artk
১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৪ জুন ২০১৭, ৮:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পুরুষরা পুরোপুরি নারী নির্ভর: মনোয়ারা হাকিম

জুনায়েদ শিশির | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৫৪ ঘণ্টা, বুধবার ০৮ মার্চ ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮০৫ ঘণ্টা, বুধবার ০৮ মার্চ ২০১৭


পুরুষরা পুরোপুরি নারী নির্ভর: মনোয়ারা হাকিম - নারী

ঢাকা: বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে দাবি আদায় বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছে নারী অধিকার কর্মীরা। থেমে নেই বাংলাদেশও। ফলে পরিবার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে নারীদের।

অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বিশেষ অবদান তাদের। প্রতিটি খাতেই রয়েছে অশেষ অবদান। কারখানা থেকে শুরু করে শিল্প প্রতিষ্ঠানে, এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছে নারীরা। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন- মনোয়ারা হাকিম আলী। দৈনন্দিন জীবনের নারীরা নয়, সব ক্ষেত্রে পুরুষরা পুরোপুরি নারীদের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, নারীরা অবহেলিত নয়, এটা ভাবাও ঠিক নয়। নিজেকে নিজে অবহেলিত ভাবলে কেউ স্বাবলম্বী করে দিতে পারবে না। এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশের প্রতিটা নারী প্রতিভাবান নারী, এখানে কেউ অবহেলিত নয়।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

মনোয়ারা হাকিম আলী নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “দিবস এলে এ নিয়ে অনেক কথা হয়। এটা ঠিক না। নারীরা কোথাও অবহেলিত নয়। আমাদের দেশের কথাই বলি, এখানে একজন নারী যে সম্মান পান তা বিশ্বের অন্য দেশে বিরল। যা অনেকে বুঝতে পারছে না, সেজন্য বলা হচ্ছে নারীরা অবহেলিত। কিন্তু এটা ঠিক না। আমি মনে করি, পুরুষরা সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি নারীদের ওপর নির্ভরশীল। নারীরা নিজেদের দিকে বা কর্মক্ষমতার বিষয়ে সচেতন নয়। সেজন্য হয়তো নিজেকে অবহেলিত মনে করে। যেমন দেখুন, কোনো স্বামী বললো, ভাত দাও, পানি দাও, পোশাক দাও ইত্যাদি। এর অর্থ কি? আদেশ করা? না এটাকে আদেশ মনে করা চলবে না! এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় পুরুষ নিজে কিছু করতে পারছে না, নির্ভর হতে হচ্ছে। তবে শিক্ষার হার কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এটা সত্য। এর জন্য নারীশিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষিত নারীর মধ্যে অনেক নারী এখন স্বামী বা বাবার ওপর নির্ভর করে না। এটা প্রমাণিত। অনেকে এটাকে অবাধ্যতা বলছেন। তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে বলে আমি মনে করি। জ্ঞানের পরিধি যতো বাড়ছে, সমাজিক সমতা ততই বাড়ছে। এক কথায় বললে, নিজের কার্যক্রমের বিষয় সচেতন হলে, ভবিষ্যতে কোনো নারী বলবে না তারা অবহেলিত। আশা করি নারীদের এ মানসিকতা দূর হয়ে যাবে। এ জন্য সরাসরি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে দায়ী করা সঠিক মনে করি না। নারী অধিকার নামে অনেককে ভুল বুঝানো হচ্ছে, তবে এর হার অনেক কমে এসেছে।”

নিজের কর্মজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে এ সফল ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “ধনী পরিবারে জন্ম হওয়ায় হয়তো সহজে ব্যবসায় আসতে পেরেছি। এটা ঠিক। কিন্তু তখনকার সমাজে এটা ছিল বেশ কঠিন। একজন নারী হয়ে হোটেল ব্যবসা চালানো অনেক কঠিন কাজ ছিল। যোগ্যতা এবং পারিবারিক সহযোগিতায় আমাকে ব্যবসায় সাফল্য দিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “শুধু নিজের পরিবারের টাকা-পয়সা আছে, তাই নিজে করছি। এমনটি আমার মধ্যে কোনো সময় আসেনি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে নারীদের ঘরের বাহিরে যাওয়া ছিল এক রকম নিষিদ্ধ। সন্তানদের স্কুলে দিয়ে আসতে এবং নিয়ে আসতে দেখতাম অনেক অভিভাবক (নারী) স্কুলের বাইরে বসে কাপড়ের ওপর নকশার কাজ করতেন, যা অত্যন্ত নান্দনিক। কিন্তু তা কোনো কাজে আসতো না, হয়তো কোনো প্রিয়জনকে তা উপহার দিয়ে দিতেন। এক সময় তাদের সঙ্গে আলাপ করে একটা অ্যাসোসিয়েশন করি। তাদের বুঝাতে সক্ষম হই, এ কাজের অনেক চাহিদা আছে, যা ঘরে বসেই করা যায়। এভাবে শুরু হয়। এর জন্য অনেকের পরিবার ভুল বুঝেছে। কিন্তু এখন তারা সফল হয়েছেন। চট্টগ্রামে সফল নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ৫শ’র বেশি হবে। এদের মধ্যে অনেকে জাতীয় সংসদ সদস্যও হয়েছেন। এটি একদিনে হয়নি। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে, নারী উদ্যোক্তারা সফল হয়েছে এবং হচ্ছে।”

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পর্যায় থেকে নারীরা এখন শিল্পখাতে অংশগ্রহণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে নারীরা ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করলেও এখন প্রযুক্তিগত বা বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নিচ্ছে। নারীরা অনেক এগিয়েছে। এর জন্য বর্তমান সরকার বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। নারীদের জন্য আলাদা শিল্পাঞ্চলের জমি বরাদ্দ দিয়েছে। এতে বুঝা যাচ্ছে, আমাদের মেয়রা সফল হবেই হবে।”

তিনি জানান, শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে, শিল্পঋণ এক অংকে আনা আবশ্যক। উচ্চ সুদের কারণে নারী নয়, কোনো উদ্যোক্তা সফল হতে পারবে না। ঋণ বিতরণে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমি মনে করি শিল্পায়নে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নারীরা সফল হবে।

টানা কয়েকবছর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন মনোয়ারা হাকিম আলী। দীর্ঘ এ সময়ের অভিজ্ঞতার বিষয় জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ঘুরে দেখেছি, ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। কিন্তু কয়েকটি ব্যবসায়িক চেম্বার ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা ভালো না। আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা চেম্বারের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রয়েছি। অথচ জেলার চেম্বারগুলোর অবস্থা চিন্তা না করলে চলবে কী করে। তাই এ জেলাগুলোর বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রত্যেকটা জেলাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার মনে করে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে সব জেলা চেম্বারগুলোকে নারী সদস্য রাখার বিষয়ে বলা হয়েছে, যা ইতোপূর্বে শূন্য ছিল। এখন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে বা বাণিজ্যিক লক্ষ্যকে সামনে এনেই নারীদের মর্যাদা বাড়ানো সহজ ও সম্ভব।

চিটাগাং উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বর্তমান সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী। এছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক তিনি।

একটি নারী চেম্বারের কার্যক্রম বিষয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার বাংলাদেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অন্যতম। ২০০৩ সালে উদ্ভাবনী নারী উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে বর্তমানের এ চেম্বার চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায় নারীদের জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। দেশে বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করছে। এ চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদনের জন্য সামগ্রিক প্রযুক্তিগত এবং ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান প্রদান করছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এমএস/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত