়া ধরে ঝাঁকড়া জোনাকি
কী দারুণ সুরে সুদূরে
কবুল করে নেমে আসে
তোমার কপালি মুখ
কোন ভোরে বৃষ্টি হলে
জামতলায় জমে থাকে
আধখানা ছায়া
ঘন হয়ে আসা ভাটবন
দোদুল্যমান হলুদ ফুল
পাশে রেখে সবুজ ছুরি
প্রাগৈতিহাসিক পাঁথরে ঘুমিয়ে ছিলাম
হাজার হাজার বছর

ছয়.
আগুন

এক নারী, এক পুরুষ কয়টা আগুন নেভাতে পারে!
পুরুষে সোপর্দ তারও হৃদয় দাউ দাউ পুড়ে যায় মন পিঞ্জিরায়,
পুরুষ ততোধিক আগ্নেয় মতিছিন্ন গ্রহ,
অবিরল হানা দেয় অন্যঘরে।
পুরুষেরা একদিন যুদ্ধ চেয়েছিল,
আগুন জ্বালিয়ে তছনছ করতে করতে চেয়েছিল শান্তিভুমি,
নারীরা চেয়েছিল আদিম সমাজ, বাদামি
গ্রহ। যুদ্ধ হয়নি,
বাদামি গ্রহ সরে গেছে অন্য ছায়াপথে।
-এসব সত্য অস্বীকার করে
আমরা সংসার করি
নিয়ম করে বিছানা পাতি
একলা শুয়ে থাকে
আমাদের মৈথুনপ্রিয় হস্তদ্বয়।

সাত.
আমার নামে প্রেমিক পতঙ্গ পোড়ে

নিঃসঙ্গ ঘড়ির কাঁটা অথবা এই মগ্ন হাত
অবিরল গ্রহের মত ঘুরে যায়,
তোমার ছায়াপথে তখনও হ্যাজাক জ্বলে
পতঙ্গ পোড়ে নদীবিষন্ন রাতে
সেখানে অতীত আয়ুহীন, পরশু রাতের
গ্লাস থেকে ঝরে পড়ে তোমার ঠোঁটের নূর
তোমাকে যে কথা কোনদিন বলা হয়নি
তার মখমল গোলাপিতে পবিত্র হয়ে আছে
পদাবলী, অনাবিল পাঁজরের উদগত
হাসনাহেনা, তোমার জানার বাইরে
এখানে নীল রাত, সেতারের মত
কুয়াশা শিফন, কফিনের প্রিয় রঙে জোছনা-শরবত,
আমাকে নেয়নি মধ্যপথ, নৈশ নাবিক
চুরুট রুমাল- সব নিভে গেছে
হুইশেলের প্রগাঢ় অন্ধকারে,
আমাকে নেয়নি অন্য কেউ।
পিথাগোরাসের আঙুলে থেমে যাওয়া
জ্যামিতির মত শুধু
কব্জিতে লেগে আছে সেই কিশোরি-ঘ্রাণ,
আটকে আছি আখিরাতের মধ্যাহ্ন ভোজে
আর কী
অদ্ভুত! তোমাকে ভাবলেই-
শাদা শাদা আলোতে উড়ে যায়
রাঁজহাস,
তোমার ছায়াপথে তখনও হ্যাজাক জ্বলে
আমার নামে প্রেমিক পতঙ্গ পোড়ে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত