artk
১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৪ জুন ২০১৭, ৭:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্যই কি হত্যা?

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪৩৯ ঘণ্টা, সোমবার ২০ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২২৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০১৭


জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্যই কি হত্যা? - রাজনীতি
ফাইল ফটো

ঢাকা: সম্প্রতি আশকোনায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর মারা যাওয়া মো. হানিফ মৃধার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্য এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে কি না। 

তিনি বলেন, “হানিফের পরিবার বলছে, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু র‌্যাব বলছে আশকোনায় হামলার দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোনটা সত্য?”

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে “স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক” আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

র‌্যাবের দাবি, আশকোনায় সদরদপ্তরের ফোর্সেস ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলার দিন সন্দেহভাজন হিসেবে হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব অফিসে নেয়ার পর তার বুকে ব্যথা শুরু হলে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “পরিবার ও র‌্যাবের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য? পরিবারের দাবি সত্য হলে আমরা কোন দেশে বাস করছি। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। সত্য উদঘাটন করতে হবে। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আইন বলছে এক কথা, অন্যদিকে পরিবার বলছে তিন মাস পাঁচ মাস আগে তুলে নেয়া হচ্ছে। তাহলে কি জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্য ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করা হচ্ছে?”

খিলগাঁওয়ে যুবক নিহত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মোটরসাইকেলে নিরিবিলি জায়গা দিয়ে যাচ্ছিল ওই যুবক। অথচ মোটরসাইকেলে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। এসবের উদ্দেশ্য কী?”

ইতালীয় নাগরিক হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঘটনাটি ঘটার পর নিউইয়র্ক থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি নেতারা এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু র‌্যাব বলেছে নব্য জেএমবিরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। কোনটা সঠিক?”

সরকারের প্রতি জনগণের আর কোনো আস্থা থাকতে পারে কি? এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “সরকার ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে। দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। আগুন নিয়ে খেলবেন না। সরকার জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে। তারা প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আন্তরিক নয়।”

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা তিস্তার পানি চাই। ফারাক্কার পুনরাবৃত্তি চাই না। অভিন্ন ৫৪টি নদীর ন্যায়সঙ্গত দাবি যাতে পাই সেটা নিয়ে আলোচনা করুন। সীমান্তে যাতে বেআইনিভাবে হত্যা না হয় সেটা নিশ্চিত করুন। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন ও জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে নয়। আমরা শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো।”

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমেদ মনি, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন। এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এম অহিদুর রহমান, নজরুল ইসলাম। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আ হ ম জহির হোসেন হাকিম।

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/এমএস/কেকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য