১১ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারি ২০১৭, ৫:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম

জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীমুক্ত হলো ইসলামী ব্যাংক!

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৪৫ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৫৬ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭


জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীমুক্ত হলো ইসলামী ব্যাংক! - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক ও প্রতিষ্ঠানের তকমা মুছতে ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এ পরিবর্তন হঠাৎ করেই।

তবে সত্যিকার অর্থে ব্যাংকটি কি জামায়াত-শিবির মুক্ত হলো? ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই জামায়াত ও শিবির মতাদর্শের। আদৌ কি তাদের মনোভাবের পরিবর্তন আসবে শীর্ষ পর্যায়ের পরিবর্তনের প্রভাবে?

সূত্র বলছে, ব্যাংকটির নতুন নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সোনারগাঁও হোটেলে সব শাখা প্রধানদের ডেকেছেন। সেখানে দুদিন ব্যাপী সম্মেলন ডাকা হয়েছে। মূলত নতুন বছরের জন্য দিক নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হলেও কার্যত সেখানে শাখা প্রধানদের দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।

ব্যাংকটি কীভাবে চলবে তারও নির্দেশনা দেয়া হবে শাখা প্রধানদের। আহ্বান জানানো হবে, তাদের মতাদর্শ পাল্টে ব্যাংকিং করার জন্যও।

জানা যায়, ব্যাংকটিকে জামায়াতমুক্ত করতে বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছিলো। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট সংগঠিত গণজাগরণ মঞ্চ ইসলামী ব্যাংককে রাষ্ট্রায়ত্ত করার দাবি তোলে ২০১২ সালে।

তবে আগে থেকেই উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুন থেকে। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। নতুন নতুন কোম্পানি তৈরি করে ব্যাংকটির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের পদত্যাগের মাধ্যমে ব্যাংকটির পর্ষদ পুরো জামায়াতমুক্ত হল বলেই ধারণা।

নতুন পরিচালকদের একজন নাম প্রকাশ না করার সোমবার রাতে কথা বলেন নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে। তিনি বলেন, জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তনে এস আলম গ্রুপের নাম শোনা গেছে। যদিও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। কিন্তু নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ব্যাংকে অফিস করার আগেই সাইফুল আলম ব্যাংকে গিয়েছিলেন গত রোববার।

এদিকে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ থেকে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ সবার কাছেই বিষয়টি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসনে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় আরমাডা স্পিনিং মিলের পক্ষে পরিচালক হিসেবে আরাস্তু খান যোগ দেন। সেখানেই তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপরই চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের পদত্যাগপত্র উপস্থাপন করেন। এরপর তিনিও চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পরই মুস্তাফা আনোয়ার সভা থেকে বের হয়ে যান। এরপরই কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরাস্তু খানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিঞাকে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল সোমবার নতুন এমডি পদে যোগও দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জাহিদুল কুদ্দুস মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে নিয়োগ দেয়া হয়।

আরাস্তু খান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, ব্যাংকটি পরিচালনায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। শুধু বিধি বিধান যথাযথভাবে পরিপালন করা হবে।

২০১৩ সালের ২২ মে ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় আবু নাসের আবদুজ জাহের তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে ২০১৫ সালের ১৩ জুন ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় মুস্তাফা আনোয়ারকে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান করা হয়।

২০১০ সালের মে মাস থেকে ব্যাংকটির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। আগামী জুনে এমডি পদে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাদেশবে বলেন, “নিশ্চয়ই আইনকানুন মেনে, যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এ পরিবর্তন হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আরাস্তু খানকে চিনি। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করি না।”

গত বৃহস্পতিবার আজিজুল হক পদত্যাগ করায় স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে আছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, পূবালী ব্যাংকের সাবেক (এমডি) হেলাল আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি জিল্লুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আবদুল মাবুদ, আইনজীবী বোরহান উদ্দিন আহমেদ এবং বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিক ও নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদে আছেন বিদেশি আল-রাজী, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও সরকারি খাতের ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ইসলামী ব্যাংকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু বলার নেই। তবে এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। সেটি চাওয়া হয়েছে।”

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, “বিদেশি উদ্যোক্তাদের চাওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে ব্যাংক খাতে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য