artk
১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ০১ মে ২০১৭, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মাথায় নতুন চুল গজাতে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৫৮ ঘণ্টা, রোববার ১৯ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১৪৩ ঘণ্টা, রোববার ১৯ মার্চ ২০১৭


মাথায় নতুন চুল গজাতে কী করবেন? - লাইফস্টাইল

একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টা চুল পড়তে পারে। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সমপরিমাণ চুল আবার গজাবে। কিন্তু সংখ্যায় এর বেশি হলেই সমস্যা। কারণ চুল শরীরের এমন একটি অংশ যা ছেলে-মেয়ে উভয়ের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। চেহারার গ্লেস বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ।

চুল পড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ। রক্তস্বল্পতা, ওজন কমানোর জন্য খাওয়া-দাওয়া একদম কমিয়ে দেয়া, সুষম খাবারের বদলে অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চকলেট ইত্যাদি খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হয়েও চুল পড়ে। এছাড়া বয়স বাড়ার কারণে অথবা বংশগত বা পরিবেশের প্রভাবে আমাদের চুল পড়ে যেতে থাকে।

এ নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে আমাদের হাতের কাছে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই নতুন চুল গজানো সম্ভব। আসুন জেনে নেই চুল গজাতে সাহায্য করে এমন চারটি পদ্ধতি-

প্রথম পদ্ধতি
চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে নিয়মিত ম্যাসাজ করতে হবে। এতে স্ক্যাল্প উদ্দীপিত হবে। এক টেবিল চামচ ভিটামিন ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন। ভিটামিন ই চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন যোগান দেয়। এর সাথে চা এর নির্যাস যোগ করতে পারেন। এই দুটো ভালোভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথার চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। ৫-৬ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন।

কিছুক্ষণ পর সাধারণভাবে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুল গজানোর জন্য দিনে ৩ বার ম্যাসাজ করতে হবে এই নিয়মে। তবে বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি
চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তবে নতুন চুল গজানো সম্ভব। বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায়। এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন।

ভালো ফল পেতে এটাও আপনাকে দিনে ৩ বার করতে হবে।

তৃতীয় পদ্ধতি
এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যেটা আপনার স্ক্যাল্পের মৃত কোষগুলো ঝরে যেতে সাহায্য করবে। এই মৃত কোষগুলো স্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে, যে কারণে নতুন চুল গজাতে পারে না। কেন না তখন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। অল্প পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজের মতো করে লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

এটা দিনে একবার করতে হবে এটি।

চতুর্থ পদ্ধতি
এই পদ্ধতি হলো মেডিকেশন। চুলের জন্য ওষুধ। অনেক গবেষণার পর ফেনাস্টেরাইড আর মিনোক্সিডিল নামের দুটো ওষুধ চুল গজানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। মিনোক্সিডিল এর দুইটা কনসেনট্রেশন পাওয়া যায়। ২% আর ৫%। ২% মিনোক্সিডিল মেয়েদের জন্য আর ৫% মিনোক্সিডিল ছেলেদের জন্য। এটা বাজারে জেনোগ্রো নামে পাওয়া যায়। স্প্রে করে মাথার স্ক্যাল্পে দিতে হয়।

তবে নতুন চুল গজাতে এই চারটি পদ্ধতি ছাড়াও আপনাকে খাদ্যাভ্যাস আর কিছু সাধারণ যত্ন নিতে হবে।

খাদ্যাভ্যাস

প্রোটিন: অধিক পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরনের প্রোটিন। তাই নতুন চুল গজানোর জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

আয়রন-জিঙ্ক: আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রোধে সহায়তা করবে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত চুল গজানোর জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন আছে।

ভিটামিন সি: পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এরা আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সহায়ক।

কালোজিরা: কালোজিরা নতুন চুল গজানোর জন্যে সহায়ক। মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো ফল দেয়।

কিছু সাধারণ যত্ন

১. খাটি কালো জিরা তেল বা নির্যাস বেশি বেশি ব্যবহার করতে পারেন।

২. মেহেদি পাতা কিছু দিন ঘন ঘন ব্যবহার করুন। পাতা বেটে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৩. পেঁয়াজ এর রস চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে।

৪. শুকনা আমলকি পানিতে ভিজিয়ে লাগাতে পারেন।

৫. নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা এবং আঁচড়ানো প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত আঁচড়ানো চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।

কথায় বলে যতনে রতন মেলে। নিয়মিত যত্ন নিন, পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন। দেখবেন আপনার মাথায় নতুন চুল গজাতে শুরু করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমবি/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য