artk
১৫ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ৪:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ব্যাংক কর্মীদের জোরপূর্বক অপসারণ করলে কঠোর ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২০৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০১৫


ব্যাংক কর্মীদের জোরপূর্বক অপসারণ করলে কঠোর ব্যবস্থা - অর্থনীতি

ঢাকা: ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক অপসারণ করলে অভিযুক্ত ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক স্বেচ্ছায় চাকুরিতে ইস্তফা, বরখাস্ত বা অপসারণ এবং এর পরবর্তীতে দায় দেনা প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতি স্থগিত করার নানা অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসেছে এবং গণমাধ্যমেও এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্যায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে অনেক ভালো কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে অন্তরায়।”

ড. আতিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, কোনো রকম কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যাংক তার কর্মীকে অপসারণ করতে পারবে। এমন অমানবিক বিধি বা ধারা ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় সংযুক্ত করা হয়েছে।”

এছাড়া সন্ধ্যা ৬.০০ টায় কার্যদিবস শেষেও কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি নারী কর্মীদেরও কাজের নামে অহেতুক অফিসে আটকে রাখা হচ্ছে, যা মানবিক ব্যাংকিংয়ের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন গর্ভনর।

তিনি বলেন, “আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অযৌক্তিকভাবে আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে তাদের মনোযোগ গ্রাহককে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের পরিবর্তে আমানতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এজন্যে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে।”

ব্যাংক মালিকদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা বলেন, “আমি চাই, ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের হয়রানির পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না। আমানত সংগ্রহ ও মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়ে আপনারা সতর্ক হবেন। আর এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবো না।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এমএম

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য