artk
১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিশ্লেষকদের অভিমত
পতনে আতঙ্ক নেই

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২২৫ ঘণ্টা, রোববার ১৬ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২০২১ ঘণ্টা, রোববার ১৬ এপ্রিল ২০১৭


পতনে আতঙ্ক নেই - বিশেষ সংবাদ
ফাইল ফটো

ঢাকা: পুঁজিবাজারে ধারাবাহিকভাবে কয়েকদিন ধরে সূচক ডিএসইএক্স পতন দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ভর করছে। দীর্ঘ ছয়বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের সূচকের দরপতনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এটা পুঁজি কেড়ে নেয়ার কারসাজি কিনা এমন প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা  বেঁধেছে বিনিয়োগকারীদের মনে। ‘এ ধরনের চিন্তা থাকা ভাল, তবে দরপতনে আতঙ্কিত হওয়ার মতো এখনও কিছু হয়নি’ বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

 পরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: সেতুমন্ত্রী

তারা বলছেন, চলতি বছরের ঊর্ধ্বগতির পর গত কয়েকদিনের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন সন্দেহের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় মন্দা থাকার পর চলতি বছর চাঙ্গা হয় হলেও শেষ আট কার্যদিবসে বাজার কিছুটা নেতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিছুটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে বাজারে। এ দরপতনের কারণে আবারো আতঙ্কের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে পুঁজিবাজারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইতে গত সপ্তাহে কয়েকদিন দরপতন হয়। এ ধরনের দরপতন বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিক মনে করছেন না। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের দরপতন হওয়াটা স্বাভাবিক।

বিশ্লেষকরা বলেন, চলতি বছরে শেয়ারবাজার অনেকটা ফুলে ফেঁপে বেড়েছে। এ বাড়ার কিছু কারণ থাকলেও এতো বৃদ্ধির আলামত ছিল অজানা। তবে এটা সত্য যে, এ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে। বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগ। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশগ্রহণ করেছিল নিস্ক্রিয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এছাড়াও বাজার আগের চেয়ে চাঙ্গা হয়েছে। সবমিলিয়ে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ধারায় চলতি বছরেই লেনদেন পাঁচশকোটি টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের অধিকাংশ দিনের লেনদেন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। এ বছরের ৭৩ কার্যদিবসে সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬৯৩ পয়েন্ট। এর মধ্যে চলতি বছরের শেষ সাত কার্যদিবসে সূচক ডিএসইএক্স পতন হয়েছে ১৩১ পয়েন্ট। আবার লেনদেন হাজার কোটি টাকা থেকে কমে গত বৃহস্পতিবার ৬০০ কোটি টাকার কাছিকাছি নেমে এসেছে। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এ ধরনের বৃদ্ধির পর সেইসব শেয়ারে দর কমার পর নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেবে এটাই স্বাভাবিক।

পতন প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, “শেয়ারবাজারের দর কখনো স্থির অবস্থায় থাকে না। এ বাজারের ধর্ম শেয়ারদর ওঠানামা করা। একথায় কোম্পানির শেয়ার দরে বাইব্রেড থাকতে হবে “

চলতি বছরের সূচকসহ লেনদেন বেড়েছে। তাই বাজারের ব্যালেন্সের জন্যই দরপতন অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমান বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পতনে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি এখনও।”

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু আহমেদ বলেন, “বাজারে শেয়ার দরে উত্থান-পতন থাকবে। এতে ভয়ের কিছু নেই।”

বর্তমান বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চলতি বছরে সূচক ডিএসএক্স প্রায় সাতশ পয়েন্ট বেড়েছে। এরপর কয়েক কার্যদিবসে ১৩১ পয়েন্ট কমেছে। এটা স্বাভাবিক পড়ার মধ্যে রয়েছে।”

তবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউজ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোম্পানির কারণবিহীন শেয়ারদর বাড়াসহ সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক আচরণের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তাই আশাহত বিনিয়োগকারীরা তাদের আতঙ্কের কথা জানান নিউজবাংলাদেশকে।

এ প্রসঙ্গে লংকাবাংলা, ধানমন্ডি ও রয়েল সিকিউরিটিজ হাউজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন আতঙ্কের কারণে মার্কেটের ওপর বিনিয়োগকারীরা ভরসা হারাচ্ছে। কয়েকদিনের মন্দার কারণে যারা এর মধ্যে মুনাফা করেছেন তারা বিনিয়োগে ফিরছেন না। এ কথায় অতীতে যারা লাভবান হয়েছেন তারা এখন শেয়ার কিনছে না আতঙ্কের কারণে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন কিছুতেই যেন আস্থা রাখতে পারছে না বাজারের ওপর।

একই প্রসঙ্গে তামহা সিকিউরিটিজ হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, “সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারালে বাজারের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। তাই বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে আতঙ্ক রোধ করার এখনই উত্তম সময়।”

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুইকোটি মানুষের জীবিকা পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক গতির পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিএসইসি ও ডিএসইকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তারা।

শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ এমন মন্তব্য করে ডিএসইর ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, “এখানে যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন, তাদের অবশ্যই বাজার সম্পর্কে উত্তম জ্ঞান জরুরি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীকে লেনদেনে আরো পরিপক্ক হতে হবে। তাদের বিশ্লেষণ করে শেয়ার বেচাকেনা করতে হবে।”

বাজার পতন সম্পর্কে তিনি বলেন, “বৃদ্ধির সঙ্গে অবশ্যই কমা- এ ব্যালেন্স থাকাটা জরুরি।”

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিনিয়োগে আপনার পেশাদারিত্বের পরিচয় দিন।”

 নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/ এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য