artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

হাতিরঝিলের ‘নতুন রূপ’ দেখা যাবে এ বছরই

মুনিফ আম্মার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৪৩ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩১১ ঘণ্টা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭


হাতিরঝিলের ‘নতুন রূপ’ দেখা যাবে এ বছরই - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: এতোদিন কেবল ঘুরে বেড়ানো আর অবসরে খানিকটা আড্ডা দিয়ে কাটানোর জায়গা ছিল হাতিরঝিল। তবে পাল্টে যাচ্ছে এবার। ‘নতুন রূপে’ দেখা যাবে রাজধানীর মনোমুগ্ধকর এ স্থানটিকে। চলতি বছরের মধ্যেই হতিরঝিলে যুক্ত হচ্ছে উন্নত বিনোদনের আরও কয়েকটি সুবিধা। এম্ফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ), ফাউন্টেন মিউজিক (সঙ্গীতের সঙ্গে জলফোয়ারা) ও অভয়ারণ্য দ্বীপ তৈরি হচ্ছে হাতিরঝিল প্রকল্পে। 

পাশাপাশি বানানো হচ্ছে ১০তলা গাড়ি পার্কিং ভবন। আর নাগরিক নিরাপত্তার জন্য হাতিরঝিল থানার ঘোষণা তো আরও আগেই এসেছে। উন্নত দেশগুলোর এমন দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে মিলিয়েই হাতিরঝিলে রাখা হবে সব ধরনের সুবিধা।

ইতোমধ্যে হাতিরঝিল প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও এক বছর। বাড়তি এ বছরের মধ্যেই হাতিরঝিলকে সাজিয়ে তোলা হবে বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে। তবে এ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে এ মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও সূত্রটি জানায়।

হাতিরঝিল সমম্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা মেজর শাকিল হোসেন নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “হাতিরঝিল হবে একটি উন্নত ও আধুনিক স্থান। এ প্রকল্পের কারণে নগরের সৌন্দর্য যেমন বেড়ে গেছে তেমনি নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থাও হাতিরঝিল ভূমিকা রেখেছে। এ বছরের মধ্যে হাতিরঝিলে আরও বড় কয়েকটি জিনিস যুক্ত হবে। এরপর হাতিরঝিলের রূপ আরও ফুটে উঠবে।”

মার্চে উদ্বোধন হবে এম্ফিথিয়েটার
জানা যায়, চলতি বছরের মধ্যে হাতিরঝিলে উন্মুক্ত করা হবে এম্ফি থিয়েটার। গুলশান আড়ং থেকে পুলিশ প্লাজার মাঝামাঝি জায়গায় গড়ে তোলা এ এম্ফি থিয়েটারের সিংহভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এ কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী এ থিয়েটারের উদ্বোধন করতে পারেন। খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত মঞ্চ ও গ্যালারি থাকবে এ থিয়েটারে। গান, নাটকসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হবে এ মঞ্চ।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এম্ফি থিয়েটার দরপত্রের মাধ্যমে লিজ দেয়া হবে। যারা লিজ পাবেন তারাই এটি পরিচালনা করবেন।

তৈরি হচ্ছে সংগীতের জলফোয়ারা
হাতিরঝিলের লেকে তৈরি করা হচ্ছে- মিউজিক ফাউনটেন। মিউজিকের তালে নাচবে এ জলফোয়ারা। পুরো পরিবেশকে তা রঙিন করে তুলবে। এর কাজও এগিয়ে গেছে অনেকখানি। এম্ফি থিয়েটারের সঙ্গে মিউজিক ফাউন্টেনের উদ্বোধনও প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে হতে পারে বলে জানান প্রকল্প কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “ফাউন্টেনের সরঞ্জাম আমাদের কাছে চলে এসেছে। এগুলো সব বিদেশ থেকে আমদানি করা। শিগগিরিই এ কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর এটি হাতিরঝিলের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।”

‘অন্যরকম’ অভয়ারণ্য দ্বীপ
এদিকে হাতিরঝিলের রামপুরা-বাড্ডা এলাকার লেকের মাঝামাঝি স্থানে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘অভয়ারণ্য দ্বীপ’। দ্রুত গতিতে চলছে এ দ্বীপ নির্মাণের কাজ। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুর ট্রাক দিয়ে দ্বীপটি ভরে তোলা হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এ দ্বীপটি মূলত নানা ধরনের গাছ গাছালি দিয়ে সাজানো হবে। পাশাপাশি দ্বীপে ছেড়ে দেয়া হবে বিভিন্ন জাতের প্রাণী। এসব প্রাণী নিজেদের মতো করে ঘুরে বেড়াবে সে দ্বীপেই। হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এটা হবে অন্যরকম চমক।

মেজর শাকিল বলেন, “এ দ্বীপের নাম এখনও ঠিক করা হয়নি। দ্বীপের মাঝখানটা পাহাড়ের মতো করে তৈরি করা হবে। আর এ পাহাড়ের নিচে থাকবে মিউজিক ফাউন্টেনের কন্ট্রোল রুম। যা বাইরে থেকে একদম দেখা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সর্বসাধারণের জন্য এ দ্বীপ উন্মুক্ত না হলেও লেকের পাশ থেকে দ্বীপ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। আর দ্বীপটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যাতায়াতের জন্য ওয়াটার ট্যাক্সি ব্যবহার করা হবে।”

অভয়ারণ্য দ্বীপটির নাম এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানা যায়। তবে এটি নির্মাণের পর পরই গাছ লাগিয়ে দেয়া হবে। গাছগুলো একটু বড় হওয়ার পরেই হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ১০তলা গাড়ি পার্কিং ভবন
হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ১০তলা গাড়ি পার্কিং ভবন। এ ভবনে একসঙ্গে রাখা যাবে হাজারের মতো গাড়ি।

এটি নির্মাণ হয়ে গেলে হাতিরঝিলে গাড়ি নিয়ে আর কাউকে বিপাকে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন। তার মতে, হাতিরঝিলে এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। কিন্তু নির্দিষ্ট পার্কিংস্পট না থাকায় সড়কেই তাদের গাড়ি রাখতে হয়। পার্কিং ভবনটি নির্মাণ হয়ে গেলে পার্কিং সমস্যা আর থাকবে না।

মেজর শাকিল বলেন, “এ পার্কিং ভবনের কাজ ১৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। তারপরেই এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।”

এদিকে মধুবাগের পরে হাতিরঝিলের লেকের মাঝে থাকা মসজিদে বাইতুল মাহফুজও সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। মসজিদটির জন্য অন্য একটি স্থানও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় এখনই মসজিদটি সেখানে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না বলে জানা যায়।

প্রকল্প কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায়, হাতিরঝিল থেকে ছয়টি মসজিদ সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এ মসজিদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় মসজিদটি সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে হাতিরঝিলে চালু হয়েছে ওয়াটার ট্যাক্সি। বর্তমানে চারটি ওয়াটার ট্যাক্সি চললেও এ সংখ্যা বাড়ানো হবে শিগগিরই। রাতের হাতিরঝিলকে আলোকময় করার জন্য বিভিন্নস্থানে লাগানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাতি। যেগুলোর আলোয় লেকের পানি দিনের মতো করেই আলোকিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এ আলো আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানা যায়।

রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার সঙ্গে হাতিরঝিলের যানজটহীন সংযোগের সঙ্গে বনশ্রীর সঙ্গে একটি ইউলুপ করা হয়েছে। বাড্ডার সঙ্গেও একইরকম অন্য একটি ইউলুপ নির্মাণ কাজ চলছে। শিগ্‌গিরই ইউলুপটির কাজ শেষ হবে। আর হাতিরঝিলের এ পাশ থেকে ওপাশে সহজে যাতায়াতের জন্য একবছর আগেই চালু হয়েছে চক্রাকার বাস সার্ভিস।

এছাড়া হাতিরঝিলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি থানা নির্মাণের ঘোষণা আরও আগে এসেছে। আফতাবনগরে ঢোকার মুখে এ থানার জন্য প্রাথমিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত হয়ে গেলেই থানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

হাতিরঝিল প্রকল্পের কর্মকর্তা মেজর শাকিল বলেন, “হাতিরঝিল অলরেডি চেইঞ্জড। এটি এখন নগরবাসীর বিনোদন ও অবসর কাটানোর অন্যতমস্থান। পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে হাতিরঝিলের সৌন্দযই হবে অন্যরকম।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য