artk
১ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ১৬ আগস্ট ২০১৭, ৯:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানতে শালবনে ইউডার শিক্ষার্থীরা

সাজিদ আরাফাত | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২২১ ঘণ্টা, রোববার ১২ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২২৭ ঘণ্টা, রোববার ১২ মার্চ ২০১৭


ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানতে শালবনে ইউডার শিক্ষার্থীরা - ফিচার

ঢাকা: প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনের এক মহিমামণ্ডিত নাম শালবন বৌদ্ধবিহার। যেখানে রয়েছে রাঙা ইটের তৈরি প্রাচীন প্রাচীরের মিতালি। চারপাশে ছায়া সুনিবিড় সবুজ অরণ্যের ফাঁকে ফাঁকে রোদের খেলা। এই মনোলোভা প্রত্মসম্পদের ভুবনে গেলে কার না ভালো লাগে।

কুমিল্লার কোটবাড়ীর ময়নামতি জাদুঘরের পাশেই শালবন বৌদ্ধবিহার। অষ্টম শতকে নির্মিত এ প্রত্নসম্পদের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে আর ঐতিহাসিক নিদর্শন, স্থাপনা, পুরাকীর্তির ইতিহাস জানতে গত ১০ মার্চ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শিক্ষা বিভাগের একঝাঁক শিক্ষার্থীর বার্ষিক শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

যথারীতি সকালে নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে মিলিত হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে কুমিল্লার পথে যাত্রা শুরু। দুটি বাসে যানজট ঠেলে শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ার উল্লাসে ততক্ষণে মাতোয়ারা সবাই। কোলাহল, হৈ-চৈ আর নাচে-গানে ছিল পুরোটা পথজুড়ে। পথে যেতে যেতেই সকালের হালকা নাশতা সেরে নেয়া হয়। তবে যাত্রাটা যে মসৃণ তা বলা যাবে না। মাঝপথে বিপত্তি! একটি গাড়ি নষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রায় ঘণ্টাখানেক বসে বসে কাটাতে হয়। খানিক পরে আবারও যাত্রা শুরু। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে বিকেলের পথে পা বাড়িয়েছে। পৌঁছানো মাত্রই শালবনের সবুজ মায়া আর ফাল্গুনের বিকেলে ঘোরাঘুরি শুরু। পাশাপাশি রান্নার কার্যক্রম চলছে। এর ফাঁকেই দলবেধে শালবনের বৌদ্ধবিহার ঘুর দেখার পালা।

ধারণা করা হয় যে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে। প্রায় ৩৭ একর জায়গা জুড়ে শালবন বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। সমতল থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট।

অমূল্য প্রত্নসম্পদে সমৃদ্ধ স্থানটি আগে শালবন রাজার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানে ১৯৫৫ সালে খননের পর ৫৫০ ফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি বৌদ্ধবিহারের ভূমি নকশা উন্মোচিত হয়। এতে ১১৫টি ভিক্ষুকক্ষ রয়েছে। লালমাই পাহাড় এলাকায় বিহারটির আশপাশে একসময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল। তাই বিহারটির নাম দেয়া হয় শালবন বিহার।

শালবন বিহার ছাড়াও কোটবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় রয়েছে নানা প্রত্নসম্পদ। এসব প্রত্নসম্পদ পর্যটকদের এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কথা জানান দেয়। প্রাচীনকাল থেকে কুমিল্লা অঞ্চল শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা ও সংস্কৃতিতে বেশ সমৃদ্ধ তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়।

পুরো বৌদ্ধবিহারের মধ্যে রয়েছে নান রকমের ফুল—কসমস, ডালিয়া, জিনিয়া ইত্যাদি। তবে কুমিল্লার লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রত্নসম্পদ।

বৌদ্ধবিহারের পাশেই রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। এখানে রয়েছে অসংখ্য পুরাকীর্তি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন ঐতিহাসিক এ দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন অসংখ্য দেশি পর্যটক-দর্শনার্থী ছাড়াও বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে ঐতিহাসিক শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে।

ঘুরে দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে এখন বিকেলের শেষ প্রান্ত। খাওয়ার পর্ব যে তখনও বাকি। ঘোরাঘুরির ফাঁকেই চললো সবার ফটোসেশন, গান, গল্প। খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষে চললো কুপন প্রতিযোগিতা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন। দেখতে দেখতেই সময় ফুরিয়ে আসে। গোধূলী পেরিয়ে তখন প্রায় সন্ধ্যা। ঘন শালবনে আলোর অনটন। শালবনে হাসির কোলাহল ছেড়ে এবার ফেরার পালা। তবে ফিরতি পথে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছিল এক পশলা বৃষ্টি। বসন্তের আবহে সেজেছে যে প্রকৃতি তার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলো সবাইকে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য