artk
১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ০১ মে ২০১৭, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘ডিএনসিসি মার্কেটে গ্যাসের সিলিন্ডার কেন?’

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭২৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ০৫ জানুয়ারি ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২১৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ০৬ জানুয়ারি ২০১৭


‘ডিএনসিসি মার্কেটে গ্যাসের সিলিন্ডার কেন?’ - জাতীয়

ঢাকা: গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, কাচা মার্কেট ভবনে গ্যাসের ৫টি সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমাকে ছবি দিয়েছে। সিলিন্ডার কেন পাওয়া গেলো। এ থেকে কি বুঝা যায়নি। গ্যাসের সিলিন্ডার কি আমি রেখে আসছি?

তিনি বলেন, “ঝগড়া দিয়ে সমাধান হবে না। কিছু মানুষের অন্যরকম স্বার্থ জড়িত। যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান। তবে এই মেয়রের আমলে তা হবে না। আমি কারো প্রতিপক্ষ নই।”

বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটে আগুনের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার গুলশান ২-এর গুলশান সেন্টার পয়েন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন। এসময় মার্কেটের দুটি ব্যবসায়ী সমিতির নেতাও যোগ দেন। তবে পাকা মার্কেট সমিতির সভাপতি তালাল মোহাম্মদকে কথা বলতে দিলেও কাচা মার্কেট সমিতির চেয়ারম্যান শের মোহাম্মদকে কোন কথা বলতে দেননি আনিসুল হক।

এই শের মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী দোকান বরাদ্ধ ও দখলের বড় অভিযোগ রয়েছে মার্কেটটিতে। তার বিরুদ্ধে দখল ও সিটি করপোরেশনের নির্দেশকে অমান্য করার ফিরিস্তিও তুলে ধরেন ঢাকা উত্তরের এই নগরপিতা।

মেয়র বলেন, “আগুন লাগার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ডিএনসিসি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে। তবে এই ঘটনায় কারো কারো ডিএনসিসিকে নিয়ে মন্তব্য অস্পষ্ঠতা তৈরি করেছে। তবে কোনো বিরোধিতা নয়। ঝগড়া করতে আমি সংবাদ সম্মেলনে আসিনি। বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করছি। যা বলব, সব তথ্য দিয়ে বলব।”

আনিসুল হক বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তাকে সব জানিয়ে এসেছি। মার্কেটের পুরো বিষয় বুঝিয়ে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, যা হবে আইন মোতাবেক। তবে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হন সেটিও তিনি বলেছেন। আমিও ব্যবসায়ী।”

আনিসুল হক বলেন, “ডিএনসিসি মার্কেটে দুটি অংশ। একটি কাচা। আরেকটি পাকা। পাকা মার্কেটে কোনো অভিযোগ নেই। তবে কাচা মার্কেটে অবৈধ দোকান গড়ে ওঠেছে। ২০০১ সালে কাচা মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। আমরা বরাদ্ধ বাতিল করি। ব্যবসায়ীদের লোড কমাতে বলি। আমরা সাইন বোর্ড দিয়ে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলি। কিন্তু তারা সরেন না। তাদের সরানো যাচ্ছে না।”

আনিসুল হক বলেন, “মামলা করে সব আটকে দেয়া হয়। আমরা সেখানে বহুতল ভবন করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছি, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। নির্মার্তা প্রতিষ্ঠান মেট্রো গ্রুপকে বলা হয়েছে, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে। কিন্তু তারপরও গত অক্টোবর মাসে মামলা করে প্রক্রিয়া আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের দেশে কিছু হলে সব কিছু আটকে দেয়া হয় মামলা করে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, “এখন এখানে কি করা হবে ভাবিনি। তবে আমি ব্যবসায়ীদের ডেকেছি। সবাইকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।”

গুলশান-২ নম্বরসহ ঢাকা উত্তরের ৭টি মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানান মেয়র। বলেন, কিন্তু ব্যবসায়ীদের সরানো যাচেছ না। সরাতে গেলে চোখে পানি আসে। সমালোচনও হয়। তাদের পুনর্বাসন করাটাও জরুরি। কিন্তু জায়গার অভাবে সেটিও করা যায় না।”

সংবাদ সম্মেলনে গুলশান-২ নম্বর ডিএসসিসি মার্কেটের অবৈধ দখলের পুরো ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এর পক্ষে তথ্য উপাত্ত্বও সাংবাদিকদের কাছে হাজির করেন। অস্থায়ীভাবে দোকান বরাদ্ধ নিয়ে একটি মহল এসব করেছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি। তবে কারো নাম প্রকাশ করতে চাননি।”

ঘটনার পর আনিসুল হক মাত্র ৫ মিনিটের জন্য ঘটনাস্থলে আসেন এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে বলেন, “আমি পরের দিন ৩ বার গিয়েছি। কিন্তু কেউ কেউ না জেনে এসব বলেছেন। যারা এসব বলেছেন, তারা ভুল বলেছেন।”

আগুন নেভানোর ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে থাকলেও গঠিত তদন্ত কমিটিতে কেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাকে প্রধান করা হয়েছে প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, “এটাই নিয়ম। তবে আমি তদন্ত কমিটিতে বাজার প্রতিনিধিদের রাখতে বলবো।”


নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য