artk
১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই ২০১৭, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ব্যাংকে দ্বন্দ্ব-অস্বস্তি, দুর্নীতির তদন্ত ব্যাহত

সাইদ আরমান   | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০২৮ ঘণ্টা, রোববার ০৯ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯১৩ ঘণ্টা, রোববার ০৯ এপ্রিল ২০১৭


ব্যাংকে দ্বন্দ্ব-অস্বস্তি, দুর্নীতির তদন্ত ব্যাহত - বিশেষ সংবাদ
ফাইল ফটো

ঢাকা: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন (আইসিসি) বিভাগ প্রধান নির্বাহীর অধীনে আসায় দ্বন্দ্ব বাড়ছে। ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে অস্বস্তিতে আছেন আইসিসি বিভাগের কর্মীরা।

 করসীমা বাড়ালে ব্যক্তি খাতে করফাঁকি কমবে

অভিযোগ উঠেছে, বিভাগটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ব্যাংকাররা অনেকেই মনে করছেন, আইসিসিকে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের অধীনে আর রাখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় সংশোধন আনা জরুরি। 

 ‘দাদা’ প্রণবের জন্য নিজ হাতে রাঁধলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চুক্তি-সমঝোতার সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

সূত্র বলছে, কোনো ব্যাংকের ঋণে অনিয়ম হলে তা প্রথমে নিরীক্ষা বিভাগের নজরে আসে। তবে ব্যাংকের নিরীক্ষা বিভাগ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন (আইসিসি) বিভাগের অধীনে। আবার আইসিসি বিভাগ কাজ করছে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে। ফলে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাশ কাটিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির খোঁজ করতে পারছে না ব্যাংকের নিরীক্ষা বিভাগ।

জানা গেছে, আইসিসি নীতিমালা জারির ছয় মাসের মাথায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর মাসে এটি করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অধীনে আসে।

তিস্তায় পানি নেই, বিকল্প প্রস্তাব মমতার

‘কাকাবাবুর’ বাসায় উঠেও মিলবে না ‘জল’

জানা যায়, ব্যাংকের এমডিদের চাপে নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু এরপর ৬ মাস এই পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের মত, তারা আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

ব্যাংকিং খাতের নানা দিক নিয়ে নিয়মিত গবেষণা পরিচালনা করে বাংলাদেশ ইন্সস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট-বিআইবিএম। প্রতিষ্ঠানটি এ নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেও ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।

তাদের জরিপে অংশ নিয়েছে ৩৬টি ব্যাংকের আইসিসি বিভাগের কর্মীরা। সেখানে তারা সবাই বলেছেন, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে পাশ কাটিয়ে তারা অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির চিত্র সঠিকভাবে তুলে আনতে পারছেন না।

বিভাগের ৯৭ শতাংশ কর্মীর মত, আইসিসি এমডির অধীনে থাকা ঠিক হচ্ছে না।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা নতুন নীতিমালায় তদারকি ও সুশাসন বিভাগকে ব্যাংকের এমডির সরাসরি তত্ত্ববধানে নিলেও নীরিক্ষা বিভাগ এর বাইরে থাকে। এতে দ্বেত প্রশাসন তৈরি হয়েছে বলেও ব্যাংকারদের মত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনে শুধু অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্বাধীন রাখা হয়েছে। অধিকতর তদারকির জন্য অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগকেও স্বাধীন রাখা হয়েছিল। এ বিভাগের প্রধান নিয়োগ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন রাখারও বিধান করা হয়েছিল। তবে ব্যাংকের এমডিরা তাতে আপত্তি তোলেন। তাই নীতিমালায় বড় ধরনের এ পরিবর্তন আনা হয়।

জানতে চাইলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের আইসসি প্রধান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আইসিসি আর কোন বড় কাজ করতে পারছে না। আমরা স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এখন মৃত ঘোড়া হয়ে গেছি। এভাবে চললে ব্যাংকিং খাতে বড় বড় দুর্নীতি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

জানা যায়, গত বছরের মার্চে জারি করা নীতিমালায় আইসিসিকে পৃথক স্বাধীন ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৫(গ) ধারা অনুযায়ী স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু সংশোধিত নীতিমালায়, আইসিসি প্রধানকে নিরীক্ষা কমিটির কাছে অবাধ প্রতিবেদন দেয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া আইসিসি প্রধানের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইসিসি প্রধানের পদ সংশোধন করে দুই ধাপ নিচে করা হয়েছে।

আগের নীতিমালায় আইসিসি বিভাগের প্রধান নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল এবং পদটি ছিল এমডির এক ধাপ নিচে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৫(গ) ধারা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে গত ৮ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি আইসিসিডি থাকবে। এ বিভাগের প্রধান হিসেবে একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদমর্যাদার ব্যক্তি থাকবেন। বিভাগের কাজে ব্যাংকের এমডি কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স- এবিবির চেয়ারম্যান আনিস এ খান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ব্যাংক পরিচালনায় সব দায় দায়িত্ব নিতে হয় প্রধান নির্বাহীকে। তিনি এর সব কিছুর জন্য দায়বদ্ধ। ফলে আইসিসিও তার অধীনেই থাকতে হবে। অন্যথায়, প্রধান নির্বাহীরা কেন ব্যাংকের দায় নিবেন? ব্যাংকের উন্নতি ও অগ্রগতি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অস্বচ্ছতার সুযোগ নেই।”

অন্যদিকে স্বাধীন আইসিসি বিভাগ চান অধিকাংশ ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা। তাদের মতে, এমডিদের দাবি অনুযায়ী আইসিসিডি তাদের অধীনে চলে যাওয়াতে ব্যাংকের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নষ্ট হচ্ছে।

বেসরকারি সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সংশোধিত নীতিমালাটি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা করার সময় এসেছে।”

নীতিমালার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। প্রধান নির্বাহীদের দাবিও ছিলো। তবে বিষয়টি প্রয়োজনে আবার সংশোধন করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নীতিমালায় দিয়ে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি কমানো যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করাই মূল সমস্যা।”

 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য