artk
১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ০১ মে ২০১৭, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

সংলাপ: আইনের দাবি সব দলের, বিএনপি চায় ঐক্য

আদিত্য রিমন | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০১২৮ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২২৮ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭


সংলাপ: আইনের দাবি সব দলের, বিএনপি চায় ঐক্য - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে প্রায় সব দলই আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছে। শুধু বিএনপি বলেছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইসি গঠন করতে হবে। কারণ বিএনপি মনে করে, বর্তমান সংসদের আইন প্রণয়নের নৈতিক অধিকার নেই। 

দলটি মনে করে, যেহেতু তারা সংসদে নেই, তাই ক্ষমতাসীনরা নিজেরদের সুবিধামতো আইন তৈরি করবে। তাই সমঝোতার মাধ্যমেই ইসি গঠনের পক্ষে বিএনপি।

সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে প্রায় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল। আইন তৈরির পাশাপাশি কমপক্ষে একজন নারী নির্বাচন কমিশনার রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তুলে ধরা হয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টিও উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতির সংলাপে।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন দলের সংলাপ শুরু হয়। ১১ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ সংলাপ শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে মোট ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসেছেন রাষ্ট্রপতি। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও এ সংলাপে অংশ নেয়। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত বঙ্গভবন থেকে ডাক পায়নি। পরে অবশ্য দলটি গণমাধ্যমে তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বুধবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিয়ে ৪টি প্রস্তাব দেয়। আওয়ামী লীগের আগে সংলাপে অংশ নেয়া ২২টি দলের মতো তারাও নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। তবে তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে।

এছাড়া দলটির পক্ষ থেকে দেয়া বাকি তিনটি প্রস্তাব হলো- সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিবেন। সেটা তিনি চাইলে সার্চ কিমিটির মাধ্যমে দিবেন, অথবা তিনি সরাসরি কাউকে নিয়োগ দিবেন) অনুসারে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ। রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী অভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে ই-ভোটিং সিস্টেম চালু।

সংলাপে সবার আগে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সংলাপের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানান এবং ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। ১৮ ডিসেম্বর সংলাপে অংশগ্রহণ করেও সে প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

গত ২০ ডিসেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সংলাপ শেষে দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার এক সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ইসির আইন প্রণয়নসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়ার বিষয় গণমাধ্যমকে জানান।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণকারী এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (বাদল), গণতন্ত্রী পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবের মধ্যে আইন প্রণয়নের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ওয়ার্কার্স-পার্টিসহ আরো বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনে টাকার খেলা, মহাসন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ হস্তক্ষেপ আইনে নিষিদ্ধ থাকতে হবে এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতির কাছে।

নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিস্তৃত পৃথক সচিবালয়সহ নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি। সংলাপে অংশগ্রহণকারী তরিকত ফেডারেশনসহ বেশি কিছু দল সংবিধানে ৭৯ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের নিজস্ব সচিবালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জন্যও নিজস্ব সচিবালয় গঠন ও আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হবে এমন পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতিকে।

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্র এই চার স্তরে স্থায়ী জনবল নিয়ে স্বতন্ত্র কাঠামো দাঁড় করাতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিতে হবে। আগের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া অধিকাংশ দলই সার্চ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল। ইসি গঠন নিয়ে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপসহ ২৩টি দলের মতামত নেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। এবারও ২৩টি দল সংলাপে অংশ নেয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এআর/এমএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য