artk
১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ৪:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া
‘জয় নিয়ে আশঙ্কা থাকবে এমন কাউকে মনোনয়ন দেবে না আ. লীগ’

| নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৫৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ০৭ এপ্রিল ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩২৬ ঘণ্টা, শনিবার ০৮ এপ্রিল ২০১৭


‘জয় নিয়ে আশঙ্কা থাকবে এমন কাউকে মনোনয়ন দেবে না আ. লীগ’ - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়ার ব্যাপারে যদি আশঙ্কা থাকে তাহলে তেমন কাউকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া।

নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের হয়ে নিজের পথচলা ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার আদিত্য রিমন

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের মাধ্যমে প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পরে উপ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

বিপ্লব বড়ূয়া: আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়াই অনেক গৌরবের বিষয়। এ মূহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল এটি। ১৯৪৯ সালে জন্মলাভের পর থেকে ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মলাভের পেছনে ছিলে একমাত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দলটির হয়ে কাজ করা অনেক বড় দায়িত্ব। কারণ, এ দল সবসময় জনমুখী। ৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করেছে। যে গণতন্ত্র ৭৫ সালে হারিয়ে গিয়েছিল। শুধু গণতন্ত্র নয়, বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যে দিয়ে মূলত বাংলাদেশই হারিয়ে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃত্বে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। গণতান্ত্রিক ধারা চিরস্থায়ী করতে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। সেটাও আস্তে আস্তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পূর্ণতা লাভ করবে।

এতো বড় দলের দপ্তরের দায়িত্ব কীভাবে সামাল দিচ্ছেন?

বিপ্লব বড়ূয়া: দলের কাউন্সিল হয়েছে। সেখানে নেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও ছাত্রলীগের দুইবারের সাবেক সফল সভাপতি ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। নেত্রী আমাকে সেই দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক করেছেন। এখানে দপ্তরের দায়িত্ব হচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ কাজ, সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে সর্ম্পক রক্ষা এবং কেন্দ্রর সঙ্গে তৃণমূলের সর্ম্পক রক্ষা করা। পাশাপাশি দলের সঙ্গে জনগণের যে সর্ম্পক তাও রক্ষা করা। আমরা আধুনিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে কাজগুলো আরও দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে করতে চাই। তার জন্য নেত্রী একটি আধুনিক ডাটাবেজের কথা বলেছেন, এ লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের সঙ্গে দল ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি মনে করি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা গেলে দলের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের যোগাযোগটা আরও বেশি কার্যকর ও নিবিড় হবে।

আপনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নেই।

বিপ্লব বড়ূয়া: বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। তারা তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলবে। তারা তাদের রাজনৈতিক মিথ্যাচার চালাবে। আজকে বিএনপি বলছে দেশে গণতন্ত্র নেই। কিন্তু সত্য হলো, জিয়াউর রহমান এ দেশের গণতন্ত্র হত্যা করছেন। দেশে ভোটারবিহীন নির্বাচনের সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো রীতি-নীতি অনুসরণ করেননি। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী যে নিজস্ব আইন-কানুনে পরিচালিত হতো সেটাও তিনি ভঙ করেছেন। যা দেশের উচ্চ আদালত তার রায়েই বলেছেন। তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করার পর অবৈধ ক্ষমতাকে জায়েজ করার জন্য প্রথমবারের মতো হ্যাঁ-না ভোটে আয়োজন করেন। আর সেই নির্বাচনের ফলাফলে দেখানো হয়েছিল, শতকরা ৮৮.৮৯ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে এবং জিয়াউর রহমানের প্রতি আস্থা এনেছে ৯৯.০৯ ভাগ ভোট এবং ০.০১ ভাগ লোক না ভোট দিয়েছে। এ নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাই ছিল প্রহসনমূলক। এর মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা হয়। সুতারাং বিএনপি যে এ ধরণের কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা এটা মানুষ জানে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি চেয়েছিল তাদের নেতা জিয়াউর রহমান যেভাবে হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল ঠিক একইভাবে ক্ষমতায় আসতে। জনগণের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই।

আপনাদের দপ্তর থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন সময় ভুল থাকে। এটা কি সমন্বয়হীতার কারণে হচ্ছে?

বিপ্লব বড়ূয়া: এ ধরনের কোনো কপি আপনাদের কাছে গেলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে পারেন। আসলে মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কিন্তু আমি মনে করি এটার প্রতি আরও নজর দেয়া উচিত। অনেক সময় সিনিয়র কেউ অফিসে নেই, কিন্তু জরুরী কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। এসব কারণে হয়তো অনেক সময় ভুল হয়ে থাকে। এটা ইচ্ছাকৃত নয়। এটাকে আমি সমন্বয়হীনতা বলবো না। আমরা এবিষয়ে অধিকতর সতর্ক হবো।

প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ নিজের মধ্যে মারামারি ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে। এটা কি দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে?

বিপ্লব বড়ূয়া: সব মারামারি যে সাংগঠনিক কারণে হচ্ছে তা কিন্তু নয়। দিন শেষে যদিও আমরা সবাই রাজনৈতি দলের অনুসারী কিংবা নেতা, তবে আমরা প্রত্যেকে আলাদা ব্যক্তি। ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মানুষের কিছু আশা-আকাঙ্খা, লোভ, হিংসা, ঘৃণা আছে। সেই পারিবারিক কলহকে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হচ্ছে। কোন কারণে বিশৃঙ্খলা হলে সেটাকে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হচ্ছে। তাই এসব জায়গায় দেখতে হবে, সাংগঠনিক ব্যর্থতা কিংবা সাংগঠনিক বিরোধের কারণে এ মারামারি হচ্ছে কিনা। সব সংঘাত, মারামারি কিন্তু রাজনৈকি কারণে হচ্ছে না। সাংবাদিকদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরণের ঘটনার পর নিউজ করার ক্ষেত্রে একটু খোঁজে দেখবেন, এটা কী রাজনৈতি নাকি ব্যক্তিস্বার্থের কারণে হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায়িত্ব আওয়ামী লীগ নেবে না। এছাড়া যে কোনো জায়গায় এ ধরণের ঘটনার পর আমরা কিন্তু সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। কিছু দিন আগে আপনারা দেখেছেন সিরাজগঞ্জের মেয়র মিরুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ প্রাধান্য দেবে?

বিপ্লব বড়ূয়া: আগামী নির্বাচন দল এবং বর্তমান কমিটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যাদের ইমেজ ভালো, জনপ্রিয়তা রয়েছে, দলের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে থেকে সেবা দিয়েছে, বিভিন্ন সময় দলের প্রতি কেমন আনুগত্য ছিল, এসব বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়া হবে। পাশাপাশি আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকের রিপোর্ট আছে যে, কোন জায়গায় কার কী অবস্থা। এর বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ রয়েছে, এসব মিলিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে। দল এমন কাউকে মনোনয়ন দেবে না যাকে দিলে নির্বাচনের জয়ী হওয়ার পথে আশঙ্খা থেকে যাবে। আমরা সবেচয়ে ভালো ও যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেব। আমাদের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে, এটার সভাপতি নেত্রী শেখ হাসিনা। আরও সদস্য রয়েছেন। তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মনোনয়ন দেবেন।

বিপ্লব বড়ূয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য: গত বছরের ২২-২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়াকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। কয়েকদিন পরই তাকে পদোন্নতি দিয়ে উপ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়। এ নেতার বাড়ি চট্রগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এআর/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য