artk
১৫ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২৮ জুন ২০১৭, ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা

আল মামুন, জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৫১ ঘণ্টা, শনিবার ১৫ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯২৩ ঘণ্টা, রোববার ১৬ এপ্রিল ২০১৭


নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা - ফিচার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলার নাসিরনগরের কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছে প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা। ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলা দেখতে ও নানা রকমের শুঁটকি কিনতে কুলিকুন্ডায় ভিড় করেছেন শত শত ভোজন রসিক মানুষ। টাকা বা কৃষিপণ্যের বিনিময়ে নিয়ে যাচ্ছেন পছন্দের শুঁটকি।

শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে রোববার বিকেল পর্যন্ত। মেলায় দুইশতাধিক দোকানি বসেছেন নানা জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে। রয়েছে ভারত থেকে আমদানি করা শুঁটকিও।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আনন্দের বন্যা। নাসিরনগর ও আশেপাশের এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এসেছেন শুঁটকি নিয়ে। রয়েছে বোয়াল, গজার, শোল, বাইন, পুঁটি, টেংরাসহ নানা জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এছাড়া, ছুড়ি, লইট্টাসহ  সামুদ্রিক মাছের শুঁটকির পাশাপাশি রয়েছে ইলিশের নোনা ডিম ও কার্প জাতীয় মাছের ডিমের শুঁটকিও।

স্থানীয়রা জানান, মেলাকে উপলক্ষ করে এলাকায় বেড়াতে আসেন মেহমানরা। জামাইরাও আসেন তাদের শ্বশুর বাড়িতে। তাদের আপ্যায়ন করা হয় মেলা থেকে কেনা শুঁটকি দিয়ে।

শুঁটকি কিনতে আসা সোরাপ মিয়া বলেন, “আমার ছোটবেলা থেকে এ মেলা দেখে আসছি। বাবার মুখে শুনেছি, তিনিও তার ছোটবেলা থেকে এ মেলা দেখে আসছেন। এ মেলা আমাদের নাসিরনগরের ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করে। তাই আমরা সবাই মিলেমিশে মেলার দেখাশুনা করি এবং শুঁটকি কিনি।”

শুঁটকি ব্যবসায়ী সঞ্জিবন ও মদন মোহন জানান, তারা ছোটবেলা থেকে এ মেলায় দোকান নিয়ে আসছেন। এবার তারা নানা জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি নিয়ে এসেছেন।

আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সুবল দাস জানান, স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত চাল, আলু, সরিষা, পেঁয়াজ রসুন, আমসহ নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি কিনে নেন। নগদ টাকার বিনিময়েও শুঁটকি কেনা-বেচা হয়।

মেলা তদারকির দায়িত্বে থাকা কুলিকুন্ডা গ্রামের মুরুব্বি হাজী রেনু মিয়া নিউজবাংলাদেশকে জানান, মেলা সম্পূর্ণ ইজারা মুক্ত। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি করা হয়।

নাসিরনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এতো বড় পরিসরে শুঁটকির মেলা আমার মনে হয় বাংলাদেশে প্রথম। মেলায় বাহারী রকমের শুঁটকি দেখে মন ভরে যায়। আগামী বছর থেকে মেলায় শুঁটকির মান যেন ভালো থাকে সেদিকে আমরা নজর দিব।”

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী নিউজবাংলাদেশকে জানান, মেলায় যাতে কোনো সমস্যা না হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মেলার জায়গাটি খুব অল্প। এটিকে আরও বড় আকারে করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

 
নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য