artk
১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ০১ মে ২০১৭, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

নারী কনস্টেবল লুৎফার সাইকেল যাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৫৫ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২০৭ ঘণ্টা, বুধবার ১৫ মার্চ ২০১৭


নারী কনস্টেবল লুৎফার সাইকেল যাত্রা - ফিচার

ঢাকা: তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লুৎফা বেগম। থাকেন রাজারবাগে পুলিশ হোস্টেলে। প্রতিদিন তিনি সাইকেল চালিয়ে তার অফিসে যাতায়াত করেন। গত সোমবার সকালে তার সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার দৃশ্য ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বর্তমানে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লুৎফা। সাইকেল চড়েই অফিস, কোর্টসহ অফিসিয়াল ডিউটিও যান তিনি। ঢাকায় অনেক যানজট দেখে বেশ কিছুদিন ধরে সাইকেলেই যাতায়াত করছেন বলেও জানান লুৎফা।

আর ফেসবুকে তার এই ছবি প্রথমে পোস্ট করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ।

ছবিসহ পোস্টে তিনি লেখেন, “পুলিশে পরিবর্তন বিস্মিত, অভিভূত আমি!! আজ সকালে আমি অফিসে আসার সময় মগবাজার মোড়ে দেখলাম একজন নারী কনস্টেবল সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছেন। তার কাঁধে ব্যাগ, মাথায় হেলমেট। আমি গা‌ড়ি টান দি‌য়ে সাম‌নে এসে কথা বললাম। নাম লুৎফা, শিল্পাঞ্চল থানায় দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন। আবাসস্থল থে‌কে কর্মস্থল দূ‌রে থাকায় সাই‌কে‌ল চা‌লি‌য়ে তি‌নি কর্মস্থ‌লে যা‌চ্ছেন। আমার ষোল বছ‌রের চাক‌রি জীব‌নে আমি বাংলা‌দে‌শ পু‌লি‌শে বহু ইতিবাচক প‌রিবর্তন দে‌খে‌ছি। কিন্তু ব্যাগ কাঁধে হেলমেট পরে আমার এক নারী সহকর্মীর কমর্স্থ‌লে গমন স‌ত্যি আমা‌কে ‌বি‌স্মিত অভিভূত ক‌রে‌ছে। আমি বিশ্বাস ক‌রি লুৎফার এরূপ কর্মস্থ‌লে গমন বাংলা‌দেশ পু‌লি‌শের প‌রিবর্তন ও উন্নয়‌নের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। তার সহকর্মী হ‌তে পে‌রে আমি গ‌র্বিত।’’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লুৎফার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায়। জীবনে শত বাধা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। কারো সাহায্য কিংবা দয়া চাইনি। এমনকি হাতও পাতেননি কারো কাছে। নবম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়েছেন।

জানা যায়, ২০০৪ সালে সিলেটের বোয়ালপুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর ২০০৬ সালে বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেন লুৎফা। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ পুলিশে নিয়োগ পান তিনি। বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করছেন।

লুৎফা বলেন, ‘‘নিজেকে একজন সাধারণ কৃষকের মেয়ে হিসেবে মনে করি। ছোট বেলা থেকেই সংসারে অনেক অভাব অনটন ছিল, আমি সব সময় ভাবতাম কী করা যায় নিজে থেকে। বেকারত্বকে সবসময় ঘৃণা করে এসেছি, একটা দিনও বেকার থাকতে চাইনি।’’

তিনি বলেন, ‘‘২০০৭ সালে যখন শুনলাম পুলিশের সার্কুলার দিয়েছে, আমার বাবা-মা কেউ রাজি ছিলেন না। মেয়েরা পুলিশে চাকরি করবে- তা আমাদের এলাকায় কেউ কল্পনাও করতে পারত না। পরে বড় ভাই আমাকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যান। পরীক্ষায় টিকেও যাই। ২০০৭ সালে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং কেন্দ্রে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা মহানগরীতে পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেই।’’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমবি/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য