artk
১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই ২০১৭, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

সংলাপ শেষে বঙ্গভবন ছেড়েছেন আ.লীগ নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯০০ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০০৫৬ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭


সংলাপ শেষে বঙ্গভবন ছেড়েছেন আ.লীগ নেতারা - রাজনীতি

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ শেষে বঙ্গভবন ছেড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বুধবার সন্ধ্যা ৫ টা ৪০ মিনিটে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবন থেকে বের হয় তারা।

এর আগে বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটি। এসময় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির কাছে দলের পক্ষ থেকে চারটি প্রস্তাব দেয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবগুলো হলো-

১. সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিবেন। সেটা তিনি চাইলে সার্চ কমিটির মাধ্যমে দিবেন, অথবা তিনি সরাসরি কাউকে নিয়োগ দিবেন) অনুসারে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ।

২. রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী অভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ।

৩. প্রধান নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি।

৪. সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে ই-ভোটিং সিস্টেম চালু।

বৈঠকে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও অ্যাম্বাসেডর জমির, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গির কবির নানক, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হচ্ছে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ। তাই নতুন ইসি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেন। বুধবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি এ পর্যন্ত ২২টি রাজনৈতিক দলের মতামত নেন।

বিএনপি বৈঠকে নতুন ইসি গঠনে একটি সার্চ কমিটি গঠন এবং ইসিকে শক্তিশালী করতে জন প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাব দেয়।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাবে নতুন ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছে, নতুন আইন করা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (কেএসজেএল) একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ইসি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন ইসিতে নারী প্রতিনিধি রাখারও প্রস্তাব করেছেন তারা।

ওয়াকার্স পার্টি একটি সার্চ কমিটি ও ইসি গঠনে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ইসিতে কমপক্ষে দুজন নারী রাখারও প্রস্তাব করেছেন।

ইসলামী ঐক্যজোট (আইওজে) বর্তমানের পাঁচ সদস্যের পরিবর্তে আট সদস্যের ইসি গঠন এবং যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সার্স কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে।

জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ইসিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী লোকদের নিয়ে একটি সার্চ কমিটি ও ইসি গঠনে ১৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশানর নিয়োগ দিতে সংবিধানের আলোকে একটি নতুন আইন প্রণয়নের ও প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি সার্চ কমিটি ও নতুন ইসি গঠনে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছে।

নতুন ইসি গঠনের জন্য বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (বিএসডি) রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশনারের নাম প্রস্তাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধী দলীয় নেতা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সমন্বয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (এনএপি) নতুন ইসি গঠনে সাতদফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে নতুন আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে নতুন আইন প্রণয়নসহ সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ইসি গঠনে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন আইন প্রণয়নসহ তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

নতুন ইসি গঠনে গণফোরাম নয় দফা প্রস্তাব, গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আট দফা করে প্রস্তাব দিয়েছে।

বিকল্প ধারা বাংলাদেশ তিন দফা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া) একটি সার্চ কমিটি ও নতুন ইসি গঠনে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।


নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত