artk
২ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে কেন এসেছে জানে না তদন্ত কমিশন!

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০২৪ ঘণ্টা, সোমবার ২০ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৩৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০১৭


রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে কেন এসেছে জানে না তদন্ত কমিশন! - জাতীয়

ঢাকা: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা কেন বাংলাদেশে এসেছে তা জানে না মিয়ানমারের তদন্ত কমিশন। রোহিঙ্গাদের সব অভিযোগ তারা নাকচ করে দিয়েছেন। তারা দেশে ফিরতে চায় কি না তাও তারা শোনেননি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশে এসেছে মিয়ানমারের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। রোববার তারা কক্সবাজারে গেছেন। সোমবারও তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

রোববার তারা কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই শিবিরে অন্তত ৯৭ হাজার রোহিঙ্গা আছেন। এর মধ্যে রাখাইন রাজ্য থেকে সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

জানা গেছে, মিয়ানমারের তদন্ত কমিশনের একজন সদস্য উপস্থিত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, কেন তোমরা বাংলাদেশে এসেছ?

জবাবে রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ, মগ সম্প্রদায়ের যুবকেরা রোহিঙ্গাদের খুন-জখম করেছে। ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। মালামাল লুট করেছে। তাই আমরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।

কিন্তু তদন্ত কমিশনের প্রধান জ্য মিন্ট পে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তোমাদের এলাকা সফর করেছি। সেখানে তেন কিছুই হয়নি।”

তবে রোহিঙ্গারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি ঠিক বলছেন না। ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানকার সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমন অভিযানের নামে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। এ সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। দমন-পীড়ন সহ্য করতে না পেরেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ পালিয়ে আসেন।

রোহিঙ্গা নেতা আবু ছিদ্দিক বলেন, “ছোট ছোট শিশু কী অন্যায় করেছে? তাদের কেন আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে? কেন ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হলো? গৃহহীন রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে জন্মভূমি ত্যাগ করে বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছেন।”

রোহিঙ্গারা বলেছেন, এই তদন্ত কমিশনের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। তারা দেশে ফিরে মিথ্যা প্রতিবেদন দেবে।

সোমবার সকালেও নতুন আশ্রয় নেওয়া অর্ধশতাধিক নির্যাতিত নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

মিয়ানমার তদন্ত কমিশনের প্রতিনিধিদল বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও লেদা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে আলোচনায় অংশ নেয়া রোহিঙ্গারা জানান, আরাকানের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলেও তদন্ত কমিশন একবারও তারা মিয়ানমার ফিরে যাবে কিনা সে ব্যাপারে জানতে চায়নি। তাদের নির্যাতনের কথাগুলো ভালোভাবে শোনেনি।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার অপারেশন ওসি শফিউল আজম, এসআই জয়নালসহ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এর আগে জাতিসংঘ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও আনান কমিশনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে।

মিয়ানমারে ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চৌকি আক্রান্তের ঘটনায় অপারেশন ক্লিয়ারেন্সের নামে প্রায় ৪ মাসব্যাপী রাখাইন প্রদেশের মংডু, বুচিডং, আকিয়াবসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাড়া ও গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তোলা হলেও তা অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। এমনকি যে এলাকায় রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করা হয়েছে সে এলাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধি, সহায়তা সংস্থা বা সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত