artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্বপ্ন থেকে বাস্তবে জারিফের ড্রোন

শাদরুল আবেদীন | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২০২ ঘণ্টা, বুধবার ১৫ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২০৬ ঘণ্টা, বুধবার ১৫ মার্চ ২০১৭


স্বপ্ন থেকে বাস্তবে জারিফের ড্রোন - আই-টেক

ঢাকা: শৈশব থেকেই ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নিয়ে ছিল প্রবল আগ্রহ। ঘরে থাকা যান্ত্রপাতির এটা ওটা নিয়ে কিছু একটা বানানো। এই করতে করতে শেষ হলো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। এরপর থেকেই মাথায় চাপলো ভূত। শুধু একটাই চিন্তা, কীভাবে তৈরি করা যায় ড্রোন।

চিন্তা থেকে কাজে লেগে পড়া। পড়াশুনার পাশাপাশি ড্রোন সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। আর ইউটিউব টিউটোরিয়াল তো আছেই। কিন্তু খেতে যে হচ্ছে মায়ের বকুনি। তাবুও থেমে নেই প্রবল ইচ্ছার সামান্যটুকু। এই করতে করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তৈরি হয়ে গেল ড্রোন। চার পাখাওয়ালা এ ড্রোন চলবে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা।

কিশোর এ উদ্ভাবকের নাম জারিফ মাহবুব তালুকদার। সে মতিঝিল আইডয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে জারিফ বলে, “ছোট বেলা থেকে টেকনিক্যালি বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতাম। নিজের অজান্তেই এ ড্রোন তৈরির ইচ্ছা জেগেছে, তারপর চেষ্টা। একসপ্তাহ ধরে ড্রোনটি বানিয়েছি।”

বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বলে, “আমি পুরোপুরি নিজ উদ্যোগেই এটি বানিয়েছি। তবে আমার বন্ধুরা দেখে খুব আবাক হয়েছে। আমার কয়েকজন বন্ধু এ ধরনের কিছু তৈরির ইচ্ছাও জানিয়েছে। কাজও শুরু করে দিয়েছে।”

ড্রোন নিয়ে পড়ে থাকায় প্রথমে মা সেলিনা আক্তারের আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে তিনি ছেলেকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছেন। বলেন, “পড়াশুনা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তাই আমি প্রথমে একটু বাধা দিয়েছিলাম। তবে ড্রোনটি তৈরিতে আমার ছেলে অনেক পরিশ্রম করেছে। বলতে গেলে তার সখের একটা জিনিস। তাই এখন আমি তাকে আর বাধা দেই না”

উদ্ভাবক জারিফের বাবা মাহবুব আলম তালুকদার গুলশান ট্রাফিকের পরিদর্শক (অ্যাডমিন) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, “আমি যেহেতু প্রশাসনিক কাজে কর্মরত, তাই ছেলেকে নিয়েও আমার চিন্তাভাবনা, সে এ পেশায় থাকবে। তবে ওর ইলেক্ট্রনিক্সের প্রতি আগ্রহ দেখে মনে হয় সে তার ট্রেকেই থাকবে। তাই তাকে কোনো কিছুতেই বাধা দেই না। কিন্তু পড়াশুনা ঠিক রাখতে হবে।”

পরবর্তী ইচ্ছা সম্পর্কে জারিফ জানায়, ড্রোনটিতে ক্যামেরা সেট করে ফটোগ্রাফি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সেই সঙ্গে সে এটি সায়েন্স ফেয়ারে প্রদর্শন করতে চায়। আর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তার ইচ্ছে রয়েছে একটি রোবর্ট বানানোর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য