artk
৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

এফবিসিসিআই নির্বাচনে লড়াই করবেন দুই উদ্দিন

জুনায়েদ শিশির | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯২৪ ঘণ্টা, বুধবার ১৫ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২০৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৬ মার্চ ২০১৭


এফবিসিসিআই নির্বাচনে লড়াই করবেন দুই উদ্দিন - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: এফবিসিসিআই নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে ভোট যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান দুই সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। রাজধানী, বিভাগ ও জেলা চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনের স্বার্থ সংশ্লিবিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তারা ভোটের ময়দানে নামছেন।

২০১৭-১৯ মেয়াদের দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ মে।

সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সহ-সভাপতি।

মো. জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি ও বর্তমান পর্ষদের পরিচালক।

সূত্র বলছে, ২০১৭-১৯ মেয়াদের নির্বাচনে এ দুই গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল থেকে পরিচালক পদে মনোনয়ন পেতে প্যানেল লিডারদের কাছে ভিড়ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এ দুই প্যানেলের কোনো একটিতেও স্থান না পেলে আলাদা আলাদা (অর্ধেক) গ্রুপের প্যানেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্যানেলের নাম বা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগের নির্বাচনে (২০১৫-১৭) তিনটি প্যানেল অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পূর্ণ প্যানেল দিতে পেরেছিল শুধু এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বধীন ‘উন্নয়ন পরিষদ’। আর চেম্বার গ্রুপ থেকে ‘স্বাধীনতা ব্যবসায়ী পরিষদ’ নামে অর্ধেক প্যানেল দিয়েছিলেন মনোয়ারা হাকিম আলী এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে মোয়াজ্জেম-এরতেজা আহমেদ-শাফকাত হায়দারের ‘ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ নামের প্যানেল।

এফসিসিআই নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন মেয়াদের নির্বাচনি কার্যক্রম, যা ২০ মে নব নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতাদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সদস্যদের বকেয়া পরিশোধ ও প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ, যাচাই বাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রর্থী এবং ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।

সূত্র জানিয়েছে, ১৪ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রণ চলবে। এর আগে ১৫ মার্চের মধ্যে সদস্যদের বকেয়া পরিশোধের সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্বে থাকা প্রথম সহ-সভাপ সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন নিউজবাংলাদেশকে জানান, দেশে ৮০টি চেম্বার ও প্রায় ৪০০ অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। এর মধ্যে থেকে দুইটি গ্রুপ অর্থাৎ চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্যানেল থাকবে।

২০১৭-১৯ মেয়াদের এ নির্বাচনে প্যানেল লিডার হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ব্যবসায়ী এ নেতা। কেন এফবিসিসিআইয়ের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিতে চাচ্ছেন? নিউজবাংলাদেশের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেখুন দেশের বড় বড় চেম্বার অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। যারা নিজেরাই অনেক কিছুর সমাধান করতে পারেন। প্রধান সংগঠন হিসেবে এফসিসিসিআইয়ের সহযোগিতা না হলেও তেমন সমস্যা হয় না। এর বাইরে জেলাভিত্তিক চেম্বার এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং নারী উদ্যোক্তাদের চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। তাদের সমস্যা অনেক। এর সমাধানে সব শ্রেণির প্রধান সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআইকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হয়। সংগঠনগুলোর অভিভাবক হিসেবে পলিসি মেকিংয়ে সহায়তা করতে হয় যাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন। আমি ক্ষুদ্র বা মাঝারি যে স্তরেরই হোক, ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়া বা হতে পারে এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টির পূর্বেই এর সমাধান করবো। যাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেসব ব্যবসায়ী সংগঠন রয়েছে, সেই পর্যায়ে এফবিসিসিআইকে নিয়ে যাওয়াই হবে আমার লক্ষ্য। আমি মনে করি, সবার সহযোগিতায় সফল হবো।”

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছ, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণ প্যানেলের প্রার্থী দেবেন তিনি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যবসায়ী নেতা। এখন পর্যন্ত চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশন কোনো একটি গ্রুপেরও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেননি তিনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি নিউজবাংলাদেশকে জানিয়েছেন, এফবিসিআইয়ের নির্বাচন সব সময় সুন্দর, আনন্দ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে থাকে। এবারও হবে। নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। ব্যবসায়ীদের সমস্যার শেষ নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধার বিষয় গুরুত্ব দিয়েই এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এফবিসিসিআই হবে আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যবসায়ীদের সংগঠন।

সর্বমোট ৫২ জন পরিচালক নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের বোর্ড গঠন হবে। এর মধ্যে ৩২ জন পরিচালক ভোটারদের গোপন ভোটে নির্বাচন হবেন। এর মধ্যে চেম্বার গ্রুপের ১৬ ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৬ জন পরিচালক থাকবেন। বাকি ২০ জন পরিচালক দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে মনোনীত হয়ে আসবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৩ মে (শনিবার) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়েছিল অধ্যাপক আলী আশরাফের নেতৃত্বাধীন এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ড। এবারও তিনি নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী চেম্বার থেকে মনোনীত পরিচালক আবদুল মাতলুব আহমদ (বর্তমান সভাপতি) উন্নয়ন পরিষদ নামে পূর্ণ প্যানেলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ফেডারেশনের তখনকার প্রথম সহ-সভাপতি, বর্তমান পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলীর নেতৃত্বে স্বাধীনতা ব্যবসায়ী পরিষদের শুধু চেম্বার (অর্ধেক) গ্রুপের ১৬ জন প্রার্থী দিয়েছিলেন। আর মোয়াজ্জেম-এরতেজা আহমেদ-শাফকাত হায়দারের নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ নামে শুধু (অর্ধেক) অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৬ জন প্রর্থীসহ মোট ৬৪ জন প্রার্থী ৩২টি পরিচালক পদের জন্য লড়েছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য