artk
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২৪ মে ২০১৭, ১২:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কাঁদলেন ওবামা, কাঁদলো কি দুনিয়া!

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২৪৮ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০০৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭


কাঁদলেন ওবামা, কাঁদলো কি দুনিয়া! - বিদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হাতে আর মাত্র নয়দিন বাকী। এই সময়ের মাঝে প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। গত মঙ্গলবার শিকাগোতে সফরকালে তিনি দিলেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সর্বশেষ ভাষণ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থকদের সামনে রাজনীতি নয়, জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে দিলেন আবেগঘণ এক বক্তৃতা।

ওবামা তার দীর্ঘ বিদায়ী ভাষণে দেশের গণতন্ত্রের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং দেশের মানুষকে এই গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বানও জানান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে সকল হুমকি থেকে বাঁচানোর জন্যও বলেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গণতন্ত্র রক্ষার যে শপথ নিয়ে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় বসেছিলেন ওবামা, সেই প্রতিশ্রুতি কী তিনি রাখতে পেরেছেন এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে!

ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ ইস্যুতে বেশ কয়েকবার উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। বর্ণবাদ ইস্যুতে এক ব্রুকলিনকে সামলাতেই কষ্ট হয়েছে ওবামার। অবশ্য বিদায় ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বর্ণবাদ আছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র রক্ষার প্রথম শর্তেই তিনি সফল হতে পারেননি। আর নিজে পারেননি বলেই হয়তো বিদায় ভাষণে গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানাতে হলো তাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ গত আট বছরের বিভিন্ন সফলতার কথা উল্লেখ করেন ওবামা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা, ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পরমাণু চুক্তি বিস্তার ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তিনি মানতে পারেননি। তাইতো গুয়ানতানামো বে’র মতো কুখ্যাত কারাগারকে এতো চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারেননি তিনি।

বর্তমানে ৫৫ বছর বয়সী ওবামার ২০০৮ সালের নির্বাচনের অন্যতম স্লোগানের মধ্যে একটি ছিল ‘পরিবর্তন’। তিনি পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু তার আমলেই যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি বৈষম্যের শিকার, আরো বেশি অর্থনৈতিক সঙ্কটাবস্থার শিকার, আরো বেশি বিতর্কের শিকার। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতিতে ওবামা প্রশাসন বিশ্বকে যে অস্থিরতা উপহার দিয়েছেন গত আট বছরে তার খেসারত দিতে হচ্ছে আজ কথিত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোকে।

যাবার বেলাতেও মুসলিমদের নিয়ে কথা বলতে ভোলেননি ওবামা। ‘মুসলিমরা আমাদের মতোই দেশপ্রেমিক’ এটাই ছিল মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলা ওবামার কথা। অথচ, তার আমলেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের উপর সর্বোচ্চ নজরদারি চালানো হয়। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে তার আমলেই।

বিদায় ভাষণের শেষের দিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন ওবামা, তার স্ত্রী ও কন্যারা। কেঁদেছেন ডেমোক্রেট শিবিরের আরো অনেকেই। কিন্তু বিশ্ববাসী কী আদৌ কাঁদলো ওবামার জন্য এই প্রশ্ন থেকেই যাবে। কারণ ওবামার নীতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে যে অবস্থার তৈরি হয়েছিল, সেই অবস্থার সুযোগ নিয়েই আজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন অরাজনীতিক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/কেকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য