artk
১৫ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ৪:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শেরপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে সফলতা

মোশারফ হোসেন, জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২২৭ ঘণ্টা, শনিবার ১৮ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩২৮ ঘণ্টা, শনিবার ১৮ মার্চ ২০১৭


শেরপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে সফলতা - ফিচার

শেরপুর: দুইটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। আর শ্রীমঙ্গল তার রাজধানী। ১৯৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে চা আবাদের গোড়াপত্তন হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম পাহাড়ি টিলার চা বাগান যা ১৮৫৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসে।

কৃষি সম্ভাবনাময় এদেশে সমতল ভূমিতেও চা চাষ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করেছে।

পাপোসে স্বাবলম্বী ফাতেমা

এবার শেরপুরের নকলা উপজেলা টালকী ইউনিয়নের রামেরকান্দি গ্রামের রোকন উদ্দিন সাগরের শখের চা বাগান থেকে চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি চা পাতা ২৩০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তাকে অনুকরণ করে অনেকেই কাঠ/ফলজ বাগানে চা চাষ করার অগ্রহ প্রকাশ করছে।

সাগরের সাথে কথা বলে জানা যায়, লালমনিরহাট ভ্রমণকালে কয়েকটি চা গাছের চারা এনে বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করেন। চা গাছের বেড়ে উঠা দেখেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের নেশা পেয়ে বসে। ২০১২ সালে পঞ্চগড় থেকে সাত হাজার চা গাছের চারা কিনে এবং চাষের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে এসে আড়াই একর জমিতে রোপন করেন। তিনজন শ্রমিক নিয়ে সেবা করা শুরু করেন। বর্তমানে সাতজন শ্রমিক রয়েছে। তিনি চা চাষের পাশাপাশি মাছ চাষ শুরু করেছেন।

রোপনের দুই বছর পর তিনি কিছু কচি চা পাতা নিয়ে ঘরোয়াভাবে চা তৈরি করে পরিবারের সবাইকে পান করান। সবার কাছে ভালোমানের মনে হওয়ায় বাগানের তদারকি বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে তিনি বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত রঙ ও ওষুধ ছাড়াই চা উৎপাদন করে ‘সাগর চা’ নামে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন।

সাগর চা-এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলা থেকে জেলাতে। সাগর বলেন, “সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জেলার অনেকেই চা চাষ করবে। ফলে কোনো এক সময় শেরপুর জেলাতে চা শিল্প গড়ে উঠতে পারে। তাতে পতিত জমি কৃষির আওতায় আসাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশ হবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান।”

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সলে ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ির উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে চা চাষের সম্ভাবনা যাচায়ের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দল ২০০২ সালে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার সাত হাজার হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চা চাষ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন তারা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে।

যেসব জমি চা চাষের উপযোগী সেসব জমিতে অন্য কোনো লাভজনক চাষ করা সম্ভব নয়। তাই এই প্রকল্পটি চালু করতে পারলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধান হতো বলে অনেকের মতো মনে করছেন উপপরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন।

এ বিষয়ে নকলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, “সমতল ভূমিতে চা চাষ এক বিরল উদ্যোগ। সাগরের মতো সারা দেশের পতিত জমিতে বিশেষ করে ফলজ/কাস্টল বাগানে চা বাগান গড়ে তুলতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। ফলে লাখো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

বাংলাদেশ সরকারের সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ বিষয়ে দৃষ্টি দিলে শেরপুরে গড়ে উঠতে পারে চা শিল্প, দুর হতে পারে বেকারত্ব, সৃষ্টি হতে পারে সাগরের মতো হাজারো কর্মসংস্থানের-এমনটাই অভিমত দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মহল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএইচ/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য