artk
১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিএনপি যত ‘নরম’ হচ্ছে, সরকার তত ‘গরম’ হচ্ছে

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৫ ঘণ্টা, রোববার ০৮ জানুয়ারি ২০১৭


বিএনপি যত ‘নরম’ হচ্ছে, সরকার তত ‘গরম’ হচ্ছে - রাজনীতি

ঢাকা: সরকার পতনের আন্দোলনে নেই বিএনপি। তারপরও দলের প্রতিটি রুটিন কর্মসূচিতে বাধার মুখে পড়ছে সংসদের বাইরে থাকা দলটি। সরকার অনুমতি দিচ্ছে না সভা সমাবেশের। এমনকি অনুমতির জন্য দলটি নমনীয় ভূমিকায় থাকলেও তা পাত্তা পাচ্ছে না ক্ষমতাসীনদের কাছে। উল্টো দিন দিন তারা আরও কঠোর হচ্ছেন বিএনপির প্রতি।

আর তাই বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েও সরকারের অনুমতি না থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে দলটি। সম্প্রতি এমন চিত্রই দেখা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৩০টি রাজনৈতিক দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। এছাড়া অন্য আসনগুলোতে নামমাত্র ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এরপর থেকে এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ বলে আখ্যা দিয়ে কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। গত দুই বছর অনুমতি না পেয়ে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারি ঢাকা ছাড়া সারাদেশের জেলা, মহানগরে কালো পতাকা মিছিল এবং বুকে কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি দেয় দলটি। ৫ জানুয়রি বিএনপি চেয়ারপারসনের হাজিরা থাকায় ঢাকায় কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। তবে ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ নামে পালনের জন্য নানা কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। এমনকি সেদিন ‘বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি পালনের জন্য রাজপথে নামতে দেয়া হবে না, নামলে প্রতিহত করা হবে’ বলেও ঘোষণা দেয়।

৫ জানুয়ারি সারাদেশের বিভিন্নস্থানে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এছাড়া অনুমতি না পাওয়ায় ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীতেও সমাবেশ করতে পারেনি দলটি। এমনকি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও তা দেয়া হয়নি বিএনপিকে। এদিন বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রাখে পুলিশ। কাউকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়া ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ৮ জানুয়ারি রোববার সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর এবং ঢাকায় প্রতিটি থানায় ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয় বিএনপি।

২০০৭ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বিএনপির জন্য বদলে যাওয়া দৃশ্যপটের তেমন হেরফের হয়নি ২০১৭ সালেও। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছে। কর্মসূচি পালনের অনুমতি না দিলে কী আর করার আছে? অস্ত্র নিয়ে তো যুদ্ধ করা সম্ভব না।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকার আমাদের ন্যায্য অধিকার সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। একটা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে এখন আমরা কী করতে পারি, আমরা বার বার অনুমতি চাইতে পারি। আমরা তাই করছি। গণতন্ত্রের সব দরজা জানালা সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। সমাবেশ করতে না দেয়া তারই প্রমাণ।”

এ বিষয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, “বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল নয়। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। কর্মসূচি পালন করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার তা করতে দিচ্ছে না। মিছিল বা বিক্ষোভ করতে নামলে পুলিশ গুলি করছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে তো এই নয় যে সরকার-পুলিশ কর্মসূচি পালন করতে বাধা দেবে। আর আমরাও অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হবো। আশা করি শিগগিরই সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। সরকার গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসবে।”

দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, “সরকারি দল যে কোনো স্থানে সমাবেশের অনুমতি চাইলে পুলিশ তা দেয়। কিন্তু বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। সরকার বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি সমাবেশ করতে চেয়েছিল। সমাবেশের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত