১০ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম

যৌক্তিক কারণেই দায়মুক্তি: দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩০৭ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৪৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭


যৌক্তিক কারণেই দায়মুক্তি: দুদক চেয়ারম্যান - জাতীয়
ফাইল ফটো

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)এ পর্যন্ত যাদের দায়মুক্তি দিয়েছে তা যৌক্তিক কারণেই দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হবে। আমরা যৌক্তিক কারণেই তাদের দায়মুক্তি দিয়েছি।”

‘ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন, নইলে কপালে কঠিন পরিণতি অপেক্ষা’ করছে- দুর্নীতবাজ কর্মকর্তাদের প্রতি এমন হুঁশিয়ারিও দেন ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতিবাজরা যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে সে ব্যাপারে দুদকের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসব দুর্নীতিবাজদের দেশত্যাগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সন্দেহভাজন কেউ যদি বিদেশে যেতে চায় তবে সেই ক্ষেত্রেও দুদকের অনুমতি নিতে হবে। তাদের যাবার প্রকৃত কারণ ক্ষতিয়ে দেখবে দুদক।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে ছোট বড় বলে কিছু নেই। দুর্নীতিবাজ সবাই অপরাধী। সরকারের বড় আমলাদের প্রতি আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই। যে অপরাধ করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে দুদক।”সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগ পায় দুদক। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় একহাজার ৫৪৩টি অভিযোগ। প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয় ৫৪৩টি অভিযোগ।

এসময় বিগত বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে দুদক চেয়ারম্যান জানান, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে দুদকে ২১ শতাংশ বেশি অভিযোগ এসেছে। ২০১৬ সালে দুদকে মোট অভিযোগ আসে ১২ হাজার ৫৬৮টি। অনুসন্ধানে জন্য গৃহীত হয় একহাজার ৫৪৩টি। এসময় প্রশাসনিক ব্যবস্থার নেয়ার জন্য পাঠানো হয় ৫৪৩টি।

আগের বছর ২০১৫ সালে অভিযোগ ছিল ১০ হাজার ৪১৫টি। অনুসন্ধানে জন্য গৃহীত অভিযোগ একহাজার ২৪০টি। এসময় প্রশাসনিক ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য পাঠানো হয় ১৬৫টি।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে দুদকে মামলা দায়ের কম হয়েছে। এর কারণ হলো দুদক আইন সংশোধনের ফলে বেসরকারি ব্যক্তিদের প্রতারণাসহ কতিপয় অপরাধ কমিশন আইনের তফসিল বহির্ভূত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে দুদকে মোট মামলা দায়ের হয় ৩৩৯টি। চার্জশিট দাখিল হয় ৫২৮টি। মামলার ফাঁদ ১৩টি। আগের বছর ২০১৫ সালে মামলা ছিল ৫২৭টি। চার্জশিট দাখিল ৬১৪টি। মামলার ফাঁদ ছিল চারটি।

২০১৬ সালে মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮৭ জন। এসময় সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন ১৬৮ জন। জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার ১৩ জন, বীমা, নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রেপ্তার আট জন।

এছাড়াও ব্যবসায়িসহ অন্যান্য ১১২ জন গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালে ৩০টি গণশুনানি হয়েছে। যা আগের বছর ছিল পাঁচটি।

বিচারিক আদালতের তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালে দুদকের নিষ্পত্তিকৃত মামলা সংখ্যা ২১৪টি। এর মধ্যে সাজা ১১৬টি, খালাস ৯৮টি। ওই সালে সাজার হার ছিল ৫৪ দশমিক ২০ শতাংশ, যা ২০১৫ সালে ছিল ৩৭ শতাংশ।

২০১৬ সালে বিলুপ্ত ব্যুরোর আমলের নিষ্পত্তিকৃত মামলা সংখ্যা ৮৬টি। এর মধ্যে সাজা ৩৯টি, খালাস ৪৭টি। ওই সালে সাজার হার ছিল ৪৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ সাজার হার ছিল ২৫ শতাংশ।

এর পর দুদক ২০১৭ সালের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে। এগুলো হলো-২০১৭ সালে কমিশন জনশ্রুত রয়েছে এমন দুনীতিপ্রবণ দপ্তর নজরদারি করবে, দুদক কর্মকর্তাসহ মিডিয়া কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইনসেনটিভের ব্যবস্থা, ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, দুদকের সব সদস্যদের কর্মপরিধি চূড়ান্তকরণসহ প্রকাশনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম আপগ্রেডেশন করার উদ্যোগ নেবে, জেলা ও উপজেলায় প্রতিমাসে ন্যুনতম তিনটি গণশুনানি আয়োজন করা হবে, জেলা ও উপজেলায় বালক ও বালিকা স্কুলগুলোতে সততা স্টোর করা হবে, দুর্নীতিবিরোধী মনোভাবের জন্য বছরে একবার বিভাগীয় শহরে সততা মেলার আয়োজন করা হবে, প্রসিকিউশন ইউনিটকে শক্তিশালীকরণে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ আইনজীবী নিয়োগসহ পুনঃনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে, কোর্ট পরিদর্শকের মাধ্যমে আইনজীবীদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখা হবে, শক্ত গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হবে, আটক সুবিধার জন্য প্রধান কার্যালয়ে একটি ও সব জেলা কার্যালয়ে একটি করে আটক কেন্দ্র করা হবে, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরো বাড়ানোসহ সব ধরনের নজরদারি বাড়ানো হবে, সম্পদ পুনরুদ্ধার গঠনের উদ্যোগসহ দুদকে অভিযোগ দায়েরের জন্য ১০৬ নম্বরে একটি হট লাইন চালু করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএজেড/এমবি/ এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত