artk
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২৪ মে ২০১৭, ১২:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বৈশাখী ভাতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা চায় ‘ব্যাংকাররা’

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২১৫ ঘণ্টা, সোমবার ১০ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১২২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১১ এপ্রিল ২০১৭


বৈশাখী ভাতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা চায় ‘ব্যাংকাররা’ - বিশেষ সংবাদ
ফাইল ফটো

ঢাকা: ব্যাংকিং খাতে বৈশাখী ভাতা চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা চায় ব্যাংকাররা। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত বছর থেকে এই ভাতা চালু হলেও ব্যাংকারদের জন্য এখনও কোনো নির্দেশনা দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে অনেকে বৈশাখী ভাতা পাবেন, অনেকে পাবেন না।

 আধিপত্য রাখতে কেন্দ্রীয় পদ ছাড়ছেন বিএনপি নেতারা

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলো কর্মীদের আর্থিক সুবিধা কী দেবে তা ব্যাংকগুলো ঠিক করে থাকে। এসব ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সরকার যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা দিচ্ছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে।”

তিনি বলেন, “সরকারের নির্দেশনাকে আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা জারি করা যায় কিনা সেটি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করব। তবে এটা ঠিক, আমরা কোনো আদেশ দিতে পারব না। তবে উৎসাহিত করতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যায় কিনা সেটি নিয়ে কথা বলব।”

বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। নানা আয়োজনে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এ উৎসব পালন করে থাকে। আর এই উৎসবে নতুন মাত্রা পেয়েছে গত বছর থেকে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গত বছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখী ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান এই চর্চা শুরু করলেও বেশিরভাগ বেসরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন না।

তবে সূত্রগুলো বলছে, ব্যাংকিং খাতের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক গত বছর থেকেই তার কর্মীদের বৈশাখী ভাতা দিয়ে যাচ্ছে। এবারও প্রতিষ্ঠানটি তার কর্মীদের বৈশাখী ভাতা দিয়েছে।

ব্যাংকের সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার কর্মীদের ব্যাংক হিসাবে ভাতা চলে গেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে এ ভাতা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড তার কর্মীদের বৈশাখী ভাতা দিচ্ছে না।

জানতে চাইলে ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আরস্তু খান নিউজবাংলাদেশকে রোববার জানান, আমরা বৈশাখী ভাতা দেয়ার আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

এদিকে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), মিডল্যান্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ, মেঘনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে আমাদের প্রতিবেদক যোগাযোগ করে জেনেছেন, ব্যাংকগুলো তার কর্মীদের বড় এই উৎসব পালনে ভাতা দিচ্ছে না।

এর মধ্যে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্যাংকিং খাতের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স-এবিবি এর চেয়ারম্যান।

জানতে চাইলে এমটিবি গ্রুপ যোগাযোগ কর্মকর্তা আযম খান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “কর্মীদের জন্য বৈশাখী ভাতা দেয়ার আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

জানতে চাইলে মিডল্যাণ্ড ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করুক। যাতে ব্যাংকিং খাতের কর্মীরা এই ভাতা পান।”

ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক। পরিচালন মুনাফাসহ সব আর্থিক সূচকে শক্ত অবস্থানে আমরা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে হঠাৎ বড় পরিবর্তনে আশা করেছিলাম, এবার হয়তো বৈশাখী ভাতা পাব। কিন্তু এখনও পাইনি। আর পাব বলে মনে হয় না।”

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো নিজেই তার কর্মীদের যাবতীয় আর্থিক পাওনাদি চূড়ান্ত করে থাকে। কর্মীদের বেতন থেকে শুরু করে সব ভাতাদি ব্যাংকগুলোর পর্ষদ অনুমোদন করে থাকে। তবে প্রধান নির্বাহী এবং নিরীক্ষা বিভাগের প্রধানের নিয়োগ ও বেতনাদি ঠিক করে তা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হয়। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাদশেকে জানান, ব্যাংকগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই এই ভাতা চালু করতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন, তাই ব্যাংকিং খাতের পেশাজীবীদের পাবারও অধিকার রয়েছে।

 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এমএস/কেকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য