৯ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
শিরোনাম

বলির পাঁঠা ব্যাংকার চৌধুরী মোসতাক আহমেদ

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৫৪ ঘণ্টা, সোমবার ০৯ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০৪০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি ২০১৭


বলির পাঁঠা ব্যাংকার চৌধুরী মোসতাক আহমেদ - অর্থনীতি

ঢাকা: অনিয়মকে ‘প্রশ্রয় দিয়ে’ বলির পাঁঠা হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যাংকার চৌধুরী মোসতাক আহমেদ। পেশাগত জীবনে হোঁচট খেয়ে তিনি নিচের পদে চাকরি করছেন। ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চাকরি ছেড়ে এখন তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি)।

জানা গেছে, চৌধুরী মোসতাক আহমেদ দীর্ঘদিন বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকের এমডি ছিলেন। সেখানে তাকে ‘অনিয়মের দায়ে’ জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে তিনি ওই চাকরি ছেড়ে ন্যাশনাল ব্যাংকে নিচের পদে যোগ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন ব্যাংকারের জন্য এটা অপমানের।

জানা গেছে, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়ার দায়ে ২০১৪ সালে চৌধুরী মোসতাক আহমেদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ ছিল, অনিয়ম করে তিনি ব্যাংকের অফিস ভাড়া বাবদ প্রায় ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন।

অবশ্য জানা গেছে, ব্যাংকের বোর্ডের চাপে ও অনুমোদন না নিয়েই তিনি এই ভাড়া পরিশোধ করেন। ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর।

সূত্র জানিয়েছে, জরিমানার বিষয়টি ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সুনাম নষ্ট হয় এই ব্যাংকারের।

চৌধুরী মোসতাকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, জরিমানা পরিশোধের পর আর কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়াতে চাননি চৌধুরী মোসতাক। তিনি যৌক্তিক জায়গা থেকে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছেন। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংক পর্ষদ তাকে দিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম অব্যাহত রাখতে চায়। ফলে তিনি ব্যাংকটি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক পদ নিচে যোগ দেন ন্যাশনাল ব্যাংকে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কথা বলতে চাননি চৌধুরী মোসতাক আহমেদ। তিনি শুধু বলেন, “আমি ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগ দিয়েছি।”

জানা যায়, নতুন অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম কোনো ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাকে জরিমানা করা হয়।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ উপেক্ষা করে মোসতাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন একজন পরিচালককে। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করা হয়। অথচ তখন ব্যাংকের কোনো কার্যক্রমই ছিলো না। ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক লাইসেন্স-লেটার অব ইনট্যান্ড পেয়েছে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে।

জানা গেছে, ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় গুলশানের জব্বার টাওয়ারে। এটি ব্যাংকের পরিচালক আমজাদ রহমানের টাওয়ার। তিনি ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ড. মো. আতাহার উদ্দিনের ছেলে।

জব্বার টাওয়ারে মোট ৮ হাজার বর্গফুট স্পেস ভাড়া নেয়া হয় ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় করার জন্য। ব্যাংকের পর্ষদ ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩২ মাসের ভাড়া তুলে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে পাঠায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এর বিপক্ষে মত দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কেবল লেটার অব ইনট্যান্ড পাওয়ার পর থেকে অর্থাৎ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসের ভাড়া প্রদান করা যেতে পারে। কিন্তু আগের ২০ মাসের ভাড়া পরিশোধ বেআইনি হবে।

কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুরো ৩২ মাসের জন্য ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। আর এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিধি মোতাবেক জরিমানা করে চৌধুরী মোসতাক আহমেদকে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য