artk
৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৮ আগস্ট ২০১৭, ১০:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নির্বাচন ভবন: গণতন্ত্রের বাতিঘর

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২৩৪ ঘণ্টা, রোববার ২২ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২৪১ ঘণ্টা, রোববার ২২ জানুয়ারি ২০১৭


নির্বাচন ভবন: গণতন্ত্রের বাতিঘর - টুইট-ফেস

আজ (২২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন তার নিজের বাড়িতে। বড় সংসার অনেক মালপত্র- গত দুই দিন মালপত্র স্থানান্তরের কাজ হয়েছে, আজও সারাদিন বিভিন্ন শাখা-অধিশাখার মালপত্র ছেড়ে আসা ভবন হতে আনা হয়েছে। নতুন ভবন, এখনো শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। ধুলো-বালি এখনো উড়ছে। এর মধ্যেই নতুন- নিজস্ব ভবনে আসার আনন্দে চলছে গোছানোর কাজ। সবার মধ্যেই নবউদ্যমের প্রাণচাঞ্চল্য, চোখ মুখে আনন্দের ঝিলিক। মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মাননীয় নির্বাচন কমিশনার, সচিব মহোদয়সহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অফিস গোছানো হয়ে গেছে, অন্যান্য অধিশাখা শাখার অফিস গোছানো চলছে। দুই একদিনের মধ্যেই আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

নির্বাচন কমিশন ভবন- রাজধানীর আগারগাওয়ে প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত একটি দৃষ্টি নন্দন ভবন। আর্কিটেকচারাল দিক থেকে রাজধানীর অন্যান্য ভবন হতে সম্পুর্ন ভিন্ন। দেশীয় প্রকৌশলীগণ এ ভবনের নকশা, স্ট্রাকচারাল আর্কিটেকচারাল ডিজাইন প্রণয়ন ও নির্মান কাজ করেছেন।

ভবনের অনেক দুর হতেই চোখে পড়বে নির্বাচন ভবন লেখা এবং অতি ও সুপরিচিত লাল-সবুজের মনোগ্রাম। ভবনে ঢুকতেই চোখ আটকে যাবে দুটি ভাস্কর্যে- গেটের দক্ষিনে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য এবং উত্তর পাশে চোখ ফেরালেই দৃষ্টি আটকে যাবে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতিকৃতি- শহীদ মিনারে।

ভবনে প্রবেশের আগেই দেখা যাবে মনোমুগ্ধকর বাগান, কই পুকুর এবং পিছনে রয়েছে বিশাল ফোয়ারা। ভবনে প্রবেশের মুখেই দেখা যাবে সুন্দর অভ্যর্থনা ডেস্ক তার পেছনেই রয়েছে – মুক্তিযুদ্ধ, নির্বাচনে ভোটের লাইন ও আবহমান বাংলার বিভিন্ন বিষয় সমন্বিত দৃষ্টি আটকে যাওয়া টেরাকাটা। ভবনের ৪তলায় মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরের সামনেই রয়েছে আরেকটি মনোমুগ্ধকর ফোয়ারা।

সুবিশাল নির্বাচন ভবনে রয়েছে যাবতীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রয়েছে, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিডিয়া সেন্টার ও অডিটোরিয়ামে রয়েছে অত্যাধুনিক সাউন্ডসিস্টেম। এছাড়া রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সুবিধাদি।

বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২১৩.০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ তলা বিশিষ্ট ২.৫৮ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের নির্বাচন ভবন এবং এর পেছনেই ১২তলা বিশিষ্ট ১.২২ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জুলাই ২০১১ সময়ে কাজ শুরু করা হয়, নির্ধারিত সময় জুন ২০১৭ এর আগেই কাজ শেষ করা হয়।

ফিরে দেখা নির্বাচন কমিশন কমিশনের অফিস- স্বাধীনতাপূর্ব প্রভিনসিয়াল নির্বাচন অফিস ছিল ঢাকার মোমেনবাগে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা বোমা মেরে আক্রমন করে এতে একজন নাইটগার্ড নিহত হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তার জন্য ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি তা স্থানান্তর করে নেয়া হয় সচিবালয়ে। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি নির্বাচন কমিশন এর অফিস স্থানান্তরিত হয় শেরে বাংলানগরের গেজেটেড অফিসার্স হোস্টেলের (প্ল্যানিং কমিশন চত্বর) ৫ ও ৬ নং ব্লকে। ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত সেখানেই ছিল নির্বাচন কমিশনের অফিস। এর মধ্যে অনেকবারই নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অফিস ভবন নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শোনা যায় বর্তমানে যেখানে স্কাউট ভবন সেখানে একবার জায়গা দেয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে চামেলী (চামেরী) হাউসেও স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব ছিল। কেন স্থানান্তর হয়নি তা জানা যায়নি।

১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে প্রাক্তন আবহাওয়া ভবন, যেখানে একসময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অফিসও ছিল, সেই পরিত্যাক্ত ভবন নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়। সেখানে নির্বাচন কমিশনের গোডাউনও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই জায়গায় ন্যাম সম্মেলনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে যা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। এর পর নির্বাচন কমিশনের জন্য জায়গা দেয়া হয় আগারগাঁওয়ের প্রশাসনিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পাশে। জায়গাটি আয়তনে ছোট ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭/২০০৮ সালের দিকে ভবন নির্মাণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন নির্বাচন কমিশন ছোট জায়গা সমর্পণ করে বড়পরিসরের বর্তমান জায়গা বরাদ্ধ গ্রহণ করে। তখন হতেই ডিজাইন, প্রকল্প গ্রহনের কাজ শুরু হয় এবং ডিজাইন ও প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমান কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়- যা দৃষ্টি নন্দন নির্বাচন কমিশন ভবন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ ২০১৬ সালের বিজয়ের মাসের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ভবনটির শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আজ নির্বাচন কমিশনের যে শুভযাত্রা শুরু হলো তা আগামীতে গণতন্ত্রের বাতিঘর হিসাবে আলো ছড়াবে যুগ থেকে যুগান্তরে’।

লেখক: আাসাদুজ্জামান আরজু, পরিচালক (জন সংযোগ), বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত