artk
১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ০১ মে ২০১৭, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন সব ঐতিহ্য

আসমা খাতুন | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬২১ ঘণ্টা, শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭


হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন সব ঐতিহ্য - টুইট-ফেস

ছোটবেলায় যখন গ্রামে যেতাম তখন ফুপু, চাচী, মামী, খালা- এই সব নাইওরিদের পালকিতে চড়ে এসে নামতে দেখেছি বাপের বাড়ি বা শ্বশুর বাড়ির ভিটাতে। মনে পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায়। হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য। কেমন যেন নস্টালজিক হয়ে যাই। এখন নাইওরিরা আসেন বাসে, লঞ্চে অথবা ভ্যানে চড়ে। আমরা চাই বা না চাই এই ঐতিহ্যগুলো আমরা আর কিছুতেই ধরে রাখতে পারছি না। তার বদলে এসে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর বিলাস বহুল যন্ত্র চালিত যান বা সামগ্রী। হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি, ধানের ডোল, খড়ের ঘর, ঢেঁকির ব্যবহার এবং কিছু কিছু খেলা। হারিয়ে যাচ্ছে আরও অনেক কিছু।

এক সময় ধানের গোলাঘরের বহুল প্রচলন ছিল। গ্রামে ধান রাখবার জন্য তৈরি একটি বিশেষ ধরনের ঘর থাকত। সাধারণত গ্রামের অবস্থাপন্ন চাষিদের ঘরে থাকত এই ধরণের ধানের গোলাঘর। আমাদের গ্রামে বলত ধানের ডোল। বাড়ির মেয়েরা বিয়ে করতে না চাইলে মা চাচীরা অনেক সময় বিদ্রুপের ভঙ্গিতে অথবা হাসির ছলে বলতেন মেয়েকে - ‘তোমাকে ডোলে বসিয়ে রাখব যত্ন করে, বিয়ে করতে হবে না।’

এক সময় গ্রামের বেশিরভাগ গরিব চাষির বাড়িতেই খড়ের ঘর থাকত। গরমের দিনে এইসব খড়ের ঘর অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা থাকত। শীতকালে এই ঘরগুলো টিনের ঘরের চাইতে কম ঠাণ্ডা ছিল। বর্তমানে বেশিরভাগ চাষির বাড়িতে খড়ের জায়গা দখল করেছে চকচকে টিনের ঘর অথবা ইট-সিমেন্টের বাড়ি। এখনকার জেনারেশনের কল্যাণে (বিদেশে পাড়ি দেয়ার কারণে) স্বস্তি বেড়েছে - হয়তো সুখও বেড়েছে। কিন্তু হারিয়ে গেছে প্রাচীন ঐতিহ্য।

এক সময় ঢেঁকিতে পা পড়লেই পড়শিরা বুঝে যেতেন কুটুম আসছে বাড়িতে। দিনভর, রাতভর চলত গুড়ি কোটার ছান্দিক আওয়াজ। সেই শব্দের সাথে সাথে কৃষাণীদের মিঠে সুরের গীতও ভেসে আসত। এছাড়া থাকত সারা বছরের ধান ভাঙানোর কাজ, যা শুরু হতো ফজরের আজানেরও আগে থেকে। এর সাথে থাকত কলাই, মসুর, ভাঙানো, চিড়া কোটা, বিভিন্ন ধরনের ছাতু কোটার কাজ। বৌ-ঝিরা প্রচুর পরিশ্রম করতেন তখন।

গ্রামের বহুল প্রচলিত একটি খেলা যা ছোট বেলায় গ্রামে গেলে আমরাও খেলতাম। সম্ভবত ইচিং বিচিং খেলা এর নাম। শহরেও প্রচলিত ছিল খেলাটি একসময়। তখন বড় বড় মাঠ পাওয়া যেত খেলার জন্য। শিশুরা অনেক ধরনের খেলাই খেলতে পারত। বউচি, গোল্লাছুট, হাডুডু, এক্কা দোক্কা খেলা, ডাংগুলি, ওপেন্টি বায়োস্কোপ ইত্যাদি বহু রকমের খেলাই তারা খেলতে পারত খোলা মাঠগুলোতে। শিশুদের স্বাস্থ্য ভালো থাকত দৌড়াদৌরি করে এইসব খেলার কারণে। আমার ছোট বেলাতে আমিও প্রচুর খেলার মাঠ পেয়েছি।

গরুর গাড়ির প্রচলন কিছুদিন আগেও গ্রামবাংলায় ছিল। গ্রামের অনেক ধরনের ব্যবসার কাজ চলত গরুর গাড়ি দিয়ে। এছাড়া মানুষের চলাচলের ব্যাবস্থাও অনেকটাই গরুর গাড়ি নির্ভর ছিল। এমনকি বাড়ির বউ ঝিরাও নাইওরে যেতেন গরুর গাড়িতে চড়েই।


আসমা খাতুনের ফেসবুক পোস্ট (উদ্ভিদ চত্বর)

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত