artk
৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গ্রাম ও শহরের অর্থনীতির সংযোগ ‘বৈশাখ’

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯০৭ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩১৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭


গ্রাম ও শহরের অর্থনীতির সংযোগ ‘বৈশাখ’ - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: গ্রামীণ ও শহরের অর্থনীতির বড় সংযোগ হিসেবে কাজ করে বৈশাখ। মুড়ি, মুরকি, মাটির জিনিস, খেলনার বেচাকেনা এখন শহরেও হয়ে থাকে শুধু বৈশাখকে কেন্দ্র করে। শুধু শহরই নয় এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে উদযাপন হচ্ছে বৈশাখ। সেখানেও এসব জিনিসের বেচাকেনা চলছে। সব মিলিয়ে বৈশাখ আমাদের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করার মাধ্যম।

এভাবেই বৈশাখকে ঘিরে গ্রামীণ ও শহরের অর্থনীতির যোগাযোগের কথা বলছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদ-বিআইডিএস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

তবে বৈশাখের অর্থনীতির আকার কেমন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অংক বলতে নারাজ তিনি। বলেন, এটি নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। সুনির্দিষ্ট নয় বলেই অনেকে অনেক ধরনের টাকার অংকের হিসাব বলে থাকে।

সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিআইডিএস কার্যালয়ে নিউজবাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার সাইদ আরমানের সঙ্গে বৈশাখের অর্থনীতির নানা দিক নিয়ে কথা বলেন এই অর্থর্নীতিবিদ।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘‘বৈশাখের অর্থনীতির টাকার অংকের আকার নিয়ে সন্দেহ আছে। তাই সেই অর্থে বলা যাবে না বৈশাখের অর্থনীতি কতো বড়। অনেকে বলেন, দশ হাজার কোটি টাকার আকার দাঁড়ায় বৈশাখের অর্থনীতির। কেউ কেউ আবার বলেন, ৩০ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং ওই ধরনের পরিমাপ বলা যাবে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু বৈশাখের উৎসবের বড় দিক হলো, এ উৎসবের সূত্রপাত কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে। হালখাতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় এই বৈশাখ উদযাপনের। আর হালখাতার উৎসবটা শুরু হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে। বৈশাখের উৎসব যত বড় হচ্ছে, ততটা সার্বজনীন হচ্ছে।’’

নাজনীন বলেন, ‘‘বৈশাখে এমন ধরনের পণ্য কেনাবেচা হয় যেগুলো গ্রামে তৈরি। এমন অনেক পণ্য আছে যা সারা বছর বিক্রি হয় না। পোশাক সামগ্রী সারা বছর বিক্রি হলেও মুড়ি, মুরকি, নারু, মাটির পুতুল, মাটির ঘোড়া বছরের এই সময়ে বিক্রি হয়। সেই বিবেচনায় বৈশাখ সবচেয়ে বড় উৎসব।’’

গ্রামীণ অর্থনীতিকে শহরে নিয়ে আসায় বৈশাখের অর্থনীতির রূপের কী পরিবর্তন দেখছেন প্রশ্নে নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘‘গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভর করে বৈশাখ শুরু হলেও তা এখন শহরে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু শহর নয়, বৈশাখ এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে উদযাপন হচ্ছে। প্রচুর বাংলাদেশি বিদেশি এই উৎসব করছেন। সেখানেও দেশীয় পণ্যগুলো কেনাবেচা হচ্ছে। অংশ নিচ্ছেন বিদেশিরা।’’

শুধু পণ্যেই আটকে নেই বৈশাখের অর্থনীতি জানিয়ে বিআইডিএস এর এই গবেষক জানালেন, সেবা খাত যেমন বৈশাখকে ঘিরে পালাগান করে, বিভিন্ন গ্রামীণ খেলা দেখিয়ে, বংশীবাদকরাও নানা ভাবে আয় করছেন। তেমনি সেবা বিক্রির দিকটিও এখন সামনে এসেছে। এসব সেবা নিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী চলে আসছেন শহরে। শহরের পাচ তারকা হোটেলগুলোতে গ্রামের পণ্য বৈশাখের প্রাণ।

‘বৈশাখের অর্থনীতি এখন ধনী গবীরের বৈশষ্য কমানোর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে বলে মনে করেন নাজনীন। তবে বৈশাখ ঘিরে ইলিশ নিয়ে জেলে আজও ঠকছে বলে মত তার।

বৈশাখ সার্বজনীন উৎসবের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিদেশি নিয়ে যাচ্ছে। যেটা ক্রেতা ও বিক্রেতার মিলনের উপসর্গ।

বৈশাখ কেবল এখন রমনার উৎসব নেই। ছড়িয়ে গেছে সব ক্ষেত্রে। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন পণ্য বাজার। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যোগ করেন নাজনীন আহমেদ। তবে শুধু সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থাকলে বৈশাখের এতো প্রসার।

নাজনীন আহমেদ মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বৈশাখী ভাতা চালু এই উৎসবকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এমবি/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত