artk
৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ভাইয়ের হাত ধরে আমার বৈশাখ

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১০৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৫৪১ ঘণ্টা, শনিবার ১৫ এপ্রিল ২০১৭


ভাইয়ের হাত ধরে আমার বৈশাখ - অসম্পাদিত
মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (ফাইল ফটো)

ছোটবেলায় ভাইয়ের হাত ধরে দয়াগঞ্জ খালের পাশ দিয়ে ধুপখোলা মাঠের বৈশাখী মেলায় যাবার স্মৃতি আজো আমাকে তাড়া করে। সব ভুলে গেলেও এটা যেন ভুলবার নয়। আজও স্পষ্ট মনে পড়ে দুই ভাইয়ের হাত ধরে প্রথম বৈশাখী মেলা দেখা আমার। তাই বৈশাখের আগমন মুহূর্তে আমার ভিতর স্মৃতির পাখিরা ডানা মেলতে শুরু করে। শত ব্যস্ততায় ভুলতে পারি না সেই মেলা।

চৈত্রের শেষ রাতেই মার কাছে বড় দুই ভাইয়ের মেলায় যাবার বায়না। সেই বায়নায় যুক্ত হলাম আমিও। তখন আমি তৃত্বীয় শ্রেণিতে পড়ি। বৈশাখী প্রথম দিনে সকালে তৈরি হয়ে দুই ভাই যাবার সময় ঘুম ভাঙে আমার।

বৈশাখের হারিয়ে যাওয়া সেইসব স্মৃতি 

সেই বৈশাখ, এই বৈশাখ 

উঠেই দেখি আমাকে না নিয়ে যাচ্ছে মেলায়, তখন সেকি কান্না আমার। কান্না থামাতেই শেষ মেষ দুই ভাইয়ের নিতে হলো আমাকে মেলায়। আজও যেন সেই কান্নার পরে মেলায় যাবার তৃপ্তি, আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।  তাইতো বৈশাখ মানেই ব্যর্থতার পাহাড় ডিঙিয়ে প্রাণের উচ্ছাসে ভেসে যাওয়া।  বৈশাখ মানেই আমার ভাইয়ের হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো। মেলা মানেই ভীড়ে শত কষ্টেও ভাইয়ের ধরে রাখা। সেই সময়ে মেলা মানেই সবই নতুন, যা মেলা দিন শেষ হলে আবার এক বছর অপেক্ষা করা।

এরপর প্রতিবছর আগাম আনন্দবার্তা নিয়ে আসত চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি। সারারাত উদ্দীপনায় আমার ঘুম হতো না। যেমনটি হতো চাঁদ রাতের বেলায়। অনেকটা আধঘুমে থাকতাম কখন রাত পোহাবে। বৈশাখী মেলায় যাব। নাগরদোলায় ঘুরব। সবচেয়ে মজা পেতাম হাওয়াইমিঠাই খেতে। মেলায় গিয়ে হাওয়াইমিঠাই কিনতে না পারলে মনে হতো মেলায় যাওয়াটাই বৃথা। সাথে কিনতাম ধানের খৈ। কিনতাম খাবারের হাতি, ঘোড়া, ঘড়ি ও চকলেট।

বর্ষবরণে রাজধানী জুড়ে নানা আয়োজন

বৈশাখের সকাল বেলাতেই রান্নাঘরে দেখতাম মায়ের রান্নার ব্যস্ততা। নানা রকম ভর্তা, ইলিশ ভাজাসহ পান্তা ভাত তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন মা। এরপর দুপুরের খাবারের আয়োজনে লেগে যেতেন। তাই পহেলা বৈশাখের মানেই মায়ের হাতে সুস্বাদু মজার মজার খাবার।

এখন ভাবলেও অবাক লাগে। মেলায় গেলে আর বাড়ি ফিরে আসতে ইচ্ছে করত না। মনে হতো মেলাটা যদি আরও কিছুদিন থাকত তাহলে খুব মজা হতো। প্রতিদিন মেলায় যেতে পারতাম। ছোট্ট মনে কেবলই প্রশ্ন জাগত এত সুন্দর সুন্দর জিনিস নিয়ে কোথা থেকে আসে লোকগুলো। আবার কোথায় চলে যাচ্ছে। না গেলে কতো মজা হতো।

এখন আমার বাবা বেঁচে নেই। মা আছে কিন্তু বহুদূরে। চিরায়ত নিয়মে আজও বৈশাখ আসে। নববর্ষের উদ্দীপনায় মেতে উঠি আমরা। শহরের কোলাহল মুখর ব্যস্ততায় আমার মায়ের আয়োজনে উদযাপিত পহেলা বৈশাখের দিনগুলো আজও ভুলতে পারি না। ভুলতে পারি না সেই দয়াগঞ্জ খালের পাশ দিয়ে ধুপখোলা মাঠের বৈশাখী মেলায় কথা। আমার কানে আজও বাজে সেই বাঁশীর সুর। বৈশাখী মেলা থেকে কিনে যে বাঁশীর সুরে চারদিক মাতিয়ে তুলতাম আমরা। আজ মনে হয় আমার প্রাণের নির্মল উচ্ছাসটুকু জড়িয়ে আছে বাঁশীর সেই সুরের সাথে। তাই বৈশাখের আগমন মুহূর্তে ছোটবেলার কথা স্মরণ করে বুকের ভিতর অন্যরকম ভালো লাগার অনুভবে আজও আলোড়িত হই আমি।

রাজধানী ঢাকাসহ প্রধান প্রধান নগরগুলোতে প্রতি বছর নানা বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। প্রাণের টানে বয়সের পিছুটানকে উপেক্ষা করে প্রতি বছর চেষ্টা করি এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে।

লেখক: সংবাদকর্মী

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত